Main Menu

বিজয়ের আলোকসজ্জায় র‌ঙিন সিলেট

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্য-বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার চিরস্মরণীয় দিন। বিজয় দিবস উপলক্ষে লাল-সবুজ বাতি দিয়ে সাজানো হয়েছে বহুতল ভবন; আবার কোথাও শোভা পাচ্ছে নীল-সাদা বা হলুদ বাতিও। বর্ণিল এমন আলোকসজ্জায় র‌ঙিন নগর যেন পরিণত হয়েছে বিশাল এক লাল-সবুজের পতাকায়।

রোববার সন্ধ্যায় নগর ঘুরে দেখা গেছে, নগরভবন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সার্কিট হা্উস থেকে শুরু করে নগরীর বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বিভিন্ন রঙের ও বর্ণের এসব আলোকসজ্জা উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। মনকাড়া এমন আলোকসজ্জায় মুগ্ধ অনেকেই।

সোমবার ভোরের প্রথম প্রহরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিজয় দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে র‌্যালি ও সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে বিভিন্ন কর্মসূচি উদযাপন করা হয়। এছাড়া দিনব্যাপী বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠনসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথাযথ মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপন করছে। তাছাড়া কারাগার, সরকারি হাসপাতাল, শিশু সদনসমূহে ভালো খাবারও পরিবেশন করা হচ্ছে।

মহান বিজয় দিবসে নগরীর বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ব্যক্তিগত গাড়ি ও সরকারি অফিসে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। পতাকা উত্তোলন থেকে বাদ যায়নি রিকশা ও পিকাপ ভ্যানসহ সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোও।

দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিকামী বাঙ্গালী জনতা রক্তের বিনিময় অর্জন করে স্বাধীনতা। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার বিজয়ে দিন আজ ১৬ ডিসেম্বর। বাঁধভাঙা আনন্দের দিন। বাঙালি জাতির জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের দিনটি আজ। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণের দিন।

পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ, নিপীড়ন আর দুঃশাসনের জাল ভেদ করে ১৯৭১ সালের এই দিনে বিজয়ের প্রভাতী সূর্যের আলোয় ঝিকমিক করে উঠেছিল বাংলাদেশের শিশির ভেজা মাটি। অবসান হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সাড়ে তেইশ বছরের নির্বিচার শোষণ, বঞ্চনা আর নির্যাতনের কালো অধ্যায়।

প্রায় ৯২ হাজার পাকিস্তানি সৈন্যের ঐতিহাসিক রোসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সূচিত হয়েছিল এই মহেন্দ্রক্ষণ। হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই করে এইদিনই বীর বাঙালি জাতি ছিনিয়ে এনেছিল লাল-সবুজের পতাকা। পৃথিবীর বুকে সৃষ্টি হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

Share





Related News

Comments are Closed