Main Menu

ইন্দোনেশিয়ায় সাবমেরিন ডুবে ৫৩ নাবিকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের কাছে মহড়ার সময় গত বুধবার (২১ এপ্রিল) নিখোঁজ ৪৪ বছরের পুরোনো সাবমেরিনটির ৫৩ জন নাবিকের সবাই মারা গেছেন। দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনার পর ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর প্রকাশ করা এক মর্মস্পর্শী ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ডুবে যাওয়া সাবমেরিনের নাবিকেরা গাইছেন দেশটির একটি হিট গান- যাতে প্রেমিকাকে বিদায় জানানো হচ্ছে।

কয়েক সপ্তাহ আগে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে নাবিকেরা সাম্পাই জুমপা নামে ইন্দোনেশিয়ার একটি হিট গান গাইছেন, যার মানে হচ্ছে ‘আবার দেখা হবে’।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে নাবিকেরা অ্যাকুস্টিক গিটার বাজিয়ে গান গাইছেন, আর তাদের সঙ্গে সাবমেরিনের কমান্ডার হ্যারি অকটাভিয়ানও রয়েছেন।

তাদের গানের কথাগুলো এরকম—“যদিও এখুনি তোমাকে বিদায় জানাতে প্রস্তুত নই আমি, কিন্তু তোমাকে ছাড়া বেঁচেও থাকতে পারবো না। তোমার ভালো/ মঙ্গল হোক।”

ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ডিজাওয়ারা হুইমবো বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তার বিদায়ী সংবর্ধনার জন্য গাওয়া হচ্ছিল গানটি, তখন সেটি রেকর্ড করা হয়েছিল।

গত বুধবার বালি দ্বীপের কাছে মহড়ার সময় ৪৪ বছরের পুরোনো এ সাবমেরিনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় এতে ৫৩ নাবিক ছিলেন। ইন্দোনেশিয়ার অন্তত ৬টি যুদ্ধজাহাজ, ১টি হেলিকপ্টার ও ৪০০ মানুষ নিখোঁজ সাবমেরিনটি অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেন। সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর।

কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে বুধবার ডুবে যাওয়া সাবমেরিন কেআরআই নাঙ্গালার ধ্বংসাবশেষ ২৫ এপ্রিল রবিবার সাগরের তলদেশে পাওয়া গেছে। নিখোঁজ হবার আগে এক টর্পেডো মহড়ায় অংশ নিয়েছিল সাবমেরিনটি এবং এর ডুবে যাওয়ার কারণ এখনো জানা যায়নি।

ব্যাপক তল্লাশির পর নিখোঁজ হওয়ার তিন দিনের মাথায় সাবমেরিনটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। লুব্রিকেন্টের একটি বোতল, টর্পেডোর সুরক্ষার একটি যন্ত্রসহ ধ্বংসাবশেষের ছয়টি টুকরা সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে ইন্দোনেশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে সাবমেরিনটি ডুবে যাওয়ার ঘোষণা দেয় দেশটি।

ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর চিফ অব স্টাফ উইদো মারগোনো জানান, সিঙ্গাপুরের পাঠানো একটি উদ্ধারকারী যান পানির ২ হাজার ৬০০ ফুট নিচে নিখোঁজ সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষের ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছে। এটি তিন টুকরা হয়ে ভেঙে গেছে।

নৌবাহিনী বলছে তারা সাবমেরিনটির ধ্বংসাবশেষ এবং নাবিকদের মরদেহ উদ্ধারের পরিকল্পনা করেছে। এসব ধ্বংসাবশেষ সাগরের ৮০০ মিটারেরও বেশি গভীরে রয়েছে, এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন সাগরের অত নিচ থেকে উদ্ধারকাজ চালাতে বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি প্রয়োজন হবে।

সাবমেরিনটির নোঙর ও নাবিকদের নিরাপত্তা পোশাক উদ্ধার হয়েছে। নাবিকদের প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত টিকে থাকার মতো পর্যাপ্ত অক্সিজেন ছিল সাবমেরিনটিতে। শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটা পর্যন্ত অক্সিজেনের ঘাটতি হওয়ার কথা ছিল না তাঁদের। কিন্তু এ সময়সীমা পার হওয়ায় নাবিকদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দেখছিলেন না কেউ।

ইন্দোনেশিয়ার নৌবহরে পাঁচটি সাবমেরিন ছিল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, সত্তরেরর দশকের দিকে কেআরআই নানগালা-৪০২ সাবমেরিনটি তৈরি হয়েছিল। ২০১২ সালের আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই বছর ধরে এটি মেরামত করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় সাবমেরিন ডুবে যাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।

২৬ এপ্রিল সোমবার নিহত নাবিকদের স্বজনেরা বালির সমুদ্রতীরে এক শোকসভায় মিলিত হন। সেখানে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো সাবমেরিনের নাবিকদের দেশের ‘সেরা দেশপ্রেমিক’ বলে বর্ণনা করে বলেন, নিহত নাবিকদের সন্তানদের পড়াশুনার খরচ সরকার বহন করবে।

জার্মানিতে তৈরি কেআরআই নাঙ্গালা সাবমেরিনটির বয়স ৪০ বছর, কিন্তু নৌবাহিনী বলছে ২০১২ সালে এটিকে সংস্কার করা হয়েছিল।

Share





Related News

Comments are Closed