Main Menu

কানাইঘাটে বোমা বিস্ফোরনে আহত শিশুর অবস্থা সংকটাপন্ন

Manual4 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কানাইঘাটে বোমা বিস্ফোরনে আহত শিশু সুলতান (১০) এখন গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৩য় তলার ৮নং-ওয়ার্ডের ৩নং-বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বোমার আঘাতে তার ডান হাতের একটি আঙ্গুলের অর্ধেকাংশ পুড়ে গেছে। বাকি ৪টি আঙ্গুলও স্প্রিন্টারের আঘাতে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেছে। বাম হাতের অবস্থা আরও নাজুক। বাম চোখ অস্ত্রপাচার করে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে ১৭টি স্প্রিন্টার বের করেছেন চিকিৎসকরা।

Manual7 Ad Code

এদিকে ঘটনার পর থেকে এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার পর ১০দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তার কোন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে পারেনি কানাইঘাট থানা পুলিশ। শংকায় রয়েছেন শিশু সুলতানের পরিবারও।

জানা গেছে, উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের ফতেহগঞ্জ গ্রামের প্রবাসী ফরিদ উদ্দীনের বসতঘরে গত ১ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু সুলতান বোমার আঘাতে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

Manual6 Ad Code

পরে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সরেজমিন ছুটে গেলেও কোন আলামত জব্দ না করেই চলে আসে। তবে ঘটনাস্থলে পৌছে পুলিশ ভিডিও ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগির পরিবার।

এদিকে আহত সুলতানের বড় ভাই মাহমুদ হাসান জানান, একই গ্রামের আমিন উদ্দীনের স্ত্রী সাফিয়া বেগমদের সাথে তাদের জমিসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। ঘটনার দিন সকালে আত্মীয়তার সুযোগে সাফিয়া বেগম (৪৫) ও এক মাদ্রাসা ছাত্র সাজু আহমেদ (১৮) তাদের বাসায় আসেন। অল্পক্ষণ বসে আবার চলে যান। এরপর একটি মামলার হাজিরার জন্য ওই শিশু সন্তানকে সাথে নিয়ে ঘর তালা দিয়ে সিলেট আদালতে চলে আসেন প্রবাসীর স্ত্রী সুফিয়া বেগম। ওইদিন সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরলে পাশের একরুমে তিনি পরিবারের কিছু কাজকর্ম করছিলেন। একপর্যায়ে পাশের রুমে বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দে বাড়িঘর কেঁপে উঠে। এসময় তিনি এগিয়ে গেলে তার শিশু সন্তানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। তখন আশপাশের লোকজনও ভয়ে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছিলেন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহত শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন। কিন্তু ঘটনার ১০টি পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি। যদিও উক্ত ঘটনায় অজ্ঞাত আসামী করে একটি অভিযোগ থানায় দাখিল করেছেন ওই সন্তানের মা সুফিয়া বেগম।

Manual6 Ad Code

উল্লেখ্য, তার বড় দুই পুত্র সিলেট নগরীতে বসবাস করায় প্রায় সময়ই বাড়ি ফাঁকা থাকতো। সেই সুযোগে দুর্বৃত্তরা তাদের ক্ষতি করতে উঠেপড়ে লেগেছে। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীণতায় ভূগছেন।

এদিকে এই ঘটনার সাথে একই গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে রাসেল রবিকেও জড়িত থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে। কেননা কিছুদিন আগে উক্ত রাসেল শিশুর মাকে হুমকি-ধামকি দিয়েছিলেন।

এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার এসআই মজম্মিলের সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনা ঘটেছে সত্য তবে তাৎক্ষণিকভাবে বাদিনী আমাদের কোন তথ্য দিতে পারেননি। এছাড়া বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় তদন্তকাজে বিলম্ব হচ্ছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দু-একদিনের ভেতরেই আলামত সংগ্রহ করা হবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সাথে যে বা যারা জড়িত থাকবে তাদের অবশ্যই খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

Manual3 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code