Main Menu

সিলেটে চা শ্রমিক দিবসের ৯৯তম বার্ষিকী পালিত

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে চা শ্রমিক দিবসের ৯৯তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় প্রবল প্রাকৃতিক দূর্যোগ উপেক্ষা করে সিলেটের লাক্কাতুরা, মালনীছড়া, দলদলি, হিলুয়াছড়া, লালাখাল, বড়জান, ছড়াগাং, মনিপুরসহ বিভিন্ন বাগানে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এসকল সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন সিলেট জেলার আহ্বায়ক মুখলেছুর রহমান, সদস্য প্রসেনজিৎ রুদ্র, চা শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা বীরেন সিং, অজিত রায়, আমেনা বেগম, নমিতা রায়, চম্পক বাউরি, সঞ্জয় বাউরী, হৃদয় লোহার, সজল গোয়ালা, উজ্জ্বল বুনার্জী, নেপাল ছত্রী, প্রদীপ দাস প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, প্রায় দুশ’ বছর আগে ইংরেজরা নানা ভাবে প্রতারিত করে চা শ্রমিকদের নিয়ে আসে। তারা বলেছিল ‘গাছ হিলায়েগা তো পায়সা মিলেগা’ অর্থাৎ জীবন অনেক সুন্দর ও স্বপ্নময় হবে। অথচ আসার পর দেখলেন এখানে মানুষের বিচরণ নেই, দূর্গম জঙ্গল আর ভয়ঙ্কর সব জন্তু জানোয়ার চারদিকে। মজুরি খুব কম, খাবার নেই, থাকার জায়গাও ভাল না। আর মালিকের নির্যাতন। এর প্রতিবাদে চা শ্রমিকরা নিজের পূর্ব পুরুষের ভিটায় বা মুল্লুকে ফিরে যেতে চাইলেন। ১৯২১ সালে তারা পায়ে হেটে রওয়ানা দেন। ১৯২১ সালের ২০ মে তাঁরা চাদঁপুর স্টিমারঘাটে পৌঁছান। সেখানে শত শত চা শ্রমিকদের গুলি করে হত্যা করে ইংরেজ সরকার। ১৯২১ সালে ২০ মে দিনটিকে তাই ‘চা শ্রমিক দিবস’ বলা হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে এ রকম শ্রমিক হত্যার ঘটনা কমই আছে।

মুল্লুক চল আন্দোলনের শতবর্ষের শুরুতে এসেও চা শ্রমিকদের স্বপ্ন পুরণ হয়নি। সারা দেশে যখন কোভিড-১৯ আক্রমণ প্রতিরােধ করার জন্য লকডাউন ঘােষণা করে কল-কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে তখনও সরকারি পরামর্শে মালিকদের স্বার্থে কোন ঝুঁকি ভাতা ছাড়া বাগান খােলা রাখা হয়েছে। চা শ্রমিকদের স্ববেতন ছুটির দাবিকে সরকার বা মালিকপক্ষ কোনাে গুরুত্ব দেয়নি। ইতিমধ্যেই চা বাগানে করােনা সংক্রমণ শুধু নয়, আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন শিশুসহ কয়েক জন। শ্রমিকদের জীবন তাদের কাছে মূল্যহীন। চা শ্রমিকরা আজীবন শাসকদের ভােট ব্যাংক এবং মালিকদের মুনাফা লুটার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখনাে আমাদের দৈনিক মজুরি মাত্র ১০২ টাকা, রেশন সপ্তাহে ৩ কেজি খাবার অযােগ্য পঁচা চা আটা। আবার বাগানে কাজ চালু আছে এই অজুহাতে স্বাভাবিক ত্রাণ সহযােগিতা থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। একটা কুঁড়ে ঘরে পরিবার পরিজন গরু ছাগল নিয়ে একসাথে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। তাও আবার সময়মতাে মেরামতের অভাবে বৃষ্টির জলে ভিজতে হয়। ১৬৬ বছর ধরে বসবাস করা সত্তেও বসতভিটা ও জমির মালিকানা নেই। প্রত্যেক বাগানে এমবিবিএস ডাক্তার বা উপযুক্ত নার্স না থাকায় অনেকেরই অকালে জীবন হারাতে হয়। সকল রােগের একই দাওয়াই প্যারাসিটামল ছাড়া কোন ঔষধ নেই। মালিকদের অবহেলা ও দুরভীসন্ধির কৌশলে রেমা ও কালিটির মতাে অনেক চা বাগানে শ্রমিকদের মজুরি রেশন ছাড়া মাসের পর মাস বন্ধ রাখা হয়। একেকটি বাগানে হাজার হাজার মানুষ থাকলেও প্রত্যেক বাগানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। প্রয়ােজন মতাে মাধ্যমিক স্কুল বা কলেজ নেই। চা শ্রমিকদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রায় ১৭ মাস অতিক্রান্ত, কিন্তু নতুন চুক্তি সম্পাদনের কোন আয়ােজনই দৃশ্যমান নয়।

আজ ‘চা শ্রমিক দিবস’ এর শতবর্ষের প্রারম্ভে এসে এই মালিকী ব্যবস্থা ভাঙ্গতে ‘২০ মে’ আমাদের লড়াইয়ের আহবান জানায়। বক্তারা তাই চা শ্রমিকদের সমস্যা সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।

Share





Related News

Comments are Closed