বাবু জাতের পেঁপের চাষ করে সফল লিটন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মাত্র একবিঘা জমিতে ঘন সবুজ পাতার মাঝে সারি, সারি গাছে ঝুলছে অসংখ্য পেঁপে। দেখে নয়ন জুড়িয়ে যায়। এর নাম বাবু। এটি লালতীর সীড কোম্পানীর উচ্চফলনশীল একটি জাত।
প্রথমবারের মতো শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের খোয়াজপুর গ্রামের কৃষক আলী হোসেন লিটন তার এক বিঘা জমিতে লালতীর এর হাইব্রিড, বাবু জাতের এ পেঁপে চাষ করেন। অল্প সময়ে ছোট ছোট গাছে এমন ফলন পেয়ে আনন্দে আত্মহারা কৃষক লিটন।
গত মঙ্গলবার সরোজমিনে, গিয়ে দেখা যায়, মাঠ জুড়ে সারি সারি পেঁপে গাছ। গাছগুলো তেমন বড় হয়নি। এরই মধ্যেই বড় বড় আকারের প্রচুর পরিমানে পেঁপে ধরেছে। কৃষক আলী হোসেন লিটন পেঁপে পাড়ছেন এবং হলুদ হয়ে যাওয়া পাতাগুলো পরিস্কার করছেন।
এ সময় মাঠেই কথা হয় সফল কৃষক আলী হোসেন লিটনের সঙ্গে, তিনি জানান, এই বছরে প্রথমবার্রে মতো মাত্র এক বিঘা জমিতে লালতীরের হাইব্রিড বাবু পেঁপে চাষ করেন।
প্রথমবার তাই অল্প জায়গায় করেছেন। এখন ফলন আসা শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই প্রায় বারোশো কেজির মতো কাঁচা পেঁপে বিক্রি করেছেন। যার বাজার দর পেয়েছেন কেজি প্রতি ২১ টাকা করে, এতে তার বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ হাজার টাকার উপরে।
তিনি জানান, তাঁর এক বিঘা জমিতে, পেঁপে চাষ করতে খরচ হয়েছে আট হাজার টাকার মতো।
এ সময় বাজারে সবজির অনেকটাই সংকট থাকে তাই, স্থানীয় বাজারে পেঁপের চাহিদাও ভালো। এরকম উৎপাদন অব্যাহত থাকলে তিনি আরো দেড় থেকে দুই লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী।
এ বিষয়ে কথা হয় লালতীর হাইব্রিড বাবু পেঁপে বীজ এর বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান লালতীর এর বিভাগীয় ব্যবস্থাপক তাপস চক্রবর্তীর সাথে। তিনি জানান, লালতীর হাইব্রিড বাবু অধিক ফলনশীল ও আকর্ষণীয়। এদেশের আবহাওয়া এবং জলবায়ুতে এটি সহনশীল।
এটি তাদের নিজস্ব উদ্ভাবিত একটি জাত। তিনি জানান, পেঁপে একটি অধিক পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি ও ফল। এর শাঁস আকর্ষণীয় হলুদ রং এর হয়। খেতে সুস্বাদু ও ফলের মিষ্টতার পরিমাণ শতকরা ১৩ থেকে ১৪ ভাগ। এটি কাঁচা এবং পাকা দুই অবস্থায় বাজারজাত করা যায়। যে কারণে কৃষকদের জন্যে এটি অনেকটাই আর্থিকভাবে লাভজনক। স্থানীয় আবহাওয়াতে বাংলাদেশের সর্বত্রই এটি চাষ উপযোগী।
তিনি জানান, কৃষক আলী হোসেন লিটনের জমি নিয়মিত পরিদর্শন করেছেন এবং উপজেলা কৃষি বিভাগের পাশাপাশি তারাও সব সময় তাকে পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মুনালিসা সুইটি জানান, লালতীরের হাইব্রীড পেঁপে বাবুর ফলন খুব ভালো হয়েছে। এটি চাষ করে কৃষক আলী হোসেন লিটন বেশ লাভবান হয়েছেন। ইতিমধ্যে তার উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক বেশি তিনি আয় করেছেন। বিশেষ করে এর ভালো ফলনে কৃষক উৎসাহিত হয়েছেন। তিনি জানান, কৃষক লিটনের মতো অন্যান্য কৃষকরাও তাদের অনেক অনাবাদি, খালি পড়ে থাকা জমিতে পেঁপে চাষ করে লাভবান হতে পারেন। এটিতে একদিকে যেমন পুষ্টিগুন আছে অন্যদিকে সবজী ও ফলের চাহিদা পুরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও কৃষকরা লাভবান হতে পারেন।
হাইব্রিড বাবু উৎপাদনে, প্রতি শতাংশে বীজের পরিমাণ লাগে ০.৩৫ গ্রাম একর প্রতি বীজের পরিমাণ ৩০ থেকে ৩৫ গ্রাম। এই জাতটি হলুদ মোজাইক ভাইরাস রোগ সহনশীল।
Related News
পরিত্যক্ত জমিতে লাউ চাষে সাফল্য, বিষমুক্ত সবজিতে হাসি ফুটেছে কৃষক ফারুকের মুখে
আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে বাড়ির সামনে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত জমিতে উচ্চফলনশীল লাউRead More
নড়াইলের পাট চাষিরা দাম নিয়ে দুঃচিন্তায়
নড়াইল সংবাদদাতা: নড়াইলের গ্রামীণ জনপদে পাট কাটা,পচানো এবং ধোঁয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পাট চাষিরা।অনেকেRead More



Comments are Closed