Main Menu

ভাতা না পেয়ে অর্থকষ্টে ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থীরা

Manual5 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: করোনা মহামারির কারণে স্বশরীরে উপস্থিত না হয়ে অনলাইনে ক্লাস করতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থব্যয় করে বিপাকে পড়েছেন ডিপ্লোমা-ইন-প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সিলেট পিটিআইয়ের প্রশিক্ষণার্থীরা।

এর মধ্যে ৬ মাসের ভাতা পরিশোধ না করায় আর্থিক সংকটে পড়েছেন ডিপিএড প্রশিক্ষণরত প্রাথমিকের হাজারো শিক্ষক। পরিবার পরিজন নিয়ে আসন্ন ঈদুল আযহা ভালোভাবে উদযাপন করতে ভাতা সংক্রান্ত সৃষ্ট সমস্যা নিরসনকল্পে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন সিলেট পিটিআইতে প্রশিক্ষণরত ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৫ জুন) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে ডিপ্লোমা-ইন-প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সিলেট পিটিআইয়ের সকল প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

Manual5 Ad Code

লিখিত বক্তব্যে সিলেট পিটিআইয়ের ডিপিএড ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের প্রশিক্ষণার্থী ৬৭টি পিটিআই বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুল মালিক মামুন জানান, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত সিলেট পিটিআইতে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে আমরা ডিপিএড ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের প্রশিক্ষণার্থীরা ক্লাসে অংশগ্রহণ করি। কিন্তু ১৭ মার্চ থেকে করোনা মহামারীর কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ২০২০ সালের ২১ এপ্রিল থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘ঘরে বসে ডিপিএড অনুশীলন কার্যক্রম’ এ আমরা অংশগ্রহণ করি।

Manual8 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও উল্লেখ করেন নেপ কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপন যার স্মারক নং-৩৮.৪১৮.০০০০.০৪.২০১০.১২৫২ নির্দেশনা মোতাবেক আমরা অনলাইনে ক্লাস করার জন্য প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস (হাই পারফরমেন্স ল্যাপটপ/ অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল) ক্রয় করি এবং নিরবিচ্ছিন্ন অনলাইন ভিডিও ক্লাস করার জন্য অধিক খরচে বাড়িতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করি। আবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ক্লাস চালু রাখার জন্য উচ্চমূল্যের মাসিক মোবাইল ডাটা প্যাকেজও ক্রয় করি। সব মিলিয়ে আমাদের অনলাইন ক্লাস করা বাবদ আয়ের অধিক ব্যয় করতে হয়েছে। এই ব্যয়ের বেশির ভাগই লোন করে করতে হয়েছে। যা আমাদের মাসিক বা সাপ্তাহিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হচ্ছে। উক্ত লোন পরিশোধ করতে গিয়ে সংসার চালাতে প্রতিনিয়ত আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনলাইন ভিডিও ক্লাস করতে এত অধিক পরিমাণ খরচ হবে তা আমাদের ধারণার বাইরে ছিলো।

মামুন বলেন, এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে আমাদের প্রচুর পরিমাণে ডাটা ব্যয় হয়েছে। তাছাড়া ইনকোর্স মূল্যায়নের যাবতীয় লেখালেখি সম্পন্ন করার জন্য ও হোস্টেলের সংস্থাপন বিল পরিশোধ করা এবং চুড়ান্ত পরীক্ষায় স্বশরীরে অংশগ্রহণ করার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বাসা ভাড়া নিতে হয়েছে। নেপের নির্দেশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আমরা ১ম টার্ম, ২য় টার্ম এবং ৩য় টার্ম করোনা মহামারির মধ্যে স্বশরীরে পিটিআইতে উপস্থিত হয়ে লিখিত পরিক্ষায়ও অংশগ্রহণ করেছি। এখন আমাদের ৪র্থ টার্মও চলমান।

Manual2 Ad Code

গত বছরের ২২ জুন নেপের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন যার স্মারক নং ৩৮.৪১৮.০০.০০.০০৪. ২০১০.১২৬৫ এর ৫নং শর্তে বলা হয়েছে “মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত প্রশিক্ষণ ভাতা থেকে ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থীগণ অনলাইন শ্রেনিকার্যক্রমে সংযুক্ত থাকার ইন্টারনেট ব্যয় নির্বাহ করবে’। গত ১ জানুয়ারি ২০২০ থেকে ৩০ শে জুন ২০২০ পর্যন্ত ৬ মাসের ভাতা দেশের অন্যান্য পিটিআই এর মতো আমরাও পেয়েছি। কিন্তু ১ জুলাই ২০২০ থেকে ৩১ শে ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত ৬ মাসের ভাতা আমরা এখনো হাতে পাইনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা-এর অতিরিক্ত খরচসহ সংসার চালানোর ব্যয় বহন করা আমাদের পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই প্রশিক্ষণ ভাতার অর্থ দ্রুত পাওয়া একান্ত প্রয়োজন। যে কারণে উক্ত ভাতা সংক্রান্ত সৃষ্ট সমস্যা নিরসনকল্পে সংশ্লিষ্টরা যাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন সেই দাবি সকল ডিপিএড প্রশিক্ষণরত প্রাথমিক শিক্ষকদের। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন।

Manual2 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- ডিপিএড ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সিলেট পিটিআইয়ের প্রশিক্ষণরত রাসেল আহমদ, আবুল আজাদ, মোহাম্মদ জাহেদ ইকবাল, লিজা বেগম, বিনয় পন্ডিত, নাহিদা সরকার, জয়ন্ত তালুকদার, তৃপ্তি বিশ্বাস পম্পী, সৌরভ রায়, নাঈমা সরকার মিতু ও ফৌজিয়া বেগম চৌধুরী প্রমুখ।

 

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code