শাবিতে রক্তিম হস্তছাপ আকঁলো শিক্ষার্থীরা
শাবি প্রতিনিধি: সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং ১৬ই জানুয়ারি পুলিশি হামলার স্থানে রক্তিম হস্তছাপ অঙ্কন করে।
বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান ঘুরে ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি শিক্ষা ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে শিক্ষার্থীরা গত ১৬ জানুয়ারি পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, আন্দোলন-অনশনের সময়ের বিভিন্ন ছবি, প্ল্যাকার্ড এবং পোস্টার নিয়ে অংশগ্রহণ করে। পরবর্তীতে আইআইসিটি ভবনের সামনে ১৬ জানুয়ারি পুলিশের সাথে যেখানে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছিল, সেই স্থানে শিক্ষার্থীরা রক্তিম হস্তছাপ অঙ্কন করে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদিন বলেন, “আমাদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি, আমাদের দাবিগুলোও এখনো পূরণ হয়নি। তাই দাবি আদায়ের জন্য আমরা মিছিল করেছি। মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে ১৬ই জানুয়ারি ক্যাম্পাসের আইআইসিটি ভবনের সম্মুখের যে স্থানে ভিসির নির্দেশে নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ লাঠি, শটগান, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালিয়েছিল সেখানে সমস্ত অন্যায্যতা-নিপীড়ন-জুলুমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যে চিরন্তন লড়াই তার ইশতেহার হিসেবে রক্তিম হস্তছাপ এঁকে আসা হয়।”
এদিকে বন্ধ থাকা আড়াই শতাধিক মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট খুলে দেওয়া ও শিক্ষার্থীদের উপর দায়েরকৃত ২টি মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ জানুয়ারি প্রভোস্ট বিরোধী আন্দোলনের সময় অবরুদ্ধ ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে মুক্ত করতে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে, এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পুলিশসহ অর্ধশতাধিক আহত হন। হামলার পরপরই প্রভোস্ট বিরোধী আন্দোলন ভিসি বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়, পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক এবং প্রক্টর বডিরও পদত্যাগ দাবি করেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা ১৯ জানুয়ারি থেকে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অনশন শুরু করে এবং ১৬৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর ২৬ জানুয়ারি অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান এবং সব দাবি মেনে নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক আমিনা পারভীনকে নতুন ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
Related News
কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচা নিয়ে টর্চ জ্বালিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচার দেনাপাওনা নিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেRead More
বিশ্বনাথে স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কছির আলী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকেRead More



Comments are Closed