Main Menu

বিয়ানীবাজারে চাচীর পরকীয়ার বলি শিশু সাহেল!

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় বিয়ানীবাজারে সাড়ে তিন বছরের শিশু সাহেল আহমদ সাহেলকে হত্যা করেছে আপন চাচী ও তার কথিত প্রেমিক।

বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেফতার উপজেলার উত্তর আকাখাজনা গ্রামের রুনু মিয়ার স্ত্রী সুরমা বেগম (৩৮) এবং তার কথিত প্রেমিক উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা বর্তমানে উত্তর আকাখাজনা মামা আব্দুল আহাদ এর বাড়িতে বসবাসরত নাহিদুল ইসলাম ওরফে ইব্রাহীম (২৬) পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের সাথে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।

পুলিশ জানায়, শিশুটি আম কুঁড়াতে রোববার (৭ জুন) ভোরে ঘরের বাইরে বের হয়। চাচীর অসামাজিক কার্যকলাপ দেখে ফেলায় চাচী ও নাহিদ মিলে তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করে অজ্ঞান করে ফেলে। এরপর মুখে ও নাকে রুমাল চেপে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ গুম করার জন্য বসত ঘরের বাথরুমে প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে কম্বল দিয়ে লাশ মুড়িয়ে রাখে। রবিবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা হয় শিশুটির লাশ।

এ ঘটনায় শিশুটির পিতা খসরু মিয়া (৪৮) তিন জনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এর মধ্যে দুইজন গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতার দুই আসামীকে সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

শিশু সায়েল আহমদ ওরফে সোহেল

জানা যায়, রোববার সকাল ৬টা থেকে নিখোঁজ ছিল শিশুটি। বিকেলে খছরু মিয়ার ছোটভাই রুনু মিয়ার স্ত্রী সুমা বেগমের ঘরের ড্রামের ভেতরে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, পারিবারিক বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন থেকে দুই ভাই পৃথক বসবাস করছেন। রোববার সকালে হঠাৎ করে শিশু সায়েল আহমদ ওরফে সোহেল নিখোঁজ ছিল। তার খোঁজে মসজিদে মাইকিং করা হয়। পুকুরে ফেলা হয় জাল। আশপাশের বাড়ি, এমনকি ঝোঁপ ঝাড়েও খোঁজ করে মিলেনি সাড়ে তিন বছরের শিশু সোহেলকে। অবশেষে তার মরদেহ মিললো আপন চাচার ঘরের বাথরুমের একটি ড্রামে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায়।

এলাকার লোকজন বলেন, সোহেলের খোঁজে যখন সবাই অস্থির। তখন তার আপন চাচি সুরমা বেগমের আচরণ সকলের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। এক পর্যায়ে প্রতিটি বাড়ির ঘর তল্লাসীতে নেমে নিহত শিশুর চাচার ঘর তল্লাসী করতে গেলে সুরমা বেগম স্বীকার করে গাছের ডাল দিয়ে মাথায় আঘাত করে শিশুটিকে তিনি হত্যা করেছেন।

ঘাতক সুমা বেগম

হত্যার পর মরদেহ গুমের চেষ্টায় বাথরুমে পানির ড্রামে কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে রাখেন। তার দেখানো মতে সোহেলের মরদেহ ঘরের বাথরুমে পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে রোববার সন্ধ্যায় বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবনী শংকর করসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুর লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন করে থানায় নিয়ে যান। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করে পুলিশ।

Share





Related News

Comments are Closed