Main Menu

‘গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ’

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পিতা হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো হত্যাকারীদের দায়েকৃত মামলায় সন্তানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার অভিযোগ উঠেছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।

শনিবার (২ জানুয়ারী) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন গোয়াইনঘাট উপজেলার খাস বারহাল গ্রামের মৃত মঈন উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কুদ্দুস রাসেল।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, খাস বারহাল মৌজার রাস্তার ব্রিজের উত্তর ও নীচের অংশটা প্রতি বছর ভাড়া দেন উজুহাত মৌজার জালাল উদ্দিন। তার কাছ থেকে গত বছর ভাড়া নিয়েছিলেন আমার পিতা মঈন উদ্দিন। ওই বছরের ১৩ জুন দুপুরে আমরা পিতা-পুত্র সেচ মেশিন দিয়ে পানি নিস্কাশন করে মাছ ধরছিলাম। এসময় খাস বারহাল গ্রামের সামছুল হকের ছেলে সায়েদ আহমদ, ছয়ফুল ইসলামের ছেলে ইব্রাহিম আলী ও ছিদ্দেক আলী, সরাই মিয়ার ছেলে আব্দুল খালিক, আজিজুল হকের ছেলে ইয়ামিন, ফয়জুল ইসলামের ছেলে নাইম উদ্দিনসহ অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আমাদের বাধা দেন। তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা ডেগার দিয়ে আমার পেটে পরপর চারটি আঘাত করে। আমি গুরুতর আহত হই। নাড়িভুড়ি বেরিয়ে যায়।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, হামলাকারীরা আমার বাবার উপরও হামলা করে। ইব্রাহিম ডেগার দিয়ে বাবাকে আঘাত করতে থাকে। একই সাথে ছিদ্দেক, খালিক, ইয়ামিন, নাইমসহ অন্যরা লাঠি ও রড দিয়ে আঘাত করছিল। এক পর্যাপয়ে আমার ভাই সাইদ এসে আমাদের উদ্ধার করে জৈন্তাপুর হাসপাতালে ও পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাড়ে ৪ মাস পর গত ২৮ অক্টোবর বাবা মারা যান। মৃত্যুর আগে আমার মামা জালাল উদ্দিনকে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের নামও বলে যান। এ ব্যাপারে থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আমার মামা জলাল উদ্দিন বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা (নম্বর-১৩/ ১৮/৬/২০২০) দায়ের করেন।

আব্দুল কুদ্দুস রাসেল কৌশলে অভিযুক্তরা আমিসহ আমার পরিবার ও স্বজনদের ৫ জনের নামে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পাল্টা আরেকটি মামলা দায়ের করে। পিতার মৃত্যুর পর হত্যার ধারা যুক্ত করতে চাইলে পুলিশ জানায়, ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেবে। পুলিশ প্রতিপক্ষের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দিলেও আমার পিতা হত্যার ঘটনায় কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। প্রতিপক্ষ আদালত থেকে ওয়ারেন্টও ইস্যু করিয়েছে। আমাদের স্বাক্ষী আব্দুর রব তাদের দায়ের করা মামলায় কারাভোগও করেছেন। এখন আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পিতাকে হারিয়ে ন্যায় বিচার পাওয়ার বদলে পুলিশি হয়রাণিতে আমরা আজ ফেরারি। তাছাড়া হত্যাকারীরা এখন আমাদের পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকিও দিচ্ছে।

তিনি তার পিতা হত্যার বিচার চেয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সৃদৃষ্টি কামনা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে রাসেলের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জালাল উদ্দিন।

আরও উপস্থিত ছিলেন- রাসেলের মামা মো. জালাল উদ্দিন, আব্দুর রব প্রমুখ।

 

Share





Related News

Comments are Closed