Main Menu

শহীদ সিরাজুল আব্দালের কবর সনাক্তের দাবি

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট শহরতলীর লাক্কাতুরা চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক সৈয়দ সিরাজুল আব্দালকে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনী ধরে নিয়ে হত্যা করার ৪৭ বছর পর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। কিন্তু আজো তার কবরের সন্ধ্যান মিলেনি।

মহান মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে অংশ গ্রহন ও সহায়তাকারী এই বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার তার সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য সংগ্রহ করে উপস্থাপন করেছেন। বলেছেন তাদের প্রত্যাশার কথা।

বৃহস্পতিবার সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল আব্দালের ছেলে নগরীর সুবিদবাজারের বাসিন্দা মেজর ডা. সৈয়দ জামিল আব্দাল (অব.) তার পিতার কবরের সন্ধ্যান চেয়েছেন। পাশাপাশি তিনি তার নামে সিলেট নগরীর একটি সড়ক নামকরণের দাবি জানান। পরিবারের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তার বোন সৈয়দা সায়মা আহমদ ও মুক্তিযুদ্ধের সহকর্মী হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের ডেপুটি কামান্ডার জাহেদুল ইসলাম জাহেদ বক্তব্য রাখেন।

ছেলে মেজর ডা. সৈয়দ জামিল আব্দাল জানান, তার পিতা সৈয়দ সিরাজুল আব্দাল ১৯৩১ সালের ১৮ মে হবিগঞ্জ জিলার আউশপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৭ সালে উচ্চতর শিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডের নর্দান আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে টি টেকনোলজি পড়তে যান। পড়াশুনা শেষ সেখানে চাকুরির সুযোগ পেয়েও দেশের টানে ফিরে আসেন। ১৯৫৯ সালে তিনি ডানকান ব্রাদার্স লিমিটেডের লাক্কাতুরা চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে তিনি চাকরিতে থাকাবস্থায় স্বাধীনতার যুদ্ধে বাগানের শ্রমিকদের সংগঠিত করে প্রথম প্রহরে সিলেট প্রতিরোধে অংশ নেন তিনি। তাঁকে প্রথমে বন্দী করে জেলখানায় নিয়ে রাখে পাক বাহিনী। জেলখানা থেকে মুক্তিবাহিনী তাকে মুক্ত করে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী মৌলভীবাজার থেকে তাকে আবার ধরে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে।

বক্তব্যে বলা হয়, পাকিস্তানী সহকর্মী বাঙালিদের প্রতি ঔদ্ব্যত্ব ও বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে প্রথমে সিরাজুল আব্দাল বাংলা অক্ষর দিয়ে ছোট ছোট পুস্তিকা ছাপালেন। সব উর্দুভাষী ম্যানেজারদেরকে বিলি করে লিখে দিলেন “এই দেশে থাকতে হলে বাংলা শিখতে হবে।’ এতে তিনি একজন বাঙালি এক্টিভিস্ট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। সিরাজুল আব্দাল আওয়ামীলীগের রাজনীতি, ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণ-আন্দোলন, সত্তরের নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

ছেলে মেজর জামিল আব্দাল তার পিতার বিভিন্ন অবদানের কথা উল্লখ করে জানান, ১৯৭১ সালের ১লা এপ্রিল তাকে লাক্কাতুরার ফাঁড়ি বাগান কেওয়াছড়ার বাংলো থেকে ধরে নিয়ে যায় পাক বাহিনী। এ প্রসঙ্গে তৎকালীন এমএনএ আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান ফরিদ গাজী তাঁর “আমার দেখা স্বাধীনতার যুদ্ধ” বইটিতে লিখেন- “৭ই এপ্রিল ক্যাপ্টেন আজিজ, শোয়েব চৌধুরীসহ আমি সিলেট জেলে ও থানায় গিয়ে সকল আসামীকে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেই। তখন সিলেট জেলে মৌলভীবাজারের এসপিএ আজিজুর রহমান, আওয়ামী নেতা বোমকেশ ঘোষ, আমার স্ত্রীর আপন ভাই মুহিবুর রাজা ও চা বাগানের ম্যানেজার সৈয়দ আব্দালসহ অনেক নেতৃবৃন্দ ছিলেন।”

ছেলে মেজর জামিল আব্দাল আরও জানান, জেল থেকে বেরিয়ে আবারও মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় হন তার পিতা। তাদের নানাবাড়ি মৌলভীবাজারের পাল্লাকান্দিতে আশ্রয় নিয়ে গোপনে মুক্তি বাহিনীকে সহযোগিতা করতে থাকেন। কিন্ত রাজাকার মনসুর চৌধুরীর (যিনি চা বাগানে চাকুরি করতেন) সহায়তায় ১৯ মে তাকে চোখ বেধে তুলে নেয় পাক বাহিনী। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন, সিলেট ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন পাহাড়ের বধ্যভূমিতে সিরাজুল আব্দালকে হত্যা করা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাঁর কবর কোথায় জানেন না তার পরিবার।

ছেলে মেজর জামিল আব্দাল জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার পিতার স্বীকৃতি ও কবর সনাক্তের দাবি করে আসছেন। ৪৭ বছর পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি তার পিতার কবরের সন্ধ্যান ও তার নামে একটি সড়ক নামকরণের দাবি জানান।

Share





Related News

Comments are Closed