Main Menu
শিরোনাম
সিলেটের যেসব স্থানে মঙ্গলবার ব্যাংক বন্ধ থাকবে         কমলগঞ্জে ৫ দফা দাবিতে ফারিয়ার মানববন্ধন         আজিজ আহমদ সেলিমের মৃত্যুতে বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের শোক         হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে বিশ্বনাথে মানববন্ধন         ওসমানী মেডিকেলে নতুন পরিচালক নিয়োগ         শাবির ল্যাবে আরো ১৬ জনের করোনা শনাক্ত         শায়েস্তাগঞ্জে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১         আকবরকে ধরিয়ে দিলে ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার!         ছাতকে গৃহবধূ ধর্ষিত, ধর্ষক গ্রেফতার         সিলেটের দুই ল্যাবে ২৭ জনের করোনা শনাক্ত         তাহিরপুরের লাল শাপলা রক্ষায় প্রশাসনের মাইকিং         মনুনদীতে গোসল করতে নেমে যুবকের মৃত্যু        

এমসিতে কারের ভেতরেই নববধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ!

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রবাসে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে ধর্ষণের পর তার ব্যাবহৃত প্রাইভেটকার আটকে রাখে ধর্ষকরা। এসময় প্রাইভেটকার ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তরুণীর স্বামীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে ধর্ষকরা। এছাড়া ধর্ষণের আগে তরুণীর গলা ও কানের স্বর্ণালঙ্কার এবং তার স্বামীর মানিব্যাগ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয় ধর্ষকরা।

শুক্রবার *২৫ সেপ্টেম্বর) এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ঘটা এই ধর্ষণের ঘটনায় শনিবার সিলেটে শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেন ওই তরুণীর স্বামী। মামলার এজাহারে তিনি এসব অভিযোগ করেছেন।

এমসি কলেজের হোস্টেলে গণধর্ষণের মামালার বাদি গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৩টায় এসএমপির শাহপরাণ থানায় এজাহার দাখিল করেন। পরে এটি এফআইআর করা হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত শুক্রার (২৫ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক বিকাল ৫টায় তিনি স্ত্রীসহ প্রাইভেটকারযোগে হযরত শাহপরাণ (র.) এর মাজার জিয়ারতে যান। মাজার জিয়ারত শেষে পৌনে ৮ টার দিকে এমসি কলেজের মূল ফটকের সামনে এসে পাকা রাস্তার উপর গাড়ি রেখে পাশের দোকানে সিগারেট কেনার জন্য নামতেই ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম তারেক, শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান মাসুমসহ আরো ২/৩ জন তার স্ত্রীকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করতে থাকেন।

সাথে সাথে স্বামী এর প্রতিবাদ করলে সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্কর তাকে চড়-থাপ্পর মারতে থাকে। তখন তার স্ত্রীও গাড়ি থেকে নেমে এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা স্বামী-স্ত্রীকে ধমক দিয়ে জোরপূর্বক গাড়িতে উঠিয়ে নেয়। এসময় তারেকুল ইসলাম তারেক ড্রাইভিং সিটে বসে এবং স্বামী-স্ত্রীকে পিছনের সিটে ওঠিয়ে সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্কর তাদের সাথে পিছনের সিটে ওঠে বসে। আর শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটে ওঠে বসে। পরে তরিকুল ইসলাম গাড়ি চালিয়ে এমসি কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গনের ৭ নং ব্লকের ৫ তলা নতুন বিল্ডিং এর দক্ষিণপূর্ব কোণে খালি জায়গায় দাঁড় করায়। অন্যরা তখন মোটরসাইকেলযোগে পিছনে পিছনে ঘটনাস্থলে যায়।

এসময় তরিকুল স্বামীর মানিব্যাগ থেকে ২ হাজার টাকা এবং শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি নববধূরর কানের দুল ও অর্জুন লস্কর গলার সোনার চেইন কেড়ে নেয়। এসময় চিৎকার করলে আসামিরা নববধূর মুখ চেপে ধরে।

পরে স্ত্রীকে গাড়িতে রেখে সাইফুর, তারেক রনি ও অর্জুন স্বামীকে ৭ নং ব্লকের পশ্চিমপাশে নিয়ে যায়। এসময় নববধূর স্বামীকে কথা বলায় ব্যস্ত রেখে সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম, মাহমুবু রহমান রনি ও অর্জুন লস্কর প্রাইভেটকারের ভিতরেই নববধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। তখন স্ত্রীর চিৎকার শুনে স্ত্রীকে বাঁচাতে চেষ্টা করতে গেলে আসামিরা তাকে মারধর করে এবং আটকে রাখে।

আধঘন্টা পর তার স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে স্বামীর নিকট আসলে আসামিরা তার প্রাইভেট কার আটকে রেখে স্ত্রীকে নিয়ে চলে যেতে বলে এবং ৫০ হাজার টাকা দিয়ে গাড়িে নিয়ে যেতে বললে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে পায়ে হেঁটে কলেজ হোস্টেলের গেটে যান এবং একটি সিএনজি অটোরিকশা ডেকে টিলাগড় পয়েন্টে গিয়ে পুলিশকে সব জানান।

এদিকে, ধর্ষণ করার সময় ৫ তলা বিল্ডিং-এর দ্বিতীয় তলায় বারান্দায় একজন ছেলে আসলে তাকে চলে যেতে বলে ধর্ষকরা। পুলিশের সহায়তায় বাদি পরে ৭ নং ব্লকে তার গাড়িটি পুলিশকে দেখান এবং দ্বিতীয় তলার ছেলেটিকে শনাক্ত করেন। ছেলেটি তার নাম হৃদয় পারভেজ বলে জানায়। তখন হৃদয় পারভেজ জানায়, সে যখন বারান্দায় এসেছিলো তখন তার রুমেমেট (৩ নং আসামি) শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রণি তাকে চলে যেতে বলে।

এসময় হোস্টেলের অন্য ছাত্ররা মোবাইলে রনিসহ অন্য আসামিদের ছবি দেখায়। এসময় স্বামী-স্ত্রী ছাত্রলীগের ৬ জনকে শনাক্ত করেন এবং তাদের নাম ঠিকানা জানতে পারেন। অন্য আরও ২/৩ জন আসামির পরিচয় জানতে পারেননি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বাদির গাড়ি ও ওদের ব্যবহৃত ১টি মোটর সাইকেল উদ্ধার করে। পরে পুলিশের সহায়তায় তাঁর স্ত্রীকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে এজাহার দায়ের করেন।

এ ঘটনায় তরুণীর স্বামীর দায়ের করা মামলায় আসামিরা হলেন- সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৫), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের রবিউল ইসলাম (২৫) ও কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুমকে (২৫)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর এ পর্যন্ত এজাহারভূক্ত ৪জনসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এখনও পলাতক রয়েছে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫) ও তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮)।

এই বিষয়ে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, পুলিশ সকল আসামিদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে। এঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

0Shares





Related News

Comments are Closed