Main Menu

মৃত বাবাকে ম্যাসেজ পাঠানোর ৪ বছর পর রিপ্লাই!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মৃত বাবার নম্বরে নিয়মিত মেসেজ পাঠাতেন মেয়ে। উদ্দেশ্যে একটাই, বাবা মারা যাওয়ার কষ্ট ভুলে থাকা। এক নয়, দুই নয়, চার বছর ধরে নিয়মিত মেসেজ পাঠান তিনি। তার পর একদিন ঠিকই মেসেজের জবাব চলে আসে! এতে যার পর নেই বিস্মিত হন ২৩ বছরের চেস্টিটি প্যাটারসন নামের ওই তরুণী।

খবরে বলা হয়েছে, বাবাকে খুব মিস করতেন চেস্টিটি। সে কথাই জানাতেন রোজ মেসেজে। জানাতেন, কতটা ভালবাসেন তিনি বাবাকে। জীবনে যে দিন বিশেষ কোনও ঘটনা ঘটত, যেমন চেস্টিটির গ্র্যাজুয়েট হওয়ার দিনটা- সে দিন বেশিই দীর্ঘ হতো মেসেজ। ভালবাসায় কষ্টে উপচে পড়ত প্রতিটি লাইন।

চেস্টিটি জানতেন, এই মৃত মানুষের কাছে জাগতিক মেসেজ পৌঁছায় না। তার বাবার কাছেও পৌঁছাচ্ছে না। এত কথা মোটেও জানতে পারছেন না তার বাবা। কিন্তু মন বলত, এমনি করেই বাবার সঙ্গে জুড়ে থাকবেন তিনি। নাই বা জানতে পারলেন বাবা, কিন্তু তার জানানো তো হলো! শেয়ার তো করা হলো! বাবা চলে যাওয়ার পরে ক্যান্সার হয়েছিল চেস্টিটির। দীর্ঘ লড়াইয়ে সেরে ওঠেন তিনি। সেই সেরে ওঠার খবরও বড় আনন্দ করে ‘বাবাকে’ জানিয়েছিলেন চেস্টিটি। এভাবেই চলছিল রোজ। চার বছর ধরে।

হঠাৎ এলো রিপ্লাই! চমকে উঠে সে মেসেজ খুললেন চেস্টিটি। তাতে লেখা, “আমার নাম ব্র্যাড। আমি তোমার বাবা নই। কিন্তু রোজ তোমার মেসেজ পাই। ২০১৪ সালোর আগস্ট মাসে আমার মেয়ে মারা যায় একটি গাড়ি দুর্ঘটনায়। তার এক বছর পর থেকেই তোমার মেসেজ আসতে শুরু করে। এই মেসেজগুলোই আমায় বাঁচিয়ে রেখেছে। যখন তুমি মেসেজ করো, আমার মনে হয়, আমি ঈশ্বরের বার্তা পেলাম।”

চমকে ওঠেন চেস্টিটি। তার মেসেজ যে বাবার কাছে পৌঁছাচ্ছে না এ কথা জানলেও, তার মেসেজ পেয়ে যে অন্য কোনও কন্যাহারা বাবা নতুন করে বাঁচছেন, সন্তানস্নেহে সিক্ত হচ্ছেন, তা তিনি ভাবতেও পারেননি।

ওই মেসেজে আরও লেখা ছিল, “আমি চার বছর ধরে তোমার প্রতিটা কথা শুনছি। আমি বোধ হয় সবচেয়ে কাছ থেকে তোমায় বড় হয়ে উঠতে দেখছি।”

অচেনা এই বাবা-মেয়ের মেসেজের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় সামনে আসার পরই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি নেটিজেনরা। আবেগে, মমতায় ভেসে গেছেন তারা।

ব্র্যাড আরও লিখেছেন, “আমার সেই প্রথম দিন থেকেই খুব ইচ্ছা করতো, তোমায় রিপ্লাই দিই। কিন্তু আমি তোমার বিশ্বাস ভাঙতে চাইনি। তুমি নিশ্চয় তোমার বাবার জন্যই এগুলো পাঠাতে। কিন্তু এগুলো যে অন্য কেউ পড়ছে, তা জানলে হয়তো তোমার খারাপ লাগতো।”

Share





Related News

Comments are Closed