Main Menu

সংরক্ষণের অভাবে পড়ে রয়েছে রোয়ালবাড়ির দূর্গ

মো. কামরুজ্জামান, নেত্রকোনা প্রতিনিধি: অযত্নে, অবহেলায় সংরক্ষণের অভাবে পড়ে রয়েছে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার সুলতানি আমলের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা রোয়াইলবাড়ির দূর্গ। কালের আবর্তে তার জৌলুস হারিয়ে এখন তা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দ্রুত সময়ে সংরক্ষণ না করতে পারলে হারিয়ে যেতে পারে পুরনো এ দূর্গটি। এটিকে অচিরেই সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়ার দাবী স্থানীয়দের।

নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বেতাই নদীর তীরে রোয়াইলবাড়ি নামক স্থানে ৪৬ একর জমির উপর অবস্থিত প্রাচীন রোয়াইলবাড়ির দূর্গটি। এটি ‘কোটবাড়ী দুর্গ’ নামেও পরিচিত। পূর্ব-পশ্চিম দিকে লম্বা ও প্রাচীর দ্বারা বিভক্ত। দূর্গের প্রাচীর নির্মাণে ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও, দূর্গে রয়েছে একটি পুকুর, দুটি ঢিবি, একটি কবরস্থানসহ বেশকিছু প্রাচীন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ। সুলতানি আমলের এই দূর্গের স্থাপনা হিসেবে বর্তমানে ছাদবিহীন কিছু ইমারত অবশিষ্ঠ রয়েছে। ৮০-এর দশকে আবিষ্কৃত এ স্থাপনাটি ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে নথিভূক্ত করে। দূর্গটি সংরক্ষিত ঘোষণার পর ১৯৯১-৯৩ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এখানে খননকাজ পরিচালনা করে প্রাচীন ইটের ভংগ্নাংশ, মৎপ্রাত্র, মূর্তি ও মূল্যবান কিছু পুরাকীর্তি আবিষ্কার করে। অনেকেই মনে করেন, সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ্-এর পুত্র নছরত শাহ্, এ অঞ্চলে বসবাসের সময় দূর্গটি সম্প্রসারণ করেন। পরবর্তিতে ঈশা খাঁ ও তার পরবর্তি শাসকের আমলেও দূর্গে ব্যাপক সম্প্রসারণের কাজ করা হয়।

রাস্তা-ঘাটসহ দূর্গের পুরনো জৌলুস ফিরিয়ে আনতে পারলে একদিকে পর্যটকসহ আগামী প্রজম্মের কাছে হবে একটি শিক্ষণীয় স্থান অন্যদিকে সরকার পাবে অতিরিক্ত রাজস্ব আয়।

দূর্গটি সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য্যবর্দ্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে, অচিরেই এই দূর্গটি পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

সুলতানি আমলের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই দূর্গটিকে সঠিক সংরক্ষণের কাজে এগিয়ে আসবে সরকার এমনটি প্রত্যাশা নেত্রকোণাবাসীর।

0Shares





Related News

Comments are Closed