দাবি আদায়ে অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মসূচি
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: ৫ দফা দাবি আদায়ে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সিলেট জেলা অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মানববন্ধন, জেলা প্রশাসকের কাছে অটোরিক্সা জমা ইত্যাদি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আজাদ মিয়া বলেন, হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্ট ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা, মটরবাইক ও মিশুকজাতীয় যানবাহন চলাচল, বিক্রয় ও বিপনন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও সিলেটের প্রশাসন এ বিষয়টিকে কোন গুরুত্বই দিচ্ছেনা। এ কারণে আমরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন।
তিনি বলেন, ২০১৫ সাল থেকে মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিক্সা ও ত্রিহুইলারজাতীয় যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আইনের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় আমরা বিষয়টি নিয়ে কিছু দাবি-দাওয়ার কথাও জানিয়েছি। আপনারা জানেন, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, বিশ্বনাথ ও দক্ষিণ সুরমার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে এই সড়ক। তাদের জন্য বিকল্প কোন ব্যবস্থা না করে সিএনজিচালিত অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ করাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত তা সরকারকে বিবেচনা করতে হবে। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৪ লেন করার পাশাপাশি ধীর গতির যানবাহনের জন্য আলাদা বাইলেন করার প্রস্তুতি নিয়েছেন সরকার। এটা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। তাই মহাসড়কের সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকায় থাকা অংশটুকুতে যদি সিএনজিচালিত অটোরিক্সা চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়, তাহলে উল্লেখিত ৪ উপজেলার মানুষের যেমন সুবিধা হয় তেমনি শ্রমিকরাও আয়-রোজগারের মাধ্যমে পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁচতে পারে। কিন্তু ২০১৫ সাল থেকেই আমাদের এ দাবি উপেক্ষিত। এদিকে আঞ্চলিক সড়কেও সিএনজিচালিত অটোরিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের কোন উপায়ই নেই। কারণ, সে রাস্তাগুলো রিকশা অটোবাইক মটরবাইক মিশুক ইত্যাদি যানবাহনে ভরপুর থাকে। তাদের সাথে প্রতিযোগিতায় আমরা টিকে থাকতে পারিনা। সিএনজিচালিত অটোরিক্সার লাইসেন্স করতে হয়, নবায়ন ফি দিতে হয়, রুট-পারমিট, ট্যাক্স ইত্যাদি খরচ বহন করতে হয়। কিন্তু ওদের এসবের কোন বালাই নেই। তিনি বলেন বিধান অনুযায়ী বিআরটিসি বাস ডিপো থেকে ডিপোতে চলাচলের কথা। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে জনবহুল এলাকা, স্কুলের সামনে এমনকি সিএনজিচালিত অটোরিক্সা স্ট্যান্ডেও তারা স্টপেজ করেছে। আম্বরখানার একটি অভিজাত হোটেলের পাশেই তারা স্টপেজ করেছে। এটা আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন। যে কারণে উভয়পক্ষের শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। আমরা এই স্টপেজ স্থানান্তরের দাবি জানাই।
তিনি বলেন, মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য নগরপরিবহণের বাসগুলোর জন্য আমাদের স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করতে চেয়েছিলেন। এতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। বর্তমানে সেই বাসগুলো গোলাপগঞ্জ-গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরেও চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা মৌখিক আপত্তি জানিয়েছি। প্রায়ই নম্বরবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিক্সা নিয়ে সমালোচনা করা হয়। কিন্তু চালক ও মালিকরা সরকারকে ভ্যাট ট্যাক্স রেজিস্ট্রেশন ফি দেয়ার পরেও যখন রেজিস্ট্রেশন পায়না তখন আর কেউ কোন কথা বলেন না। তিনি এ ব্যাপারে লেখালেখি করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানান।
এই ৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তারা আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১১টায় কোর্ট পয়েন্টে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন। এরপরও যদি প্রশাসন থেকে ইতিবাচক কোন সাঁড়া পাওয়া যায়না তাহলে আগামী ১৪ অক্টোবর সবগুলো সিএনজিচালিত অটোরিকশা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে একযোগে জমা দিবেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাদের দাবি আদায়ে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহযোগীতা চেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা সিএনজিচালিত অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাকারিয়া আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন, কল্যাণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, মৌলভীবাজার লাইন উপপরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সম্পাদক জালাল উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন চৌধুরী, টিলাগড় উপ- পরিষদের সভাপতি সুজন আহমদ, শাহী ঈদগাহ উপ-পরিষদের সম্পাদক বরকত আলী, হুমায়ুন রশিদ চত্ত¡র উপ-পরিষদের সভাপতি মো. মানিক মিয়া, আম্বরখানা উপ-পরিষদের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, বন্দরবাজার লাইন উপ- পরিষদের সভাপতি লিটন আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা উপ-পরিষদের সম্পাদক শিবলী আহমদ, গহরপুর উপ-পরিষদের সহ-সভাপতি ফুলু মিয়া, সাবেক আহবায়ক আব্দুল জলিল প্রমুখ।
Related News
শাবিপ্রবি ছাত্রদলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ডেঙ্গু সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিRead More
১০ অক্টোবর থেকে সিলেটে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট অঞ্চলে প্রায় তিন বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাণিজ্য মেলা। আগামীRead More



Comments are Closed