Main Menu

সিলেটে সীমিত লকডাউন শুরু, বন্ধ মার্কেট-গণপরিবহন

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: করোনা পরিস্থিতিতে সোমবার (২৮ জুন) সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে তিনদিনের সীমিত বিধিনিষেধ (লকডাউন)। আগামী বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ থাকবে। এ সময়ে পণ্যবাহী যান ও রিকশা ছাড়া গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে সরকারি-বেসরকারি অফিস। বন্ধ থাকবে শপিংমল, মার্কেট, বিনোদন কেন্দ্র। খোলা থাকলেও হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া যাবে না।

সোমবার সকাল থেকেই সিলেট নগরীর উপশহর, টিলাগড়, মেজরটিলা, কুমারপাড়া, মীরবক্সটুলা, মদিনা মার্কেট, কদমতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট খোলা রাখতে দেখা যায়।

তবে করোনা পরিস্থিতিতে এদিন সিলেটের রাস্তায় গণপরিবহন চলাচল করতে দেখা না গেলেও বন্দরবাজার, মদিনা মার্কেট, আখালিয়া এলাকায় লেগুনা ও সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে।

এদিন সিলেট থেকে কোন দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। এমনকি সিলেটের অভ্যন্তরেও কোন বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি। বন্ধ রয়েছে সিসিকের টাউন বাসও। তবে সিএনজি অটোরিশা চলতে দেখা গেছে।

এদিকে সোমবার সকালে পরিবহনের অভাবে সিলেটের বিভিন্ন পয়েন্টে অফিসগামী যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার হতে দেখা গেছে। অনেকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকেছেন যানবাহনের অপেক্ষায়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণে আগের বিধিনিষেধের সাথে আরো কিছু নতুন শর্ত যোগ করে এই লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। রোববার (২৭ জুন) এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সারাদেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও সংক্রমণ হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার সারাদেশে ১৪ দিনের পূর্ণ শাটডাউন দেয়ার সুপারিশ করে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে বিধিনিষেধ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। যদিও এর আগে থেকে বিধিনিষেধ জারি ছিল, যেটির মেয়াদ রয়েছে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত।

সোমবার (২৮ জুন) থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনের সীমিত লকডাউন। বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত এই লকডাউন চলবে। তবে সেদিন থেকে সর্বাত্মক লকডাউন দেয়া হবে বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এর আগে, জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ১৪ দিনের সম্পূর্ণ ‘শাট ডাউন’দেয়ার সুপারিশ করেছিল। তিন দিনের এই লকডাউনের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, গণপরিবহন বন্ধ থাকবে, সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে সরকারি ও বেসরকারি অফিস। এই সময় মার্কেট, শপিং-মল, বিনোদন কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। হোটেল রেস্তোরাঁ খোলা থাকলেও সেখানে বসে খাওয়া যাবে না।

লকডাউনে যা করা যাবে, যা করা যাবে না : নতুন যেসব বিধি-নিষেধের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে সারা দেশে পণ্যবাহী যানবাহন ও রিকশা ছাড়া সব ধরণের গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহলের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করবেন।

দ্বিতীয়ত, সব ধরণের মার্কেট, শপিং-মল, পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

তৃতীয়ত, খাবারের দোকান, হোটেল রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শুধু খাবার বিক্রি (অনলাইন/টেকওয়ে) করতে পারবে।

চতুর্থত, সরকারি-বেসরকারি অফিস বা প্রতিষ্ঠানে শুধু প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিশ্চিত করতে নিজ নিজ অফিসের ব্যবস্থাপনায় তাদের আনা-নেয়া করতে হবে।

পঞ্চমত, জনসাধারণকে মাস্ক পরার জন্য আরো প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

Share





Related News

Comments are Closed