Main Menu
শিরোনাম
সিলেটের যেসব স্থানে মঙ্গলবার ব্যাংক বন্ধ থাকবে         কমলগঞ্জে ৫ দফা দাবিতে ফারিয়ার মানববন্ধন         আজিজ আহমদ সেলিমের মৃত্যুতে বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের শোক         হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে বিশ্বনাথে মানববন্ধন         ওসমানী মেডিকেলে নতুন পরিচালক নিয়োগ         শাবির ল্যাবে আরো ১৬ জনের করোনা শনাক্ত         শায়েস্তাগঞ্জে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১         আকবরকে ধরিয়ে দিলে ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার!         ছাতকে গৃহবধূ ধর্ষিত, ধর্ষক গ্রেফতার         সিলেটের দুই ল্যাবে ২৭ জনের করোনা শনাক্ত         তাহিরপুরের লাল শাপলা রক্ষায় প্রশাসনের মাইকিং         মনুনদীতে গোসল করতে নেমে যুবকের মৃত্যু        

করোনায় বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু কমতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কভিড-১৯ এর কারণে ‘এক থেকে নয় বছর’ পর্যন্ত মানুষের আয়ু কমিয়ে দিতে পারে। জনসংখ্যার ওপর ভাইরাসটির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে করা সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এ বিষয়ে অন্তত তিনটি দেশের বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিটি দেশের বর্তমান আয়ুর ওপর নির্ভর করে হ্রাসের পরিমাণ ভিন্ন হবে।

পিএলওএস ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত বিশ্লেষণটিতে একটি দেশের জনসংখ্যার অনুপাত অনুযায়ী কভিড-১৯ সংক্রমণের হার যুক্ত করা হয়েছে। চীনের সাংহাই বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অ্যাপ্লায়েড সিস্টেম অ্যানালাইসিস এবং যুক্তরাজ্যের ইস্ট অ্যাংলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মিলে গবেষণাটি করেছেন।

তাদের মতে, ১০ শতাংশ হারে কভিড-১৯ সংক্রমণে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে জন্মানোদের আয়ু হ্রাস সম্ভবত এক বছরের বেশি হতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকায় যথাক্রমে সংক্রমণের হার ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ অনুযায়ী এক বছর করে আয়ু হ্রাস পাবে। এ মেট্রিকটি ব্যবহার করে গবেষকরা সংক্রমণের উচ্চহারের সঙ্গে আয়ু হ্রাস গণনা করেছেন।

বিশ্লেষণটি আরও বলছে, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে তিন-নয় বছর, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে তিন-আট বছর, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দুই-সাত বছর এবং সাব-সাহারান আফ্রিকায় এক-চার বছর করে আয়ু হ্রাস পাবে। আর সব ধরনের পরিস্থিতিতে কভিড-১৯ সংক্রমণের হার ১ বা ২ শতাংশের মধ্যে থাকলে সেটা আয়ু হ্রাসে প্রভাব ফেলবে না।

পূর্ববতী মহামারি যেমন ১৯১৮ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ২০১৪ সালের ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও লাইবেরিয়ায় যথাক্রমে ১১ দশমিক ৮ বছর এবং ১ দশমিক ৬ থেকে ৫ দশমিক ৬ বছর পর্যন্ত আয়ু হ্রাস পেয়েছিল।

সমীক্ষাটিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ, ভ্যাকসিন, স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহে ন্যায়সংগতা নিশ্চিতকরণসহ এ ধরনের অনেকগুলো ব্যবস্থার মাধ্যমে বহু দশক ধরে দেশগুলোতে গড় আয়ুষ্কালের যে উন্নতি দেখা গিয়েছিল তা কভিড-১৯ মহামারীটি মুছে ফেলতে পারে।

গবেষণাটিতে কাজ করা আইআইএএসএর গবেষক সের্গেই শেরবোভ বলেছেন, ইউরোপের গড় আয়ু ছয় বছর বৃদ্ধি পেতে ২০ বছর সময় লেগেছিল। ১৯৯০ সালে ৭২ দশমিক ৮ বছর থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯ সালে ইউরোপের দেশগুলোর গড় আয়ু হয়েছিল ৭৮ দশমিক ৬ বছর।

তিনি আরও বলেছেন, কভিড-১৯ তাদের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। যদিও আমরা জানি না যে আরো কী ঘটতে চলেছে। অনেক দেশে কভিড-১৯ থেকে প্রাণহানির প্রবণতা হ্রাস পাচ্ছে। সম্ভবত কভিড চিকিৎসার প্রটোকলগুলো উন্নত করা গেছে।

বার্ষিক মৃত্যুহারের ভিত্তিতে সাধারণত আয়ু গণনা করা হয়। কভিডে বিশেষত বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে উচ্চসংখ্যক মৃত্যু আয়ু হ্রাসের অনুমানকে কমিয়েও দিতে পারে।

গবেষকরা যুক্তি দেখিয়েছিলেন, কভিডে অত্যধিক আক্রান্তের ঘটনাগুলো সরাসরি মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত নয়, স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাপের কারণে আরো বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। এজন্য সংক্রমণের উচ্চ হার আরো বেশি প্রভাব ফেলবে।

0Shares





Related News

Comments are Closed