Main Menu

চাঁদা না দেয়ায় হামলা মামলা, প্রতিকার দাবি

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম ও তার পোষা সন্ত্রাসীদের মামলা-হামলায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নগরীর ছড়ারপার এলাকার বি-ব্লকের সুগন্ধা-১৩ নম্বর বাসার সাবু মিয়ার পরিবারের সদস্যবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন সাবুর স্ত্রী রুনু বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ছড়ারপার এলাকার মৃত জাহাঙ্গীর আলম আমার নিকটাত্মীয়। সেই সুবাদে তার অনুমতি নিয়ে তার মালিকানাধীন ৫টি টিনশেডের বাসা দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া প্রদানের মাধ্যমে ভোগদখল ও তত্ত্বাবধান করছি। এদিকে এলাকার একটি প্রভাবশালী ভূমিখেকো চক্রের চোখ পড়ে এই ভূমির উপর। তারা ভূমিটি আত্মসাতের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। এই চক্রের প্রধান ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম। তার নেতৃত্বে চক্রটি প্রথমে আমার স্বামীর নিকট চাঁদা দাবী করে। কাউন্সিলর মুনিম, তার ভাই সিরাজুল ইসলাম শামীম এবং ছড়ারপারের বহুল আলোচিত দুন্ধা মিয়ার ছেলে কালাম আহমদ মিলে বেশ কয়েকদিন ধরে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছেন। কারণ জানতে চাইলে তারা আমাদের তত্ত্বাবধানে থাকা বাসাটি জোরপূর্বক দখল করার হুমকি দেয়।

তিনি বলেন, চাঁদা প্রদান না করায় গত ১৩ মে চক্রটি বাসা দখল করতে আসে। এ সময় বাধা দিলে তারা হামলা শুরু করে। প্রথম দফায় এই হামলার পর আমিসহ পরিবারের অনেকেই গুরুতর আহত হই।

রুনু বেগম বলেন, বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ঐ ভূমিখেকো চক্র কোতয়ালী থানায় আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে (নং ১৭, ১৫ মে ২০২০)। কিন্তু আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় থানা পুলিশ আমাদের মামলা গ্রহণ করেনি। একইভাবে ২য় দফায় চক্রটি একই উদ্দেশ্যে গত ৫ জুন বিকেলে ছড়ারপারস্থ মসজিদ গলিতে আমার স্বামীর মালিকানাধীন রাহী স্টোর নামক দোকানে হামলা চালিয়ে দোকান ভাঙচুর করে। সেই সাথে ‘জায়গা দখল করতে এসেছি, ক্ষমতা থাকলে তোরা বাঁধা দে’-এমন কথা বলে শাসিয়ে যায়। পরে তারা সাইনবোর্ড হাতে নিয়ে বাসাটি দখল করতে আসে। তাদের সাথে এ সময় যোগ দেয় ছড়ারপারের অগতি মিয়ার ছেলে জনি আহমদ (৩০), মৃত গনি মিয়ার ছেলে আবুল আহমদ, মৃত মতলব মিয়ার ছেলে দিদারুল ইসলাম সুমন (৩৮), নুনু মিয়ার ছেলে মিলাদ আহমদ (২০), মৃত মতি মিয়ার ছেলে ফাইজুল মিয়া (৪০), ফাইজুল মিয়ার ছেলে আইনুল আহমদ, মৃত খুর্শেদ মিয়ার ছেলে আসলম আহমদ( ৩৫) ও সনি আহমদসহ আরো অজ্ঞাত ১০/১৫ জন।

তিনি বলেন, পরে তারা সাইনবোর্ড সাথে নিয়ে দখল প্রচেষ্টা চালায়। এ সময় আমি তাদের সাইনবোর্ড বসানোর কারণ জানতে চাইলে তারা কাউন্সিলর মুনিমের নির্দেশে আমার উপরও হামলা চালায়। খবর পেয়ে আমার স্বামী সাবু মিয়া এবং ছেলে রুমেল ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে বাধা প্রদান করলে তারা তাদের উপরও উপর্যুপরি হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
তারা বাসায় ব্যবহৃত পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ সময় তারা বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে ত্রাসের সৃষ্টি করে এবং আমার স্বামীর দোকান ভাঙচুর ও ক্যাশবাক্সে রাখা ৬০ হাজার টাকার বান্ডিল নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, দিনে-দুপুরে এমন হামলার পরও থানা পুলিশ আমাদের অভিযোগ গ্রহণ করেনি। বর্তমানে আমি এবং আমার পরিবার এই চক্রের হাতে জিম্মি। তারা যেকোনো সময়ে আমাদের প্রাণে মারার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে তাদের জীবনের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে ভূমিখেকো চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

Share





Related News

Comments are Closed