Main Menu

রোজায় বিশেষ খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সামনে রোজা চলে এসেছে। রোজার মধ্যেও বিশেষ খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখার উদ্যোগ আমরা নিয়েছি।

সোমবার (২০ এপ্রিল) জেলা পর্যায়ে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ভিজিএফ, ওএমএস, কাবিখা কর্মসূচি চালু করেছি। ৫০ লাখ লোক রেশন কার্ডের আওতায় আছে। এছাড়া আরও ৫০ লাখ লোককে কার্ডের আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে পাঁচ কোটি মানুষ উপকৃত হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা সুবিধা নেবেন তাদের ডাটাবেজ করা থাকবে। যারা চাইতে পারবেন না তাদের জন্য আমরা এই ব্যবস্থা নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধান কাটা শুরু হয়েছে। আশা করি খাদ্যের অভাব হবে না। এছাড়া আমরা ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য কিনে রাখব যাতে খাদ্যের যোগান দিতে পারব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো সময় দুর্যোগ আসতে পারে। তবে দুর্যোগ এলে মনোবল না হারিয়ে উপযুক্ত কৌশলের মাধ্যমে সাহস নিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে যারা দিনমজুর বা প্রতিদিনের উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ঘরে খাবারের অভাব রয়েছে। কিন্তু সরকার সামাজিক সুরক্ষার আওতায় তাদের প্রত্যেকের ঘরে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। আমাদের ভিজিডি, ভিজিএফ, টিআর, কাবিখাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। ১০ টাকা কেজি দরের ওএমএস চাল বিক্রি করা হচ্ছে অভাবীদের জন্য। মোট কথা, আমরা সব উপায়ে নিম্ন আয়ের মানুষদের কাছে সহায়তা পৌঁছাব।

নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য এসব সহায়তা সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে কি না, সে বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এখন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সীমিত। আমি আমাদের একেকজন সচিবকে একেকটি জেলা মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দিয়েছি। জেলাগুলোতে সঠিকভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে কি না, অভাবী মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছাচ্ছে কি না, তারা সেটি দেখবেন এবং আমার কাছে রিপোর্ট করবেন।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া আমাদের আওয়ামী লীগের নেতারা রয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে আমি নির্দেশ দিয়েছি, সবাই দেখবেন কোনো মানুষ যেন খাবারের অভাবে কষ্ট না পায়। আমাদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আছে, তারা এর আগে ধান কাটতেও কৃষকদের সহায়তা করেছে। তারাও এখন কাজ করছে।

ঢাকা ও আশেপাশের কারখানায় নিয়োজিত পোশাক কর্মীদের গ্রামের বাড়ি থেকে ডেকে আনা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘সুপারভাইজারকে দিয়ে শ্রমিকদের ফোন করানো হলো। এভাবে শ্রমিকদের ডেকে আনা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। মাইলের পর মাইল হেঁটে এসেছে। অনেক বাবা তার মেয়েকে নিয়ে এসেছেন। গাড়িঘোড়া বন্ধ ছিল। শ্রমিকদের আনার ব্যবস্থা যেমন করা হবে, নেওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে।’

গাজীপুরে শিল্প কারখানা খোলা রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লকডাউন নিশ্চিত করে সীমিত পর্যায়ে হলেও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে। সেটি কীভাবে করা যায় নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতিমধ্যে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা শুরু করে দিয়েছি। আগে আমরা যে পরিমাণ বোরো সংগ্রহ করতাম এবার তার চেয়ে অনেক বেশি সংগ্রহ করছি। এবার আমরা প্রায় আট লাখ মেট্রিকটন ধান, ১০ লাখ মেট্রিকটন চাল, দুই লাখ ২০ হাজার মেট্রিকটন আতপ, ৮০ হাজার মেট্রিকটন গমসহ ২১ লাখ মেট্রিকটন খাদ্য আমরা সংগ্রহ করব।

কৃষকদের প্রণোদনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ২০০ কোটি টাকা আমরা রেখেছি। এখান থেকে কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে কৃষি খাতে। ধান উৎপাদন মাড়াই- এসব কাজে যেসব যন্ত্র দরকার সেগুলো যাতে তারা কিনতে পারে সেই ব্যবস্থা আমরা করেছি।

কৃষকদের সুবিধা-অসুবিধা দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ। কিন্তু ধান কাটার জন্য কৃষকদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হবে। তাই তারা যাতে প্রয়োজনমতো জমিতে যেতে পারে তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রাক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা কৃষি খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করে দিয়েছি। সেখান থেকে মাত্র পাঁচ শতাংশ হার সুদে কৃষকরা ঋণ নিতে পারবে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, পোলট্রি ব্যবসায়ী, মৎস্যজীবীসহ সবার কথা চিন্তা করে প্রণোদনা ঘোষণা করেছি যাতে অর্থনীতি সচল থাকে।

সবাইকে আরেক সচেতন হতে আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এপ্রিল মাসটা কঠিন হবে। ভাইরাসটি ছড়ানোর একটা ট্রেন্ড (সংক্রমণ প্রবণতা) আছে। আমরা আগেই সতর্ক করেছি। এপ্রিল মাসে আরেকটু সতর্ক থাকার দরকার। এই মাসে প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশে করোনায় দেড়শ’ বাংলাদেশি মারা গেছেন। যুক্তরাজ্যেও চিকিৎসকসহ অনেক বাংলাদেশি মারা গেছেন। এক্ষেত্রে যদি বাংলাদেশের কথা বলি, সারা বিশ্বে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে, এপ্রিল পর্যন্ত আমরা নিয়ন্ত্রণ করেছি। আরেকটু সতর্ক হলে আরও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা শুরু থেকেই ব্যবস্থা নিয়েছি। এজন্য করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। লকডাউনসহ আরও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি, যেখানে লোকসমাগম হয়, যেমন- স্কুল-কলেজ সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনের আমাদের অনেক আকাঙ্ক্ষা ছিল। আমরা সে প্রস্তুতিও কয়েক বছর ধরে নিয়েছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে লোক সমাগম হতে পারে, এমন কর্মসূচি বন্ধ করে দিই। ডিজিটাল মাধ্যমে যেগুলো করা যায়, সেগুলো করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্ব এখন আতঙ্কিত। অতীতে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ।

মক্কা ও মদিনা শরীফ এবং ভ্যাটিকানের দিকে দেখুন। মসজিদ, মন্দির ও প্যাগোডার একই অবস্থা। অদ্ভুত একটি দৃশ্য যা আগে কখনো দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। অনুষ্ঠানে মহাখালী থেকে স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Share





Related News

Comments are Closed