ডোমারে শীতের কাপড় কিনতে উপচে পড়া ভিড়
মোঃ রিমন চৌধুরী, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ পৌষের শুরুতে জেঁকে বসেছে শীত। আর ডোমারের ফুটপাত গুলোতে জমে উঠেছে শীতের পোশাক বেচাকেনা। ক্রেতাদের ভীড় লেগে থাকছে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। ফুটপাতে তিল পরিমাণ ঠাই নেই। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সোয়েটার, বেøজার, ট্রাউজার, জ্যাকেট, চাঁদর, কানটুপিসহ নানা ধরনের শীত বস্ত্রের চাহিদা। অপেক্ষাকৃত কম দামে বিভিন্ন ধরনের শীত পোশাক পাওয়া যাচ্ছে ডোমারের ফুটপাতে। মার্কেটের তুলনায় দাম কম হওয়ায় মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন বেশি ভীড় জমাচ্ছেন ফুটপাতে।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার রেল ঘুন্টির মোড়ে লাইনের ধারের ফুটপাত গুলোতে দেখা যায় আধুনিক শীতের পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। বাহারী ডিজানের বিভিন্ন ধরনের শীতের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এবার সব শীতের পোশাকের মধ্যে এবারের ক্রেতাদের চাহিদা উলের তৈরী কাপড়ের উপর। উলের কাপড়ে ওম বেশি থাকে বলে চাহিদা বেশি বলে যানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। শীতের পোশাক কিনতে ভির করছে সাধারন মানুষরা।
ফুটপাতের বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফুটপাতে উলের সোয়েটার পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে ৩০০ টাকায়। বাহারি ডিজাইনের জ্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। ফুল হাতা গেঞ্জির দাম ৫০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত।
শীতের পোশাক কিনতে আসা চিকনমাটির বাসিন্দার রওশনআরা বেগম বলেন, অনেক খুঁজে আমার ছেলে ইমরান (৮) এর জন্য ৩টি ট্রাউজার কিনেছি এবং নিজের জন্য একটি উলের সোয়েটার কিনেছি। শীত বেশি পড়ার কারণে দোকানীরাও দাম বেশি চাচ্ছে। অনেক দর-দামের পর ট্রাউজার ৩টি কিনেছি ৩০০ টাকায়। অন্য সময় এগুলো ৬০-৭০ টাকায় পেতাম। আমরা স্বল্প আয়ের মানুষ। কম দামে ভালো কিছু কাপড় পাওয়া যায় ফুটপাতে। তাই আমাদের শেষ ভরসা ফুটপাতই।
সান্তা আক্তার একজন গৃহিনী। তার ৬ মাস বয়সের একটি শিশু ছেলে রয়েছে। শীতের আভাসের জন্য চলে এসেছে ছেলের জন্য গরম পোশাক কিনতে ফুটপাতে। সান্তা আক্তার বলেন, শীত তো এসেই পড়েছে। সকাল ও রাতে ভালোই শীত পড়ছে। শিশুদের তো গরম কাপড় লাগবেই। তাই গরম পোশাক কিনতে আসলাম ফুটপাতে। কিন্ত বাচ্চাদের পোশাকের দাম গার্মেন্টস এর থেকে অনেক কম, পোশাকও ভালো পাওয়া যায়।
স্বামী রিমন ও স্ত্রী সানু আক্তার একসঙ্গে এসেছেন শীতের কেনাকাটা করতে ফুটপাতে। সানু আক্তার বলেন, ঋতু পরিবর্তন হয়েছে। পরিবর্তিত ঋতুর দিকে লক্ষ রেখে তো চলতে হবে। এছাড়া সবাই কম বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। শীতের পোশাকের দামগুলো গার্মেন্টস এর থেকে অনেক কম।
ফুটপাতের দোকানি জাকির বলেন, দুই দিন ধরে বেচা কিনা ভালো হচ্ছে। সবাই উলের কাপড় বেশি কিনছেন। অন্যান্য পোশাক আছে কিন্তু তার থেকে উলের কাপড় মহিলারা বেশি কিনছেন।
আরেক বিক্রেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, পোশাকগুলোর মূল্য কম হবার কারন আমরা এইগুলো সরাসরি গার্মেন্টস থেকে আনি। তাই আমরা দাম কম রাখি।
ফুটপাতের দোকান গুলোতে বড়দের পোশাকের তুলনায় বেশি বিক্রি হচ্ছে ছোটদের পোশাক। ফুটপাতে প্রায় সব দোকানেই ক্রেতাদের ভির দেখা গেছে।
শীতের পোশাকের মধ্যে ক্রেতাদের পছন্দের মধ্যে রয়েছে, সামনের দিকে চেন বা বোতাম দেয়া সোয়েটার বা জ্যাকেট, গোল গলা, ভি গলা কলারের সোয়েটার, টি-শার্ট, ব্লেজার ইত্যাদি। আরো রয়েছে কার্টুন চরিত্রের বাচ্চাদের বিভিন্ন টুপি। বাহারী কাজ ও ডিজাইনের শালের কালেকশনও ছিল লক্ষণীয়। এছাড়া বিভিন্ন রকমের কম্বলও বিক্রি করতে দেখা যায়।
Related News
সারাদেশে এক কোটি মানুষ মাদকের সাথে সম্পৃক্ত: পুলিশ সুপার
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দিনাজপুরের পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা বলেছেন, সারাদেশে প্রত্যক্ষRead More
পঞ্চগড়ে মাইটিভির প্রতিনিধি আবু তাহের আনসারীর দাফন সম্পন্ন
Manual6 Ad Code মো. সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের গণমাধ্যমকর্মী ও মাইটিভির পঞ্চগড়Read More



Comments are Closed