Main Menu

জামায়াতে ইসলামীর নতুন আমীরের শপথ গ্রহণ

Manual1 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২০২০-২০২২ কার্যকালের জন্য নবনির্বাচিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্যদের উপস্থিতিতে শপথ নিয়েছেন। তাকে শপথ পাঠ করান জামায়াতে ইসলামীর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম মাসুম। শপথ শেষে দেশবাসী ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

শুরুতে মহান রব্বুল আলামীনের প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করেন ডা. শফিকুর রহমান। আমীরের দায়িত্ব পালনে তিনি দেশবাসীর সহযোগিতা ও দোয়া চান। সদ্য সাবেক আমীর মকবুল আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

Manual5 Ad Code

নতুন আমীরে জামায়াত যুগে যুগে ইসলামী আন্দোলনের বীর মুজাহিদ ও শহীদদের স্মরণ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে জাতীয় নেতৃবৃন্দের অবদানের কথা উল্লেখ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ফাঁসিকাষ্ঠে শাহাদাত এবং কারাগারে মৃত্যুবরণকারী শীর্ষ জামায়াত নেতাদের শাহাদাত কবুলিয়াতের জন্য মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেন।

প্রশাসনের নির্বিচারে বিচার বহির্ভূত হত্যা এবং গুমের কঠোর সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াত, ছাত্রশিবির, ছাত্রীসংস্থাসহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং কারাগার থেকে মুক্তি দেয়ার আহŸান করেন। অসুস্থ বন্দিদের উপযুক্ত চিকিৎসার জন্যে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।

Manual5 Ad Code

দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার বলে কিছু নেই বলে মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত সরকার নয়। আওয়ামী লীগ ও প্রশাসন একযোগে মধ্য রাতে ডাকাতি করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে। আইনশৃঙ্খলাসহ দেশের সার্বিক নাজুক পরিস্থিতির জন্য দীর্ঘদিন জনগণের নির্বাচিত সরকার না থাকাকে দায়ী করেছেন আমীরে জামায়াত।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার উদাহরণ টেনে ডা. শফিকুর রহমান দেশের বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতায় সরকারের হস্থক্ষেপে হতাশা ব্যক্ত করেন। দেশে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধির জন্য ভংগুর শিক্ষাব্যবস্থা এবং বিদেশী অপসংস্কৃতির প্রভাবকে দায়ী করেন।

রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা, সীমান্ত দিয়ে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পুশ ইন প্রসঙ্গে সরকারের দুর্বল পররাষ্ট্রনীতিকে দায়ী করেন ডা. শফিকুর রহমান। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিমদের ওপর জুলুম নিপীড়নের প্রতিবাদ জানান। নিপীড়ন বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে ওআইসি, জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতাদের প্রতি আহŸান করেন।

দেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গৃহিত বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন আমীরে জামায়াত। দেশে সুশিক্ষার প্রসার, চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান তৈরিতে জামায়াতে ইসলামী ভবিষ্যতেও তৎপর থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Manual6 Ad Code

জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে জানতে এবং মূল্যায়ন করতে বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ এবং আলেমদের প্রতি আহŸান করেন ডা. শফিকুর রহমান। ইসলামী আন্দোলনের পরিচয় তুলে ধরে দলীয় নেতকর্মীদের সর্বোচ্চ ধৈর্য এবং সাংগাঠনিক শৃঙ্খলা মেনে চলার আহŸান জানান।

প্রতিটি মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে বলে তিনি জামায়াত নেতৃবৃন্দকে উদ্বুদ্ধ করেন। দাওয়াতী কাজে আরো মনোনিবেশ করার আহŸান করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিবার, স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতরা আগে দাওয়াত পাওয়ার হকদার।

জামায়াত নেতকর্মীদের ইসলামী আন্দোলনের বিজয়ে পার্থিব সফলতার চেয়ে আখেরাতের সফলতাকে অগ্রাধিকার দিতে বলেন। নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, মৌলিক মানবীয় গুণাবলী ও চারিত্রিক মাধুর্যতা দিয়ে সকলের মন জয় করার আহŸান করেন।

জামায়াত আমীর সকল রাজনৈতিক মত ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের প্রতি জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন। জামায়াতে ইসলামীর দেশ গড়ার রাজনীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

ডা. শফিকুর রহমানের সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত;

নবনির্বাচিত জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আবরু মিঞা ও মাতা মরহুমা খাতিবুন নেসা। সিলেট মহানগরীর শাহপরান থানার সবুজবাগ তার স্থায়ী ঠিকানা।

ডা. শফিকুর রহমান ১৯৮৩ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সিলেট শহর সভাপতি ছিলেন। ১৯৮৫ সালে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য হন। ১৯৮৬-৮৮ সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি, ১৯৮৯-৯১ নায়েবে আমীর এবং ১৯৯১-৯৮ আমীর ছিলেন। ১৯৯৮-২০০৭ সিলেট মহানগরী জামায়াতের আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ডা. শফিকুর রহমান ১৯৯৮ সালে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মনোনীত হন। ২০১০ থেকে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, ২০১১ থেকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং ২০১১ এর সেপ্টেম্বর থেকে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ও ২০১৭ থেকে সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ডা. শফিকুর রহমান একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান, একটি স্কুল এন্ড কলেজ, একটি উচ্চ বিদ্যালয় এবং একটি কামিল মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অনেক এতিমখানা ও মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা এবং বহু দাতব্য চিকিৎসালয়, ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা।

তিনি সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, গ্রীস, বেলজিয়াম, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, আরব আমিরাত, ফিলিপাইন, ব্রুনাই প্রভৃতি দেশ ভ্রমণ করেছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা ১৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। মধ্য রাতের ভোট ডাকাতি ও ভোটের দিন কেন্দ্র থেকে তার সকল এজেন্ট বের করে দেওয়ার পরেও তিনি ৩৯ হাজার ৭১টি ভোট পেয়ে রাজধানী ঢাকার আসন সমূহের বিরোধী দলের প্রার্থীদের মধ্যে ভোটপ্রাপ্তির দিক থেকে দৃষ্টান্তস্থাপন করেন।

তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। তার স্ত্রী ডা. আমিনা শফিক ৮ম জাতীয় সংসদের সদস্যা ছিলেন। তার দুই মেয়ে চিকিৎসা শাস্ত্রে উচ্চতর শিক্ষা নিয়েছেন এবং একমাত্র পুত্র এমবিবিএস শেষ বর্ষের ছাত্র।

Manual6 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code