Main Menu

সিলেটের সাবেক মেয়র কামরান আর নেই

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ও ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রোববার (১৪ জুন) দিনগত রাত ৩টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কামরান।

বিষয়টি রাত ৩ টা ৩৫ মিনিটে সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে ডা. আরমান আহমদ শিপলু।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে সিলেট নগরীতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কামরানের ব্যক্তিগত সহকারি বদরুল ইসলাম বলেন, প্লাজমা থেরাপি দেওয়ার পর স্যার (কামরান) অনেকটা ভালো বোধ করছিলেন। তার অবস্থারও উন্নতি হচ্ছিলো। তবে রোববার মধ্যরাত থেকে হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি হয়। তিনি বুকে ব্যাথা অনুভব করছিলেন। এরপর আজ ভোরের দিকে মারা যান।

উল্লেখ্য, বদর উদ্দিন আহমদ কামরান করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এরআগে গত ৮ জুৃন সোমবার বিকেলে কোভিড থেকে সুস্থ হওয়া রোগীর প্লাজমা কামরানের শরীরে দেয়া

কামরানের সঙ্গে ঢাকায় অবস্থানরত তার বড় ছেলে ডা. আরমান আহমদ শিপলু এদিন জানিয়েছিলেন- তার পিতা কামরানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। সিএমএইচে ভর্তি করার পর তিনি উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছেন। এতে করে কিছুটা ভালো আছেন কামরান। সোমবার থেকে তিনি নিজ থেকে খাওয়া দাওয়া করছেন বলেও জানিয়ছিলেন শিপলু।

গত ৫ জুন শুক্রবার ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার পর কামরানের করোনা ধরা পড়ে। করোনা পজিটিভ হওয়া কামরানের শারীরিক অবস্থা এদিন (শুক্রবার) রাত থেকেই অবনতি হতে থাকে। প্রয়োজন পড়ে অক্সিজেন সাপোর্টের। এ কারণে তাকে নিজ বাসাতেই দেওয়া হয় অক্সিজেন সাপোর্ট।

এতেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ৬ জুন শনিবার সকালে তাকে সিলেটের আইসোলেশন সেন্টার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে একটি কেবিনে রেখে তার চিকিৎসা দেওয়া হয়। রোববার অবস্থার আরো অবনিত হলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এদিন বিকেলে হেলিকপ্টার করে ঢাকার সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

এদিকে কামরানের সুস্থতার জন্য সিলেটে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ দোয়া মাহফিল করা হয়েছে।

এরআগে গত ২৭ মে কামরানের স্ত্রী আসমা কামরানেরও করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। তিনি অনেকটা সুস্থ রয়েছেন এবং বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।

সিলেটের পথে কামরান

সিলেটের পথে রয়েছেন সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। সোমবার সকালে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরদেহ নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।নগরীর মানিকপীর টিলায় বাবা-মায়ের কবরের পাশে তার লাশ দাফন করা হবে।

সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৭ টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে থেকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে কামরানের মরদেহ নিয়ে সিলেটের পথে রওনা হয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

তাঁর ছেলে ডা. আরমান আহমদ শিপলুর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। তাঁর জানাযা ও দাফন নিয়ে বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণে সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সকাল ৯টায় বৈঠকে বসবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

যেভাবে তৃনমূল থেকে ওঠে এসেছিলেন জনতার কামরান

বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ছিলেন তৃনমূল থেকে ওঠে আসা এক নন্দিত জননেতা। তিনি ছিলেন সিলেট নগরীর ছড়ারপারের বাসিন্দা। প্রথম নির্বাচনে অংশ নেন ১৯৭৩ সালে। তৎকালীন সিলেট পৌরসভার ৩ নং তোপখানা ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল কামরানের পথচলা।

১৯৯৫ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন । সিটি করপোরেশন ঘোষণার পর ২০০২ সালে ভারপ্রাপ্ত মেয়র এবং ২০০৩ সালের ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন । ২০০৮ সালে কারাগারে থেকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশনেন । সেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীর চেয়ে ৮৫ হাজার ভোট বেশি পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন কামরান।

২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে প্রায় ৩৫ হাজর ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। এর আগে পর্যন্ত কখনো কমিশনার, দুই দফা পৌরসভার চেয়ারম্যান ও ২ দফা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন কামরান। ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচন ছিল তাঁর জীবনের সর্বশেষ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি তিনি।

২০০৪ সালের ৭ আগস্ট সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর তালতলাস্থ গুলশান সেন্টারে গ্রেনেড হামলায় আল্লাহর অশেষ করুনায় বেঁচে গিয়েছিলেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। অনেকের সাথে সে দিন আহত হয়েছিলেন তিনি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইব্রাহিম মারা যান। সেই দুর্বিষহ স্মৃতি মনে করে বিভিন্ন সভা সমাবেশে চোখের জল ফেলে কাঁদতেন কামরান।

রাজনৈতিক জীবনে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ছিলেন সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি। বিভিন্ন সময়ে তিনি শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন কামরান।

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত স্নেহ করতেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান কে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর শেখ হাসিনাই কামরানকে বিমান বাহিনীর এয়ার এম্বুলেন্স করে ঢাকার সিএমএইচে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন। সিলেট নগরীতে জনতার কামরান হিসেবে পরিচিতি ছিল তাঁর।

১৫ জুন ২০২০ ভোররাত ৩টায় এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

Share





Related News

Comments are Closed