Main Menu

সিলেটে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম : টানা পাঁচদিনের বৃষ্টি ও ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের তথ্যমতে, নদ-নদীতে পানি বাড়ার পরিমাণ অপরিবর্তিত রয়েছে।

সুরমার পানি কমলেও প্লাবিত এলাকাগুলো এখনো পানিতে নিমজ্জিত আছে। ফলে এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছে জেলার পাঁচ উপজেলার দুই লক্ষাধিক লোক।

বন্যা পূর্ভাবাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে রবিবার বিকেল চারটা পর্যন্ত সিলেটের কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১.৪২ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা শনিবার বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ১.৩৪ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

সিলেট সদর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি শনিবার বিপদসীমার .৫০ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও রোববার বিপদসীমার দশমিক ৬১ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বিয়ানীবাজারের শেওলা পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার দশমিক ৯৮ মিটার উপরে। যা শনিবার বিপদসীমার দশমিক ৬২ মিটার উপরে ছিল।

জকিগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার দশমিক ৭১ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যা শনিবার বিপদসীমার ১ দশমিক ২৮ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

তবে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সারি নদীর পানি বিপদসীমার নিচে অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সারী নদীতে রোববার বিপদসীমার ১ দশমিক ৬৩ মিটার নিচে অবস্থান করছে যা শনিবার ১ দশমিক ১২ মিটার নিচে ছিল।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুজ্জামান সরকার জানিয়েছেন, সিলেট বিভাগের বন্যা পরিস্থিতির অবস্থা নাজুক। বিভাগের প্রতিটি নদীর পানি বাড়ছে। তবে রোববার সিলেটের নদ-নদীতে পানির পরিমাণ তেমন বৃদ্ধি পায়নি। দু’একটিতে কিছুটা বেড়েছে আবার বেশ কয়েকটিতে বিপদসীমার কাছাকাছি কিংবা নিচে অবস্থান করছে। নদীর পানি বাড়লে বন্যা পরিস্থিতি খারাপ হবে।

এদিকে, রোববার দিনভর বৃষ্টি ছিলো সিলেটে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। এতে নিম্নাঞ্চলে বন্যার পাশাপাশি নগরীর কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতাও দেখা দিয়েছে। সিলেট সদর, গোয়াইনগাট, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলার বেশ কিছু এলাকা বন্যাক্রান্ত হয়েছে। এসব উপজেলার আঞ্চলিক অনেক সড়ক এখনো পানির নিচে। বন্ধ রয়েছে শতাধিক স্কুলে পাঠদান। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে পানিবন্দি মানুষদের।

সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে বন্যা আক্রান্ত উপজেলাগুলোতে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে। আমাদের কাছে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সিলেটের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ বন্যায় আক্রান্ত রয়েছেন। ইতোমধ্যে বন্যা আক্রান্ত মানুষের মধ্যে ৪৩ টন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপামি ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।’

0Shares





Related News

Comments are Closed