সুনামগঞ্জে রায় জালিয়াতি করে ভূমি আত্মসাত
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার হরিনাপাটি মৌজার সেটেলমেন্ট জরিপ কাল হয়ে এসেছিল বখতিয়ার রাজা চৌধুরীর পরিবারে। সেটেলমেন্ট জরিপ চলাকালে কর্মকর্তারা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে অসংখ্য মানুষকে হয়রানি করেছেন। তারা মৃতকে জীবিত এবং দিনকে রাত করেছেন টাকার বিনিময়ে। সৎ ভাই আনোয়ার রাজা চৌধুরী আদালতের একটি রায়কে জালিয়াতি করে চলমান জরিপকালে সেটেলমেন্টে উপস্থাপন করে আমার মায়ের পুরো অংশ প্রায় ২৫ একর জমি গ্রাস করে। রায় জালিয়াতির বিষয়টি আদালতে প্রমাণিত হলে আনোয়ার রাজা চৌধুরীকে জেলে প্রেরণ করে আদালত। এপরও সে ক্লান্ত হয়নি। প্রাপ্য অংশটুকু প্রিন্ট পর্চা ছাপার আগেই ন্যায় বিচারের মাধ্যমে ফিরে পেতে সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগের প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি।
শনিবার (৩ আগস্ট) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার হরিনাপাটি গ্রামের মরহুম রাজাওর রহমান চৌধুরীর পুত্র বখতিয়ার রাজা চৌধুরী। তিনি বর্তমানে সিলেট নগরীর ১৮৩/১ পশ্চিম পীরমহল্লার বাসীন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আম্বরখানা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বখতিয়ার রাজা চৌধুরীর ফুফাতো ভাই মরহুম শহীদ চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে সুনামগঞ্জের একটি কোম্পানী কমান্ডার ছিলেন। সে সুবাধে বাড়িটি ছিল মুক্তিবাহিনীর ঘাটি। হানাদার বাহিনী আমাদের বাড়িটি পুড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। আমাদের সেই পৈত্রিক বাড়িসহ বিশাল ভূ-সম্পত্তি একটি পক্ষ জবরদখলের জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের সক্রিয় সহযোগিতায় দুস্কৃতিকারী ও জালিয়াতকারী আনোয়ার রাজা চৌধুরী বাড়ি এবং জমি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
২০০৭ সালে সেটেলমেন্ট জরিপের সময় সিলেট শহরে থাকা স্বত্তে¡ও দুই ভাইয়ের নামে মাঠ পর্চা সঠিকভাবেই তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তসদিকের সময় বিপুল পরিমাণ টাকার বিনিময়ে সেটেলমেন্ট কর্মকর্তারা আমাদের মা-বাবার রেকর্ডীয় প্রায় ৩০ একর জমি আনোয়ার রাজা চৌধুরীসহ কতিপয় লোকের নামে দিয়ে দেন। আমাদের নামে ছাপা ও মাঠ পর্চা থাকার পরও অবৈধভাবে অন্যের নামে রেকর্ড দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দেননি। একমাত্র ছোট ভাই হুসনেক রাজা চৌধুরী ন্যায় বিচারের জন্য সেটেলমেন্ট অফিসে দ্বারে দ্বারে ঘুরে অসুস্থ হয়ে অবশেষে মৃত্যুবরণ করেন। তসদিক কার্যক্রম চলাকালে আমিন সাহেবরা আমার অংশীদারের বাসায় থেকে এ দুস্কর্ম করেছেন। তসদিক অফিসার হুমায়ূন কবির আমাদের কাছে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করলে তা দেওয়া হয়নি তাই বাড়ি ও জমি থেকে বঞ্চিত করা হয়। সেটেলমেন্টের বড় বড় রাঘব বোয়ালরা প্রতিপক্ষের নিকট থেকে কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে ভূমিহীন করছেন। সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার জাকির হোসেন সমস্ত কাগজাদি দেখে আশ্বাস প্রদান করেন কিন্তু ৪ বছর অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ফলাফল পাইনি। দীর্ঘ তের বছর ধরে মানসিক, আর্থিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এখন আমি ভেঙ্গে পড়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি আমি ঢাকার তেজগাঁও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরে যাই। তখনকার মহাপরিচাক শেখ আব্দুল আহাদ আমার কাগজাদি দেখে সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসারকে দ্রত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এতে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার তদন্তের নির্দেশনা জারি করলেও অদৃশ্য হাতের ইশারায় সেটি স্থগিত করে দেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ১১ জুলাই তৃতীয়বারের মত সরেজমিন তদন্ত করতে সিলেটের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার সৈয়দ ফারুক আহমদসহ ৯জন কর্মকর্তা-কর্মচারি আমার গ্রামে আসতে চাইলে পানিতে ঠাই না পেয়ে গ্রাম থেকে দূরে একটি হাটে পরিত্যক্ত কক্ষে বসে আমার বক্তব্য না শুনে তিনি আমাকে ভাড়াটে গুন্ডা দিয়ে গালিগালাজ করে তথাকথিত তদন্ত শেষ করে সিলেট চলে যান।
অতিষ্ঠ হয়ে আনোয়ার রাজা চৌধুরীসহ তার সহযোগী সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দায়ের করি। যার নং ১৪/২০১৭। অভিযোগের প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো প্রতিকার পাইনি।
সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করতে বখতিয়ার রাজা চৌধুরী মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভূমিমন্ত্রী, দুদকের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
Related News
দক্ষিণ সুরমায় ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধকে হত্যা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ছুরিকাঘাতে নূর ইসলাম (৫৫) নামে এক বৃদ্ধকে হত্যা করাRead More
ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব রক্ষায় সিলেটে বাণিজ্য মেলা বন্ধের দাবি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট, তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট (লোডশেডিং) ও ব্যবসায়িক মন্দার মধ্যে সিলেটেRead More



Comments are Closed