জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট সীমান্ত চোরাকারবারিদের স্বর্গরাজ্য!
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট সীমান্ত চোরাকারবারিদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এ দুই উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে বিভিন্ন জিনিস পাচার করা হচ্ছে। আবার ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে নিয়ে আসা হচ্ছে বিভিন্ন পণ্য। চোরাকারবারিদের ঠেকাতে বিজিবির ভূমিকা কার্যকর নয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা গেছে, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং জিরো পয়েন্ট, সংগ্রাম সীমান্ত ফাঁড়ি, সেনাটিলা, উদ্ভিদ সংঘনিরোধ কেন্দ্রী, তামাবিল, নলজুরী এবং জৈন্তাপুর উপজেলার খাঁসিনদী, আলু বাগান, মোকামপুঞ্জি, শ্রীপুর, মিনাটিলা, ছাগল খাউরী নদী, কাঁঠালবাড়ী, কেন্দ্রী হাওর, কেন্দ্রীবিল, ডিবিরহাওর, ডিবিরহাওর (আসামপাড়া), ঘিলাতৈল, ফুলবাড়ী, টিপরাখলা, কমলাবাড়ী, গুয়াবাড়ী, বাইরাখেল, হর্নি, কালিঞ্জী, ময়না, জালিয়াখলা, লালাখাল, লালাখাল গ্রান্ড, জঙ্গীবিল, বাঘছড়া, তুমইর, বালিদাঁড়া, ইয়াংরাজা, সিঙ্গারীরপাড় দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন পণ্য চোরাচালান হচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে মটরশুটি, মশুর ডাল, রসুন, স্বর্ণের বার প্রভৃতি ভারতে পাচার হয়। আর ভারত থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, নিন্মমানের চা-পাতা, কসমেটিক্স, সুপারি, হললিক্স, সিগারেট, নাছির বিড়ি ও ভারতীয় গরু বাংলাদেশে আসছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সন্ধ্যা হতে না হতেই জৈন্তাপুর বাজার থেকে বড় বড় ট্রাকযোগে নিয়ে আসা মটরশুটি, মশুর ডালসহ বিভিন্ন পণ্য উল্লেখিত সীমান্তে নিয়ে আসা হয়। এরপর এপার থেকে পণ্য যায় ওপারে, ওপার থেকে পণ্য আসে এপারে। এমনকি দিনেদুপুরেও চোরাচালান হয় বলে অভিযোগ আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি কঠোর ভূমিকা পালন করছে না। মাঝেমধ্যে তারা অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন পণ্য জব্দ করলেও চোরাচালানের সাথে জড়িত হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
জৈন্তাপুর উপজেলার এক প্রবীণ শিক্ষক বলেন, ‘আগে গভীর রাতে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি চোরাই পথে পণ্যসামগ্রী আদান-প্রদান করতো। কখনো ঢালাওভাবে ভারত থেকে দেশে মদ আসতে পারতো না। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশি পণ্যের বিনিময়ে ভারত থেকে মাদক ঢুকছে দেশে।’
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন টমটম চালক এবং ট্রাকচালক বলেন, ‘পেটের দায়ে আমরা চোরাইপণ্য সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে দিয়ে আসি, আবার ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য নিয়েও আসি। এসব পণ্য সামগ্রী আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি। কারন হিসাবে তারা বলেন, সীমান্ত প্রশাসনের লাইনম্যানের সাথে পণ্যের মালিকগণ চুক্তির (লাইন ম্যানেজ) মাধ্যমে এসব পণ্য আদান প্রদান করেন। মাঝে মধ্যে কেউ লাইন ম্যানেজ না করলে সেই মাল আটকা পড়ে বলে শুনেছি। তবে আমরা কখনও আটকা পড়িনি। মাদক সামগ্রীর বিষয় জানতে চাইলে তারা বলে কার্বেনের মধ্যে কি থাকে আমরা কখনও দেখিনি, কারন সময় খুব কম থাকে, দ্রত নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছে দিতে হয়। তবে বেশির ভাগ সময়ে গরুর চালান প্রবেশ করে বলে তারা জানান।
এবিষেয়ে জৈন্তাপুর উপজেলার অধিনস্থ দুটি ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প ও কোম্পনাী কামান্ডারদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। আমরাও বিভিন্ন ভাবে মালামাল আটক করছি। লাইনম্যান সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন বিজিবির কোন লাইনম্যান বা সোর্স নাই, আমাদের নামে কেউ আর্থিক লেনদেন করলে কখনও অভিযোগ আসনি। চোরাচালনা বন্ধে বিজিবি নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
Related News
গোলাপগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচে চ্যাম্পিয়ন ‘হাকালুকির বাঘ’
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোলাপগঞ্জে বৃহত্তর চন্দরপুর সিএনজি ৭০৭ শাখা ও যুবসমাজেরRead More
জকিগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা মা ও মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জকিগঞ্জে মা ও ৪ বছরের মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহRead More




Comments are Closed