ভারী বর্ষণে জৈন্তাপুরের ৩ ইউনিয়ন প্লাবিত
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: গত তিন দিনের টানা বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট আকম্মিক বন্যায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট, জৈন্তাপুর ও চারিকাটা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সারী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বিপদ সীমার .৪৭ সেন্টি মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় উপজেলায় বৃষ্টির মাত্রা ৫৬ মিলিমিটার নির্ণয় করা হয়েছে
আকস্মিক পাহাড়ী ঢলের কারনে প্লাবিত হয়েছে উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের গ্রামীণ পথ, স্কুল, মাদ্রাসা ও মসজিদ এবং বীজতলা। তাদের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থের স্বীকার হয়েছে নিম্ন আয়ের দিনমজুর ও শ্রমিক পরিবার গুলো।
গ্রামীন রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে পানির মধ্যে আটকে পড়া হাওরাঞ্চলের লোকজনের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সীমান্তবর্তী ৩টি ইউনিয়নের বন্যায় আটকে পড়া পরিবার গুলোর মধ্যে শুকনো খাবার বা বিশুদ্ধ পানির কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি উপজেলা প্রশাসন।
অপরদিকে বন্যায় আটকে পড়া পরিবারের লোকজন নিজ উদ্যোগে নৌকা অথবা ভেলায় করে বিশুদ্ধ পানির জন্য উচু জায়গার দিকে ছুটে আসতে দেখা যায়। এদিকে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি ও পরিবার গুলোর খোঁজ খবর নিতে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন করেছেন জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের মেঘলী, বন্দরহাটি, লামাপাড়া, ময়নাহাটি, জাঙ্গালহাটি, মজুমদারপাড়া, হর্নি, বাইরাখেল, গোয়াবাড়ী, তিলকৈপাড়া, বড়খেল, ফুলবাড়ী, ডিবিরহাওর, ঘিলাতৈল, হেলিরাই , জৈন্তাপুর ইউনিয়নের মুক্তাপুর, বিরাইমারা, বিরাইমারা হাওর, লামনীগ্রাম, কাটাখাল, খারুবিল, চাতলারপাড়, ডুলটিরপাড়, ১নং লক্ষীপুর, ২নং লক্ষীপুর, আমবাড়ী, ঝিঙ্গাবাড়ী, নলজুরী হাওর এবং চারিকাটা ইউনিয়নের বালিদাঁড়া, লালাখাল, রামপ্রসাদ, থুবাং, বাউরভাগ উত্তর, বাউরভাগ দক্ষিণ, পুঞ্জী ঘুরে দেখা যায় এসব এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
সারী-গোয়াইন বেড়ীবাঁধ প্রকল্পের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মোঃ আলা উদ্দিন জানান- সারীনদী, বড়গাং নদী এবং নয়া গাং নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সারী নদীর পানি বিপদসীমার .৪৭ সেন্টিমিটার উপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এবিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ফারুক হোসেন জানান- গত ২৪ ঘন্টায় জৈন্তাপুর উপজেলা সদর ও এর আশ-পাশে বৃষ্টির পরিমান ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টি মাত্রা নির্নয় করা হয়েছে এ সময় উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কৃষকের হালিতলা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি নির্নয় করা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর উপজেলা নিবার্হী অফিসার বিশ্বজিৎ কুমার পাল (অঃদাঃ) জানান- বৃষ্টিপাতে উপজেলার সারী নদী সহ সবকটি নদীর পানী বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে ক্ষয়ক্ষতির কোন তালিকা আসেনি। ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাড়াতে উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
Related News
সিলেট সীমান্তে চোরাকারবারিদের হামলায় বিজিবির ২ সদস্য আহত
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি সীমান্তে চোরাকারবারিদের হামলায় বর্ডার গার্ডRead More
কানাইঘাটে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, পালানোর সময় স্বামী গ্রেপ্তার
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় স্ত্রীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামীRead More



Comments are Closed