Main Menu

গোয়াইনঘাটে ‘ঝাড় শিম’ চাষে কৃষকের মুখে হাসি

Manual5 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট বিভাগের সীমান্তবর্তী এলাকা গোয়াইনঘাট। এক সময়কার শস্যভাণ্ডার হিসেব খ্যাত এই উপজেলা জুড়ে এখন সারি সারি ঝাড় শিম খেত। মাঠের পর মাঠ জুড়ে সবুজের সমারোহ। এ দৃশ্য দেখে যেমন দু-চোখ জুড়িয়ে যায়, তেমনি এটা কৃষকের পরিশ্রমের প্রমাণ দেয়। উপজেলা জুড়ে ঝাড় শিমের এমন বাম্পার ফলন হাসি ফুটিয়েছে কৃষকের মুখেও।

Manual7 Ad Code

শিম আমদের দেশে একটি শীতকালীন সবজি। শিমের চাষ করার জন্য উপযোগী হচ্ছে রোদ ও আলো বাতাসযুক্ত একটু উঁচু জায়গা যেখানে পানি জমে না। এই শিমের একটি জাতের নাম হল ঝাড় শিম। আমাদের দেশে বর্তমানে ব্যাপকহারে এই শিমের চাষ করা হচ্ছে।

শীতকালীন শাকসবজি, লাল শাক, লাউ শাক, মিষ্টি কুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, ধনেপাতা, কাঁচামরিচের পাশাপাশি এবার উপজেলার ফসলের মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে ঝাড় শিম। সিলেটের স্থানীয় ভাষায় সুস্বাদু এই সবজিকে ফরাস বলা হয়। যা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারি ঝাড় শিম-১ নামকরণ করেছে। শিমের বিচির মতো হুবহু রান্না করে খাওয়া হয় এই সবজি। সুস্বাদু এই সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে সিলেটের স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশজুড়ে। পর্যাপ্ত টাকা পাওয়া লাভজনক এই ফসল থেকে তাই গোয়াইনঘাট উপজেলার কৃষকরা ব্যাপকহারে ফলান এই সবজি।

উপজেলার ২নং পশ্চিম জাফলং, পূর্ব জাফলং, আলীর গাঁও, লেঙ্গুড়া, তোয়াকুল, নন্দিরগাও, ডৌবাড়ি, ফতেহপুরসহ প্রায় সব ইউনিয়নেই হাওর,বিল নিচু ও ঢালু জমিতে শত শত বিঘা জমিতে রোপণ করা হয়েছে ঝাড় শিম। ফলন বেশি, চাহিদা থাকায় এবং আর্থিকভাবে ব্যাপকহারে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকায় এই সবজি চাষে উৎসাহী হচ্ছেন প্রান্তিক ও সৌখিন কৃষকরাও। কৃষকরা অন্যান্য বছরের তুলনায় অধিক পরিমাণ ক্ষেতে এবারও এই সবজি লাগিয়েছেন।

সরেজমিন ঝাড় শিমের চাষাবাদ ও পরিচর্যায় পুরুষ কৃষকের পাশাপাশি নারীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। ছোটখেল গ্রামের কৃষক নিজাম উদ্দিন, জিয়া উদ্দিন, আ. মজিদ, গহড়া গ্রামের জসিম উদ্দিন, সিরাজ উদ্দিন, পূর্নানগর উত্তর গ্রামের হেলাল মিয়া, তোয়াকুল বীরকুলি গ্রামের শিক্ষক ফখরুল ইসলাম জানান, শীতকালীন শাকসবজির মধ্যে ফরাস বা ঝাড় শিম নামক সবজিটি চাষাবাদ অত্যন্ত সহজ ও ব্যাপক লাভজনক হওয়াতে কৃষকরা এ সবজি চাষাবাদে বেশ উৎসাহিত। ছোটখেল গ্রামের কৃষক জিয়া উদ্দিন জানান,এবার তিনি ২০ বিঘা জমিতে ফরাস বা ঝাড় শিম রোপণ করেছেন। এতে তার ব্যয় হয়েছে ১ লক্ষ টাকা। ফলনও আশানুরূপ ভালো হয়েছে। তিনি খরচ বাদ দিয়ে উৎপাদিত এই ফসল থেকে ৩- ৪ লক্ষ টাকা পেতে পারেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Manual4 Ad Code

তিনি বলেন, সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা,আমাদের ফসলের পরিচর্যা, রোগবালাই সনাক্তকরণ, ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন, ঔষধ কীটনাশক প্রয়োগসহ সব ধরনের তথ্য প্রদান সেবা দিচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস।

Manual4 Ad Code

গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার মো। সুলতান আলী জানান, এবার গোয়াইনঘাটের ফসলী মাঠে শীতকালীন সবজি ঝাড় শিমের (ফরাস) লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪০০ হেক্টর। কিন্তু আমাদের কৃষকরা ৬৯০ হেক্টরেরও বেশি ফলিয়েছেন। গোয়াইনঘাটের মাটি ও আবহাওয়া অত্যন্ত চমৎকার। আশা করা যায় এই ঝাড় শিম ফসলের বাম্পার ফলনের দ্বারা আমাদের গোয়াইনঘাটের কৃষকরা ব্যাপকহারে লাভবান হবেন এবং স্থানীয় কৃষি সফলতায় তা যোগ হবে। গোয়াইনঘাট উপজেলা জুড়ে সর্বত্র পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনতে আমাদের উদ্যোগ চলমান এবং সবকটি এলাকার কৃষকদের দোরগোড়ায় গিয়ে গোয়াইনঘাট কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

Manual7 Ad Code

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, ঝাড় শিম শীতপ্রধান অঞ্চলের ফসল। তবে উষ্ণপ্রধান অঞ্চলেও জন্মে। ১৬ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার মধ্যে গাছ ভালো জন্মে। বার্ষিক ৫০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত ঝাড় শিম চাষের জন্য ভাল। গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। বৃষ্টি বেশি হলে ফুল ঝরে যায় ও পাতায় দাগ পড়া রোগ হয়। হালকা ছায়াযুক্ত স্থানেও ঝাড় শিম চাষ করা যায়। প্রায় সকল ধরণের মাটিতে ঝাড় শিম গাছ ভাল হয়। তবে সুনিস্কাশিত দোআঁশ মাটিতে ঝাড় শিম গাছ ভাল জন্মে। প্রচুর জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ মাটিতে এর ফলন বৃদ্ধি পায়।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code