সিলেটে অটোরিক্সার ধাক্কায় সিকিউরিটি গার্ডের মৃত্যু
বিশেষ সংবাদদাতা: সিলেট নগরীর আম্ভরখানা এলাকায় একটি বেপরোয়া গতির সিএনজি চালিত অটোরিক্সার ধাক্কায় আব্দুর রশীদ (৭০) নামের এক সিকিউরিটি গার্ডের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুর রশীদ মঈন কমপ্লেক্সে দিনের বেলা সিকিউরিটি গার্ডের দায়িত্ব পালন করতেন।
আম্বরখানা অটোরিক্সা সিএনজি স্ট্যান্ড ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নগরীর হাউজিং এস্টেটের পারিজাত গলির ১৩নং কলোনীর বাসা থেকে বুধবার সকালে মঈন কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে রশীদ বেরিয়ে যান। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মঈন কমপ্লেক্সের নিকটবর্তী ভাসমান চায়ের দোকান থেকে চা খেয়ে মঈন কমপ্লেক্সের গেইটে আসা মাত্র একটি অটোরিক্সা (নং ১২-৫৩১১) স্ট্যান্ডে সিরিয়াল নাম্বার পেতে বেপরোয়া গতিতে এসে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে রশীদ অটোরিক্সার সামনের চাকার নিচে পড়ে মাথায় আঘাত লেগে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। গুরুতর আহত অবস্থায় উপস্থিত লোকজন ও পথচারীরা রশীদকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরে খবর পেয়ে নিহতের পরিবার ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে রশীদের চিকিৎসায় অবহেলা দেখে সেখান থেকে দক্ষিণ সুরমাস্থ নর্থইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে রশীদ মৃত্যুবরণ করেন। ওইদিন বাদ জোহর হযরত শাহজালাল রহ: মাজার কবরস্থানে রশীদের লাশ দাফন করা হয়।
নিহত আব্দুর রশীদ সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার ভাটিপাড়ার মৃত জারা শেঠ এর পুত্র। তিনি দুই স্ত্রী, ৩ ছেলে, ৪ মেয়ের জনক। পিতার মৃত্যু শোকে ছোট মেয়ে তানিয়া জ্ঞান হারিয়ে নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘাতক অটোরিক্সাটি ঘটনার পর থেকে লাপাত্তা হয়ে গেছে। চালক সুজন মিয়া পলাতক রয়েছে। চালক সুজন মিয়ার বাড়ী সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের লামারগাঁও গ্রামে।
সিলেট নগরীর আম্বরখানাস্থ মঈন কমপ্লেক্সের পরিচালক মহসিন বলেন, রশীদ আহত হওয়ার পরের দিনই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
আম্বরখানা অটোরিক্সা স্ট্যান্ডের ম্যানেজার বাচ্চু মিয়া মোবাইল ফোনে জানান, ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবহিত। ঘাতক অটোরিক্সা ও এর চালক কোথায় আছে প্রশ্নে তিনি জানাতে পারেননি।
ঘটনাটি নিয়ে মঈন কমপ্লেক্সের পরিচালক ও অটোরিক্সা স্ট্যান্ড কর্তৃপক্ষ এবং নিহতের পরিবারের মধ্যে ঘটনার আপোষ মীমাংসার দফারফা চলছে। তবে একটি সূত্র জানায়, নিহতের পরিবারকে ঘাতক অটোরিক্সা চালক সুজন মিয়া মাত্র ৩০ হাজার টাকা দিয়ে আপোষ করে ফেলেছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন রশীদের জীবনের মূল্য কি- মাত্র ৩০ হাজার টাকা! এ নিয়ে জনমনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
কোতোয়ালী থানার ওসি তদন্ত রীতা জানান, এ ব্যাপারে থানায় কোন অভিযোগ আসেনি।
Related News
শাবিপ্রবি ছাত্রদলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ডেঙ্গু সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিRead More
১০ অক্টোবর থেকে সিলেটে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট অঞ্চলে প্রায় তিন বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাণিজ্য মেলা। আগামীRead More



Comments are Closed