Main Menu

বন্যার পানির উপর ভাসছে সুনামগঞ্জ

আল-হেলাল, সুনামগঞ্জ থেকে: গত ছয় দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সুনামগঞ্জ জেলার নিন্মাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। জেলার ৬ উপজেলার প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। সুরমা নদীর ষোলঘর পয়েন্টে শনিবার পানি বিপদ সীমার ৮৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীলরা। উপজেলাগুলোর ৫০ টি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ওঠায় পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, জামালগঞ্জ, ছাতক ও সুনামগঞ্জ সদরের নিন্মাঞ্চলের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার নিন্মাঞ্চল সুরমা নদীর পানি কুল উপচে পৌর শহরের কাজির পয়েন্টে, নবীনগর, জামতলা,উত্তর আরপিন নগর, উকিলপাড়া, সুলতানপুর,উত্তর আরপিননগর, তেঘরিয়া সহ কয়েকটি এলাকা দিয়ে ঢুকে শহর এবং শহরতলিতেও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।

সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ওই সড়কের আনোয়ারপুর, শক্তিয়ারখলা, লালপুর, চালবন্ধ এলাকাসহ কয়েকটি স্থানে পানি ওঠেছে।

দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর, সুরমা, ভোগলা, বাংলাবাজার, নরসিংহপুর এবং দোয়ারা সদর ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে।দোয়ারাবাজার-ছাতক উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কের বিভিন্ন স্থান ডুবে যাওয়ায় এই সড়ক দিয়ে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়কের মাঝেরগাঁও, মংলারগাঁও ও নৈনগাঁও এলাকায় হাটু থেকে কোমর সমান পানি।

জামালগঞ্জ উপজেলা সদরের সঙ্গে জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এই উপজেলার সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের নিয়ামতপুর, ইচ্ছারচর, বেরাজালী, সেলমস্তপুর ও কলাইয়া অংশে হাটু থেকে কোমর সমান পানি। এই উপজেলার আরেক সড়ক সুনামগঞ্জ-জয়নগর-জামালগঞ্জ সড়কের জয়নগর পার্শ্ববর্তী অংশে এবং ধনপুর অংশে পানি ওঠেছে।

এদিকে পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সঙ্গে জেলার ৩ উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে।

গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান মো.ফুল মিয়া বলেন,আমার এলাকার অবস্থা খুবই খারাপ। মানুষকে দেখতে গেলে কিছুই দিতে পারি না। মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।

জেলার ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা মো.ফরিদুল হক বলেন, বরাদ্দ দেওয়া চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। আমাদের হাতে দুইশত মেট্রিক টন জিআর চাল রয়েছে। সেটি আমরা সব গুলো উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য উপজেলা নিবার্হী অফিসারদের বরাবরে প্রেরণ করব। এবং আমরা ইতি মধ্যে ২০ লক্ষ টাকা ৫০০ মেট্রিক টন চালের জন্য চাহিদা পত্র প্রেরণ করেছি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে।

জেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারন সম্পাদক এডভোকেট পীর মতিউর রহমান বলেন,আমরা জেলার সকল উপদ্রত এলাকা পরিদর্শন করেছি। দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য সরকারের পাশাপাশি আমাদেরও প্রস্তুতি রয়েছে।

এদিকে, সুনামগঞ্জ শহরের নবীনগর-ধারাওগাঁও সড়কে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার বিকালে সুরমা নদীর পানির তীব্রবেগে সড়কটি ভেঙ্গে যায়। সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে শহরের সঙ্গে সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর, কুরবান নগর, রঙ্গারচর ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর সুরমা নদীর পানি বাড়লে নবীনগর-ধারারগাঁও সড়কে ভাঙ্গন দেখা দেয়। বিশেষ করে ধারারগাঁও প্রবেশের সড়কটি নদীতে সামান্য পানি বাড়লেই হুমকিতে পড়ে যায়। যান চলাচল সচল রাখতে প্রতি বছরই সড়কটি মেরামত করা হয়।
শুক্রবার বিকালে কোন এক সময়ে সুরমা নদীর পানির তীব্রবেগে সড়কটি ভেঙে যায়। হুহু করে পানি ঢুকে যায় ধারারগাঁও, মাইজবাড়ি, নবীনগর এলাকার নিম্নাঞ্চলে।
এদিকে সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে শহরের সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর, কুরবান নগর, রঙ্গারচর ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ধারারগাঁও এলাকার রাজন মাহবুব বলেন, কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে সড়কটি ভেঙ্গে গেছে, বার বার যোগযোগ করেও গত কয়েকদিন ধরে সড়কটি রক্ষায় কারো সহায়তা পাওয়া যায়নি। সড়কটি ভাঙ্গার কারণে আমরা লক্ষাধিক মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছি।

Share





Related News

Comments are Closed