Main Menu
শিরোনাম
সিলেটে র‌্যাবের অভিযানে মদ-ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৮         সিলেটে স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি পালন         কমলগঞ্জে স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি অব্যাহত         কমলগঞ্জে ভবনের ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কিশোরী আহত         পরকিয়ার টানে তিন সন্তানকে হত্যার চেষ্টা মায়ের, ১জনের মৃত্যু         সিলেটে আরো ৩৩ জন করোনায় আক্রান্ত, সুস্থ ৫১         সিলেটে এইডস আক্রান্ত ৯৮৬, মারা গেছেন ৪১২ জন         কমলগঞ্জে ভাইয়ের কোদালের আঘাতে ভাইয়ের মৃত্যু         কমলগঞ্জে সাঙ্গ হলো মণিপুরি মহারাসলীলা উৎসব         সিলেটে করোনায় আক্রান্ত আরো ৩০ জন, সুস্থ ৩৩         বিশ্বনাথে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার         কমলগঞ্জে মণিপুরী মহা রাসলীলা শুরু        

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে গণধর্ষণ, থানায় মামলা

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট সরকারী এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে ধরে নিয়ে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে (১৯) গণধর্ষণ করেছে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এসময় ওই তরুণীর স্বামীকে ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে আটকে রাখে তারা। অভিযুক্ত এসব ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

এদিকে এই গণধর্ষণের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমানসহ ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে।

শনিবার ভোরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরান থানায় এ মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই তরুণীর স্বামী। মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ধর্ষিত তরুনী তার স্বামীকে নিয়ে এমসি কলেজে ঘুরতে আসেন। ঘুরার এক পর্যায়ে সন্ধ্যে ৭টার দিকে তরুণীর স্বামী সিগারেট খাওয়ার জন্য এমসি কলেজের গেইটের বাইরে বের হন। এসময় কয়েকজন যুবক তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যেতে চান। এতে তরুণীর স্বামী প্রতিবাদ করলে তাকে মারধোর শুরু করেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এক পর্যায়ে তরুণী ও তার স্বামীকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এমসি কলেজের হোস্টেলে নিয়ে যান। সেখানে স্বামীকে বেঁধে ছাত্রলীগের ৮/৯ জন নেতাকর্মী ওই তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

এসময় তাদের সঙ্গে থাকা ৯০ টি মডেলের একটি প্রাইভেট কারও ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে প্রাইভেট কারটি তাদের জিম্মায় নেয় এবং তরুণীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) তে প্রেরণ করে।

এদিকে, অভিযুক্তদের ধরতে রাত থেকেই সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে পুলিশ অভিযুক্ত সাইফুর রহমানের কক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমরা রাতে এমসি কলেজের হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে সাইফুর রহমানের রুম থেকে একটি পাইপগান, চারটি রামদা ও একটি চাকুসহ বিভিন্ন জিনিস উদ্ধার করি। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা প্রক্রিয়াধীন।

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ: অভিযুক্ত ৬ জনের পরিচয়;

পুলিশের সাথে আলাপ করে জানা গেছে ওই তরুণীকে ধর্ষণের সাথে ছাত্রলীগের ৬জন নেতা জড়িত ছিলেন। তারা হলেন, এমসি কলেজ ছাত্রলীগের নেতা ও কলেজটিতে ইংরেজিতে মাস্টার্সে অধ্যয়রত শাহ মাহবুবুর রহমান রণি, একই শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুর রহমান মাছুম, এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা এম সাইফুর রহমান, কলেজ ছাত্রলীগ নেতা অর্জুন এবং বহিরাগত ছাত্রলীগ নেতা রবিউল ও তারেক।

এদের মধ্যে সাইফুর রহমানের বাড়ি বালাগঞ্জে, রবিউলের বাড়ি দিরাইয়ে, মাহফুজুর রহমান মাছুমের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলায়, অর্জুনের বাড়ি জকিগঞ্জে, রণি হবিগঞ্জের এবং তারেক জগন্নাথপুরের বাসিন্দা। তাদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন শাহপরান থানার উপর পরিদর্শক (এসআই) লিপটন পুরকায়স্থ।

তবে দীর্ঘদিন ধরে কলেজে কমিটি না থাকায় তাদের কোন পদ-পদবী নেই। কিন্ত কলেজের রাজনীতিতে এসব নেতারা সক্রিয় ছিলেন।

ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত এসব নেতা-কর্মীরা মূলত সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারি। এবং সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য নাজমুল ইসলামের সাথে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত নেতাকর্মীরা রাজনীতি করতেন বলে জানা গেছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জোর্তিময় সরকার বলেন, অভিযোগকারী নারীর স্বামীর বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, শুক্রবার বিকেলে তিনি স্ত্রীসহ টিলাগড় এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। এসময় ৪/৫ জন তরুণ তাদের জিম্মি করে ছাত্রাবাসের ভেতরে নিয়ে যায়। পরে ছাত্রাবাসের ভেতরের একটি রাস্তায় তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে।

এমসি কলেজের হোস্টেল সুপার জামাল উদ্দিন জানান, কয়েকজন ছাত্রাবাসে এক দম্পতিকে আটক রাখে বলে অভিযোগ পেয়েছি। পরে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে।

এমসি কলেজের অধ্যক্ষ সালেহ আহমদও একই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, তাদের কেনো আটকে রাখা হয়েছিলো এবং তাদের সাথে কী আচরণ করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।

0Shares





Related News

Comments are Closed