Main Menu

বিশ্বনাথে সুমেলের মৃত্যুর খবর এখনো জানেনা গুলিবিদ্ধ বাবা

মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ থেকে : সিলেটের বিশ্বনাথে সুমেল হত্যাকাণ্ডের এক মাস পেরিয়ে গেলেও ছেলের মৃত্যুর খবর এখনও জানেন না গুলিবিদ্ধ বাবা। তবু ও থামছে না মায়ের বিলাপ। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা তিনি। ছেলের মুখ চোখে ভাসলেই কেঁদে ওঠছেন মা। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে জীবন ফিরে পেলেও বাকশক্তি হারিয়েছেন স্বামী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গেল ১ মে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের চৈতননগর গ্রামে ধানি জমি থেকে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ সাইফুল আলম ওরফে লন্ডনী সাইফুল বাহিনীর সাথে সংঘর্ষকালে গুলিবিদ্ধ হন মানিক মিয়া ও তার স্কুলপড়ুয়া ছেলে সুমেল আহমদ (১৮)। সাইফুলের গুলিতে মাটিকে লুটিয়ে পড়েন সুমেল। নিজে গুলিবিদ্ধ হয়েও ছেলেকে কোলে নিয়ে বাড়ির দিকে ছুটেন মানিক মিয়া। খবর পেয়ে এগিয়ে যান সুমেলের মা খয়রুন নেছা। চিৎকার দিয়ে ছেলের নিথর দেহ জড়িয়ে ধরেন বুকে।

এক পর্যায়ে সুমল ও তার পিতাকে সিলেট ওসমানী কলেজ হাসপাতালে নিলে সুমেলকে মৃত্যু ঘোষণা করেন ডাক্তার। সেখানে কয়দিন চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয় মানিক মিয়াকে।

সরেজমিন নিহত সুমেলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মাথায় গুলি নিয়ে দুর্বিষহ সময় পার করছেন সুমেলের পিতা মানিক মিয়া। চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা স্বাভাবিক হলেও মস্তিস্কের গুলি বের করা যায়নি তার। কিছুক্ষণ পর পর মাথায় ঢালতে হয় পানি। মস্তিস্কে গুলির যন্ত্রণা কেড়ে নিয়েছে বাকশক্তিও। সংবাদকর্মীদের দেখে শিশুর মতো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন তিনি।

সুমেলের মা খয়রুন নেছা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ছেলে নিহতের খবর এখনও আমার স্বামীকে জানানো হয়নি। তিনি জানেন, ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। অথচ আমার বুকের মানিককে চিরতরে কেড়ে নিয়েছে খুনি সাইফুল। ছেলেটাই ছিল আমার একমাত্র ভরসা। তাকে নিয়ে কতো স্বপ্ন দেখেছি। সেই স্বপ্ন নিমিষেই শেষ হয়ে গেল। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। খুনি সাইফুলের ফাঁসি চাই।

Share





Related News

Comments are Closed