পঞ্চগড়ে শুরু হয়েছে ‘ভাদর কাটানি’ উৎসব
মো. সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের উত্তরাঞ্চলের গ্রামে গ্রামে ভাদ্র মাসের শুরুতেই চলছে ঐতিহ্যবাহী ‘ভাদর কাটানি’ উৎসব। ফলে নববধুরা শশুরালয় হতে পিত্রালয়ে গমন করেছে। উত্তরাঞ্চলের এ ঐতিহ্যবাহী উৎসবে বাপের বাড়িতে যায় নববিবাহিতা বধুরা। শহরে এর প্রভাব কম থাকলেও গ্রামে গ্রামে পালন করা হয় এ উৎসব ।
এ উৎসবের রীতি অনুযায়ী কমপক্ষে ভাদ্র মাসের প্রথম দিন হতে দশ দিন পর্যন্ত স্বামীর মঙ্গল কামনায় কোন নববধু তার স্বামীর মুখ দর্শন করবে না। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ‘ভাদর কাটানি’র কোন ব্যাখ্যা না থাকলেও এ অঞ্চলের আদি প্রথা অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের পহেলা তারিখ থেকে শুরু হয়ে যুগ যুগ ধরে পালিত হয়ে আসছে এ উৎসব । ‘নববিবাহিতা বধু বাবার বাড়িতে নাইওর যাবে’ এই বাক্যটি এখন নববিবাহিত পরিবারের সবার মুখে মুখে।
জানা যায়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়সহ বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে এবং ভারতের পশ্চিম ও দক্ষিণ দিনাজপুর মালদহ এবং মুর্শিদাবাদের কোন কোন অংশে এই প্রথা চালু আছে । এছাড়াও জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি জেলার কোন কোন অংশেও এই প্রথা বাঙ্গালী সমাজে চালু রয়েছে বলে জানা যায়।
আধুনিক যুগে ভাদর কাটানির পক্ষে নিরপেক্ষ তর্ক-যুক্তি নাই । তবুও ভাদর কাটানি উৎসব থেমে নেই। যারা মনে প্রাণে বাঙ্গালী যারা বাঙ্গালীর রীতিনীতি ও প্রথা মেনে চলেন বা মানার চেষ্টা করেন তাদের নিয়মের ভিতরেই রয়েছে ভাদর কাটানির এই প্রথা ।
স্থানীয় লোকজনের বিশ্বাস,বিবাহিত জীবনের প্রথম ভাদ্র মাসের এক থেকে দশ তারিখ পর্যন্ত স্বামীর মুখ দেখলে পরিবারে অমঙ্গল হবে। তাছাড়া সাধারণত এ মাসে বিয়ের কোন আয়োজনও চোখে পড়ে না। প্রচলিত এ প্রথাটি যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলে হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে চালু রয়েছে ।
প্রথা অনুযায়ী, কনেপক্ষে শ্রাবণ মাসের দু’একদিন বাকি থাকতেই বরপক্ষের বাড়িতে সাধ্যমতো বিভিন্ন রকমের ফল, মিষ্টি, পায়েসসহ নানারকম পিঠা-পুলি নিয়ে যায়। বরপক্ষও সাধ্যমত তাদের আপ্যায়ন করে। বাড়িতে কনে পক্ষের লোকজন আসায় চারদিকে একটা উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
ভাদর কাটানি মুসলিম সম্প্রদায়ের কোন ধর্মীয় বিষয় না হলেও এ অঞ্চলে আবহমান কাল থেকে প্রথাটি চলে আসছে। এক সময় সভ্রান্ত হিন্দু সম্প্রদায় এ উৎসবকে জাকজঁমকভাবে পালন করতো । তাদের এ রেওয়াজ ক্রমান্বয়ে এ অঞ্চলের মানুষকে প্রভাবিত করে । এক পর্যায়ে উৎসবটি এঅঞ্চলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে দাড়ায়।
Related News
পঞ্চগড়ে পিকনিক খেয়ে বাড়ি ফেরা হলোনা ব্যবসায়ী বিপ্লবের
মো. সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: রাতে দেবীগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে ব্যবসায়ীক কাজ শেষেRead More
কুড়িগ্রামে পুকুরে পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার কেদার ইউনিয়নের ঢলুয়াবাড়ী গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবেRead More



Comments are Closed