‘অযোগ্য নেতার কারণে তরুণরা বিপথগামী হয়’
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ‘যোগ্য নেতৃত্ব ও কিছু নেতার অপরিচ্ছন্ন রাজনীতির কারণে আমাদের যুবসমাজের বিপর্যয় ঘটছে। তাদেরকে সুপথে ফিরিয়ে আনতে আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের আরো বিচক্ষণ ও দূরদর্শী হতে হবে। চর্চাভিত্তিক রাজনীতির পথ তৈরি করে রাজনীতিকে আরো পরিচ্ছন্ন করতে হবে।’
রোববার বেলা ২টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন সিলেট-৩ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক সহকারি অ্যাটর্নী জেনারেল ও বাংলাদেশ এথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু।
তিনি বলেন, অমাদের সমাজে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের একটি নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তারা কর্মীদের পেছনে ঘুরাতে পছন্দ করে। কিন্তু তাদের কর্মীদের ভেতরের খবর রাখতে চান না। এমন অনেক নেতা আছেন তাদের বেশিরভাগ কর্মী কোমলমতি শিক্ষার্থী রয়েছেন। এসব শিক্ষার্থীরা নেতাদের পেছনে ঘুরে ঘুরে তাদের জীবন নষ্ট করে দিচ্ছে। অথচ সেই নেতারা তাদের পড়াশুনা সঠিকভাবে হচ্ছে কি না সেই খোঁজ নেন না। আমাদের সময়ে সন্ধ্যার পরে বাইরে বের হলে পাড়ার অভিভাবকরা বকুনি দিতেন। এখন সেই চিত্র আর নেই। একমাত্র পারিবারিক শিক্ষা ও কিছু নেতার অপরিচ্ছন্ন রাজনীতির কারণে আমাদের তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজনীতির কারণে আমাদের সমাজে সালিশি বিচারের হার কমে গেছে। আগে ছোটখাটো সমস্যা হলে সামাজিকভাবে মীমাংসা করা হতো। কিন্তু এখন একটা ছোট্ট সমস্যা হলেই রাজনীতি শুরু হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত সেই মামলা পৌছায়। ফলে আদালতে মামলার জট কমছে না।
তিনি বলেন, আমাদের নেতাদের যোগ্য নেতৃত্বের কারণে আমরা সিলেটিরা বিভিন্নভাবে বৈষম্যের শিকার। আমাদের চা বাগানে, সারকারখানা, গ্যাস ফিল্ডে অন্য জেলার মানুষ পরিচয় গোপন করে চাকরি করছে। সেখানেও অপরাজনীতি হচ্ছে। তা না হলে আমাদের যুবকরা পড়াশুনা করে বেকার হয়ে ঘুরতো না।
অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায়ও চরম রাজনীতি হয়। যারা স্কুলের বারান্দায়ও যায়নি রাজনৈতিক পদ পদবী ও অর্থের জোরে তারাই স্কুল কলেজের ম্যানেজিং কমিটি ও গভার্নিংবডির সদস্য হচ্ছেন। তারা একজন সর্ব্বোচ্চ ডিগ্রীধারী প্রধান শিক্ষককে কিভাবে পরামর্শ দিবেন। সেদিকে আমাদের নেতা ও অভিভাবকদের নজর দিতে হবে।
তিনি বলেন, সমাজের এসব অসঙ্গতি দুর করতে ও আমার নিজের এলাকার মানুষের সমস্যার সমাধানে আমি আমার অবস্থান থেকে কাজ করছি। জনপ্রতিনিধি হয়ে আরো কাছে এসে সকলের সাথে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। সেজন্য ২০০৮, ২০১৪ ও সর্বশেষ ২০১৮ সালে আমার নিজ এলাকা সিলেট-৩ আসনে (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের একাংশ) সংসদ সদস্য নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পরবর্তীতে মনোনয়ন দেবেন বলে আশ্বস্থ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের জননন্দিত সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস মৃত্যুবরণ করায় এই আসন খালি হয়ে গেছে। তাই এই আসনে আমি নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশি। বঙ্গবন্ধু কন্যা জনেেনত্রী শেখ হাসিনা আমাকে সুযোগ দিলে আমি নির্বাচন করবো। শিক্ষা দীক্ষা ও পারিবারিক অবস্থার বিবেচনায় মানুষ আমাকেই নির্বাচিত করবে। এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাছাড়া তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠসিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও তিনি বাংলাদেশ এ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যরিনর্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
Related News
শনিবার সিলেটের যেসব এলাকায় থাকবে না বিদ্যুৎ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জরুরী সংস্কার ও গাছা-পালার শাখা-প্রশাখা কাটার জন্য শনিবার (৩১ অক্টোবর) সিলেটের গুরুত্বপূর্ণRead More
ওসমানী হাসপাতালে দুই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, শনিবার ঐক্যবদ্ধ সমাবেশের ডাক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুইRead More



Comments are Closed