Main Menu

কমলগঞ্জে পানি সংকটে ৬শ’ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত

Manual7 Ad Code

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌসুমের শেষ সময়েও নদীতে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের প্রায় ৬শ’ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। লাঘাটা নদীর উজানে আলীনগর ইউনিয়নের চিতলীয়া এলাকায় ক্রসবাঁধ দিয়ে অন্যত্র পানি নেয়ার কারণে নিন্মাঞ্চলে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কৃষকের তৈরি বীজতলা বিনষ্ট হচ্ছে। ফলে মৌলভীবাজারের কৃষি অধ্যূষিত কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ও পতনউষার ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের প্রায় পাঁচশ’ কৃষক বোরো চাষাবাদ করতে না পারায় হতাশ হয়ে পড়ছেন।

Manual2 Ad Code

কৃষকদের অভিযোগে জানা যায়, বোরো মৌসুমের শেষ সময়েও উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের কেছুলুটি, ভাদাইর দেউল, সতিঝির গ্রাম, মরাজানের পার, মুন্সীবাজার ইউনিয়নের রামপুর এবং পতনউষার ইউনিয়নের ধূপাটিলা গ্রামে বিস্তীর্ণ জমি খাঁ খাঁ করছে। অন্যান্য বছরের এই সময়ে কৃষকরা চারা রোপন করলেও এবছর এখনও জমিতে পানির দেখা নেই। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কিছু স্থানে মেশিনের মাধ্যমে নদী থেকে সেচ দিয়ে কৃষকরা চাষবাস করছেন। তবে সতিঝিরগ্রামে লাঘাটা নদীর ¯øুইচগেট আটকানোর পরও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এতে জমি তৈরি করাও সম্ভব হচ্ছে না। অনেকের তৈরি বীজতলাও বিনষ্ট হতে চলেছে। ফলে এই ছয় গ্রামের প্রায় পাঁচ থেকে সাতশ’ একর বোরো জমি অনাবাদি রয়েছে। অধিকাংশ কৃষকরা জমি তৈরি করতে না পারায় তারা হতাশ হয়ে পড়ছেন।

ধূপাটিলা গ্রামের কৃষক ফারুক মিয়া, তাহিদ আলী বলেন, “এবার নদীর নিচে পানি থাকায় বোরো ক্ষেত হইতো নায়। আমরার হালির চারা নষ্ট হই যার। এখন আর কোনদিন ক্ষেত করতাম। এখন কিতা করমু বুঝতাম পাররাম না। অনেক ক্ষতি অই যাইবো।”

Manual7 Ad Code

কেছুলুটি গ্রামের ছুফি মিয়া, ধূপাটিলা গ্রামের মানিক মিয়া, আক্তার মিয়া, রামপুর গ্রামের মো. শাহাজানসহ কৃষকরা বলেন, অন্যান্য বছরের এই সময়ে আমরা জমিতে চারা রোপন করে ফেলতাম। এবছর এখনও পানি না থাকায় জমিও তৈরি করা যাচ্ছে না। রোপনের সময়টুকুও চলে হচ্ছে। জমিতে ধানের সবগুলো চারাও নষ্ট হচ্ছে। আর কবে পানি পাওয়া যাবে এবং ক্ষেত হবে তা নিয়ে চিন্তায় আমাদের দিন কাটছে। তবে মৌসুম চলে যাওয়ার সময় হলেও কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এসব বিষয় নিয়ে কেউ মাথা ঘামাচ্ছেনা না বলে তারা অভিযোগ তুলেছেন।

Manual4 Ad Code

সমাজকর্মী ও কৃষক দুরুদ আলী, লাঘাটাছড়া পাবসস লি: এর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, লাঘাটা নদীর সতিঝিরগ্রামে স্লুইসগেট আটকানোর একমাস হয়ে গেলেও চাহিদা অনুযায়ী পানি পাওয়া যাচ্ছে না। উজানে চিতলীয়া এলাকায় ক্রস বাঁধ দিয়ে পানি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ায় আমরা চাষাবাদ উপযোগী পানির সুবিধা পাচ্ছি না। ফলে প্রায় ৫শ’ হেক্টর এলাকায় চাষাবাদ সম্ভব হচ্ছে না। তারা আরও বলেন, এসব বিষয়ে দু’দফা আমরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। তারপরও পানির কোন ব্যবস্থা হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জনি খান বলেন, উজানের বাঁধের বিষয়টি তদন্তক্রমে পানির ব্যবস্থা করা হবে।

Manual5 Ad Code

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, নদীতে পানি সমস্যার বিষয়টি এই প্রথম শুনলাম। কৃষি কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে কৃষকদের চাষাবাদের ব্যবস্থা করা হবে।

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code