Main Menu

বালুচরে গ্যাস লাইন স্থাপনে অনিয়মের অভিযোগ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ‘সিলেট সদর উপজেলার বালুচর এলাকায় প্রায় অর্ধকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গ্যাসের ভূগর্ভস্থ লাইনের ওপর গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। এসব স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কের জন্য গ্যাসের সঞ্চালন নকশা বহির্ভূতভাবে অবৈধ স্থাপনার পাশ দিয়ে নতুন করে গ্যাস লাইন স্থাপন করা হচ্ছে। গ্যাস লাইনের উপরে অবৈধভাবে রেস্টুরেন্ট পর্যন্ত গড়ে তোলা হয়েছে বালুচর এলাকায়। গ্যাস লাইন কোনো সময় লিকেজ বা দুর্ঘটনা ঘটলে এসব রেস্টুরেন্টের আগুন থেকে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। অবৈধ দখলদারদের বাঁচাতে গ্যাসের নিজস্ব ভূমির মাঝ বরাবর নকশা অনুযায়ী কাজ না হওয়ার প্রতিবাদ করায় প্রভাবশালী দখলবাজরা এখন আমাকে হুমকি দিচ্ছে।’

বুধবার (৫ মে) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে শহরতলির বালুচরের জোনাকী আবাসিক এলাকার মৃত সাহেব আলীর ছেলে মো. জালাল উদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ বার বার নোটিশ দিলেও অবৈধ দখলদাররা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করছে না। এলাকার লোকজন দফায় দফায় সরকারের বিভিন্ন অধিদপ্তরে অভিযোগ করেও এর কোনো সুরাহা হয়নি। স্থানীয় প্রভাবশালীদের কবল থেকে গ্যাস কর্তৃপক্ষের ভূমি দখলমুক্ত না করলে লিকেজ কিংবা অন্য কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কের জন্য হরিপুর থেকে কুমারগাঁও পর্যন্ত গ্যাস লাইন স্থাপনের কাজ চলছে। নিয়ম অনুযায়ী জালালাবাদ গ্যাসের অধিগ্রহণকৃত হরিপুর থেকে কুমারগাঁও পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের এবং ২০ ফুট প্রশস্তের ভূমির মধ্যবর্তী স্থানে পাইপলাইন স্থাপনের কথা। কিন্তু বালুচর এলাকায় পাইপলাইন স্থাপন করা হলেও উচ্ছেদ করা হয়নি অবৈধ স্থাপনা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিশেষ করে বালুচর বাজারে অবৈধ দখলদারদের রক্ষা করতে গ্যাস কর্তৃপক্ষ মূল পাইপের এক দিকে অন্য আরেকটি পাইপ স্থাপন করছে। যা নকশা বহির্ভূত। বাজার এলাকায় এসে মধ্যবর্তী পাইপ থেকে ৭/৮ ফুট সরিয়ে আরেকটি পাইপ স্থাপন করা হচ্ছে। এতে রক্ষা পেয়ে যাচ্ছে বালুচর বাজারে অবৈধভাবে জালালাবাদ গ্যাসের ভূমিতে গড়ে ওঠা স্থাপনা।

তিনি আরো বলেন, বালুচর নয়াবাজারের নিচ দিয়ে যাওয়া ভূগর্ভস্থ গ্যাস সঞ্চালন লাইনের উপরে স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা রয়েছে। প্রতিদিন সহস্রাধিক মানুষ এ বাজারে বিভিন্ন সওদাপাতি কেনাবেচা করে থাকেন। আইনানুযায়ী গ্যাস সঞ্চালন লাইনের উভয়পাশে ১০ ফুট করে ২০ ফুট ভূমির মালিকানা গ্যাস কর্তৃপক্ষের। এ ভূমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা করা নিষিদ্ধ। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করে বালুচর এলাকায় ভূগর্ভস্থ গ্যাস সঞ্চালন লাইনের ওপর দিয়েও অনেক স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। বাজারে গ্যাস লাইনের ওপর স্থাপিত দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত ভাড়াও আদায় করছেন প্রভাবশালীরা।

মো. জালাল উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সিলেটের জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কেস নম্বর ১৭/১৯৮৫-৮৬ এর পরিপ্রেক্ষিতে বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণের নিমিত্ত স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল অধ্যাদেশ, ১৯৮২ এর ১০ ধারা অনুসারে ক্ষতিপূরণ প্রদান সাপেক্ষে সাদিপুর প্রথম খন্ড মৌজায় জেএল ৯৩ এ মোট ১৯টি দাগে ১ একর সাড়ে ১৩ শতক ভূমি অধিগ্রহণ করে জালালাবাদ গ্যাস। পরবর্তীতে অধিগ্রহণকৃত ভূমির মধ্য দিয়ে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ তাদের ভূগর্ভস্থ গ্যাস সঞ্চালন লাইন স্থাপন করে গ্যাস সরবরাহের কার্যক্রম শুরু করে। ধীরে ধীরে প্রভাবশালীরা দখল করতে শুরু করেন জালালাবাদ গ্যাসের অব্যবহৃত ভূমি। এর মধ্যে ৭টি দাগের ওপর গড়ে তোলা হয়েছে বালুচর নয়াবাজার। এর ফলে ঝুঁকি বাড়ছে বালুচরের অধিবাসীদের।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জালালাবাদ গ্যাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা অবৈধ দখলদার প্রভাবশালীদের মদদ দিচ্ছে। বার বার গ্যাস কর্তৃপক্ষ তাদের মালিকানাধীন ভূমি ছাড়তে নোটিশ দিলেও তা আমলে নেয়নি। পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ শুরু হলে জালালাবাদ গ্যাসের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অধিগ্রহণকৃত ভূমির প্রস্থের শেষ অংশ দিয়ে পাইন স্থাপনের অপচেষ্টা শুরু করে অবৈধ দখলদাররা। এতে তারা সফলও হয়। কিন্তু বাধ সাধেন সাধারণ মানুষ। তারা প্রতিবাদী হলে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কাজ বন্ধ করে দেন।

বালুচর নয়াবাজারে জালালাবাদ গ্যাসের মালিনাকাধীন ভূমিতে অবৈধভাবে বাজার গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি ভূমিতে বাজার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি চিহ্নিত ভূমিখেকো চক্র ভাড়া আদায় করছে। তারা গত কয়েকবছরে অর্ধকোটি টাকার মতো ভাড়া বাণিজ্য করেছে। বাজারে গ্যাস কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন ভূমিতে রেস্টুরেন্টসহ কয়েকটি স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। যদি লিকেজ কিংবা অন্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটে তবে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

তিনি বলেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বার বার চিঠি দিলেও এ বিষয়ে কোনো লাভ হয়নি। অসাধু চক্রের সাথে গ্যাস অফিসের লোকজন আঁতাত করে তাদের অবৈধ দখল বজায় রাখতে চেষ্টা করেন। এ সব বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করায় অবৈধ দখলদার ও তাদের লোকজন জালাল উদ্দিনকে গুম করে হত্যা করতে পারে আশঙ্কায় গত ২৯ এপ্রিল শাহপরান থানায় ১৪১৫ নং জিডি করেন। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীসহ সিলেটের পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed