শাবির উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থিরা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১৬ আনুয়ার) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, সকল বিভাগের প্রধান, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনার পরিচালক এবং প্রক্টর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন। এ সময় তারা ছাত্রীদের দাবী মেনে নিয়েছেন এবং এক সপ্তাহের সময় চেয়েছেন কিন্তু আন্দোলনকারীরা তা না মানায় শিক্ষকররা ওই স্থান ত্যাগ করেন।
এরপর আন্দোলনকারীরা শিক্ষকদের পেছন পেছন স্লোগান দিয়ে চেতনা ৭১ এর সামনে থেকে উপাচার্য ভবনের দিকে এগিয়ে আসেন। এ সময় উপাচার্য কার্যালয় থেকে নামলে তারা উপাচার্যের পথ অবরোধ করে ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে শিক্ষকদের সহায়তায় উপাচার্যকে আইসিটি ভবনের দিকে নিয়ে যাবার সময় আন্দোলনকারীদের হামলার শিকার হয় উপাচার্যসহ কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষক ও সংবাদকর্মীরা।
বর্তমানে উপাচার্য আইসিটি ভবনে অবস্থান করছেন এবং আন্দোলনকারীরা ওই ভবনের সদর দরজায় তালা মেরে রেখেছেন। সেই সঙ্গে কাউকেই ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
এর আগে শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী ছাত্রী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগের দাবিসহ তিন দফা দাবি আদায় এবং ছাত্রীদের চলমান আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগে রোববার (১৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে রাস্তা অবরোধ করে রেখেছিল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় ক্যাম্পাসে বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. আজবাহার আলী শেখ।
এদিকে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি মেনে না নেওয়ার আগ পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনও করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
আজও চতুর্থবারের মতো আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। সকালে তারা ক্যাম্পাসের গোল চত্বরে জড়ো হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। এ সময় ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষকদের পরিবহন প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভ করছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের আবাসিক ছাত্রীরা। দফায় দফায় তাদের এই আন্দোলন চলছে। তাদের সঙ্গে আরও শিক্ষার্থী একাত্মতা পোষণ করে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছেন।
শনিবার (১৫ জানুয়ারি) আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপরে রাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
আন্দোলনরত সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, হলের প্রভোস্টের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পর শনিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিক্ষার্থীরা ফের আন্দোলনে নামে। এ সময় তারা ক্যাম্পাসের গোলচত্বর এলাকায় অবস্থান নেন। আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে কিছু সংখ্যক ছাত্রও এসে কর্মসূচিতে যোগ দেন। এই অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্স শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভস্থলে আটকা পড়ে। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা এসে আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।
শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যাম্পাসের গোল চত্বরে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ এবং প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. আলমগীর কবির এসময় উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। ছাত্রলীগ নেতা আশরাফ কামাল আরিফসহ কয়েকজন জানিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্সকে পথ করে দিতে গেলে তারা (আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা) বাধা দেয়। তখন এ নিয়ে আমাদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়।
এর আগে, শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) তিন দফা দাবিতে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। হল প্রভোস্টের পদত্যাগ, হলের ভেতরের অব্যবস্থাপনা দূর করা ও অবিলম্বে ছাত্রীবান্ধব হল প্রভোস্ট নিয়োগের দাবিতে তারা এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
এদিন দুপুরের পর থেকে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন শাবিপ্রবির নারী শিক্ষার্থীরা।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রীহলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও হল প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক জাফরিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন তারা।
বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ করলেও হল প্রভোস্টসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের কোনো দাবি-দাওয়া আমলে নেয়নি। শিক্ষার্থীদের নিয়ে তারা বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ করছেন না।
সবশেষ জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ তালুকদারসহ অন্যান্যরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
Related News
গোলাপগঞ্জে ট্রাক শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা ট্রাক শ্রমিক উপ-কমিটির শ্রমিকরা অবৈধ ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি বন্ধের দাবিতেRead More
সেপ্টেম্বর মাসে সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২৬ জনের
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আগস্ট মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসে সিলেট বিভাগে সড়ক দূর্ঘটনায় প্রানহানি কমেছে। সেপ্টেম্বরRead More



Comments are Closed