Main Menu

দুর্গাপুরে অবৈধভাবে দখল হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা

Manual8 Ad Code

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা সদরে সরকারী সম্পদ, ভূমি, খাল-জলাশয় ও নদী ভরাট করে অবৈধভাবে চলছে দখলের মহোৎসব।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায় তেরীবাজার ফেরীঘাট থেকে দক্ষিণ দিকে সুমেশ্বরী নদীর ব্রীজ হয়ে দক্ষিন দিকে প্রায় তিন কি: মি: পর্যন্ত সুমেশ্বরী নদীর পাড় ও দুর্গাপুর রক্ষাবাদ ঘেষে বহু ভূমি অবৈধ দখলে চলে গেছে। নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় শতাধিক স্থাপনা।

স্থানীয় এম কে সি এম পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে প্রায় তিনদিক জলাশয় ভরাট করে মসজিদ-মন্দির নির্মাণ সহ বেশ কিছু ভূমি প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। স্থানীয় বেলতলী খালের ৪.৭৫ কিঃ মিঃ দৈর্ঘ এবং প্রস্থ প্রায় ৩০ ফুট এর দুই তৃতীয়াংশ ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে বসত বাড়ী।

Manual1 Ad Code

আত্রাখালী ব্রীজের মোড় থেকে সরকারী হাসপাতালের পশ্চিম পার্শ্বে খালের উপর মাটি ভরাট করে আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অস্থায়ীভাবে চালাচ্ছে রমরমা ব্যবসা। স্থানীয় জনৈক অশোক পন্ডিত খালটির বেশ কিছু অংশ বালু ভরাট করে দখলে নিয়েছে। দখলের মহোৎসবে রয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের একজন প্রতিনিধি।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার ও প্যানেল মেয়র মোঃ আক্রাম খান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন ১৯৮২ সাল থেকে এ খালটি দখলের মহোৎসব চলছে। বহু বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পৌরবাসীর জলাবদ্ধতা নিরসনে মাটি ভরাট, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ প্রতিহত করার আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারীতার গাফিলতিতে সরকারী জায়গা বেদখল হয়ে যাচ্ছে বলে এমনটি বললেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Manual4 Ad Code

সুসং মহারাজার বংশধর কুমার দ্বীজেন্দ্র সিংহ শর্মা ১৮৮৫ সালে উপজেলা সদরে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বিকাশের লক্ষে ২৫ শতাংশ জায়গার উপর একটি বিশাল টিনের ঘরের ভিতর “কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী” প্রতিষ্ঠিত করেন। কালের আবর্তে ঘরটি বিধ্বস্থ হয়ে গেলে তা লুটপাট হয়ে যায় এবং এর কিছু জায়গা আশেপাশের বাসিন্দারা দখল করে ইমারত নির্মাণ করেন।

Manual1 Ad Code

আওয়ামিলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় জনতার চাপের মুখে স্থানীয় প্রশাসন একটি বিল্ডিং নির্মাণ করলেও এর দখল হয়ে যাওয়া ভূমি আজও উদ্ধার করতে পারেনি।

অপরদিকে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের বেশ কাছে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দক্ষিণ দিকে ও কমিশনার বানী তালুকদারের বাড়ীর পিছনে এবং তেরীবাজার ফেরীঘাট রোডের উত্তর পার্শ্বে একটি বিশাল জলাশয় বালু ভরাট করে বসতি নির্মাণ করে দখল করে নেয় স্থানীয়রা।
এর মধ্যে কিছু অংশ পৌরসভা ড্রেনের ব্যবস্থা করে একটি পাকা রাস্তা নির্মান করেন। ঐ রাস্তার সংলগ্ন প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি গ্রাম থেকে আসা জনৈক সিরাজ বালু ভরাট করে টিনের চালা নির্মাণ করে দখল করে নেয় এবং আশেপাশের কিছু বাসিন্দা এই জলাশয়ের উপর প্রকাশে খোলা পায়খানা নির্মাণ করে পরিবেশ বিনষ্ট করা হয়েছে। এইগুলো দেখার যেন কেউ নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন।

দুর্গাপুর পৌর মেয়র হাজী আঃ ছালাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন সরকারী জায়গা উদ্ধার করা আমার কোন এখতিয়ার নেই। তবে উপজেলায় বিভিন্ন সরকারী খাল-জলাশয়, ভূমি দখল হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি নিস্কাশনে ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা এলেই পানিতে ডুবে যায় সদর পৌরসভা। সরকারী খাল, ভূমি, নদী জলাশয় উদ্ধারের জন্য বর্তমান সরকার অবৈধ ভূমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনা করায় জনসাধারন সাধুবাদ জানিয়েছেন।

Manual1 Ad Code

এ ব্যাপারে স্থানীয় সুশাসনের জন্য নাগরিক কমিটি, প্রেসক্লাব, সাহিত্য সমাজ, সার্বজনীন নাগরিক কমিটি ও সুশীল সমাজ গত ১২ সেপ্টেম্বর সরকারী ভূমি উদ্ধার সহ খাল জলাশয় রক্ষার দাবীতে একটি মানববন্ধন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা খানম এর মাধ্যমে জেলা প্রশাসক মইনুল ইসলাম বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করেন।

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা খানম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এই উপজেলায় সবে মাত্র এসেছি। এখানে অনেক আগে থেকেই চলছে খাস জায়গা দখলের কার্যক্রম। অবৈধ দখলকারী যতই শক্তিশালী হউক না কেন দখলকারীদের উচ্ছেদ করতে সরকার সচেষ্ট। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code