১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ম্যালেরিয়াকে একসময় কেবল পার্বত্যাঞ্চলের রোগ মনে করা হতো। তবে এখন সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য বলছে, পাহাড়ের পাশাপাশি সমতলেও ছড়িয়ে পড়ছে মশাবাহিত এ রোগ। বর্তমানে ১৩ জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি।
বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মিডিয়া ওরিয়েন্টেশনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয় ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সীমান্তবর্তী এলাকা, পাহাড় ও বনাঞ্চলবেষ্টিত অঞ্চল হওয়ায় তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। দেশের মোট ম্যালেরিয়া রোগীর প্রায় ৯১ শতাংশই এ এলাকার। তবে এ তিন জেলা ছাড়াও আরো ১০ জেলায় মশাবাহিত এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। জেলাগুলো হচ্ছে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও কুড়িগ্রাম। এ অবস্থায় দেশের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সমতলের যে ১০টি জেলা ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে আছে, তার মধ্যে নেত্রকোনা একটি। জেলার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা এলাকায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় অনেকে পাশের দেশ ভারতে কাজ করতে যান। অনেকে সেখান থেকে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দেশে ফেরেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চিকিৎসকরা।
নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. তাজুল ইসলাম খান বলেন, জেলার দুটি অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব রয়েছে। ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে মশারি সরবরাহসহ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচারণা চলছে, যাতে জ্বর হলেই পরীক্ষা করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা শুরু করা যায়।
জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে থাকা আরেক জেলা দিনাজপুর। যদিও সেখানে রোগটির প্রাদুর্ভাব খুব বেশি নয় বলে জানান সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুস। তবে কেউ আক্রান্ত হলে চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সারা দেশে যত মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়, তার ৬০ শতাংশ বান্দরবানের। তবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে সেখানে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুহার কম বলে জানিয়েছেন বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. অংসুইপ্রু মারমা।
তিনি বলেন, বান্দরবানে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর হার বেশি হলেও এখানে মৃত্যুহার কম। গত বছর এখানে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করার কারণে এটি সম্ভব হয়েছে।
ম্যালেরিয়া বাংলাদেশের একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা বলে মনে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এ সমস্যা মোকাবেলায় সরকারের নেয়া জাতীয় কর্মসূচি ম্যালেরিয়া আক্রান্তের হার কমাতে ভূমিকা রাখছে। গত এক দশকে বেশ সফলতাও এসেছে। ২০০৮ সালে দেশে ৮৪ হাজার ৬৯০ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়। ওই বছর এ রোগে মারা যায় ১৫৪ জন। এর এক দশক পর অর্থাৎ ২০১৮ সালে আক্রান্তের সংখ্যা কমে ১০ হাজার ৫২৩ জনে নেমে এসেছে এবং মারা গেছে সাতজন। তবে জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, চলতি বছর ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। আর্দ্র অবস্থার সঙ্গে আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে গত বছরের তুলনায় ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি এ বছর বেশি।
রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক ও কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোলের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, গত এক দশকে দেশে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের হার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমেছে। তবে চলতি বছর আগাম বৃষ্টির কারণে এবার ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের হার বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় দেশ এগিয়েছে। সংক্রামক রোগ মোকাবেলা করে এখন অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তার পরও ম্যালেরিয়ায় এখনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এর বড় কারণ পার্বত্য এলাকাগুলো দুর্গম হওয়ায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে রোগ নির্ণয় করা যায় না। একই কারণে সেখানে চিকিৎসা দেয়াও দুঃসাধ্য।
দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সময়মতো চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো কঠিন হলেও সমতলে ম্যালেরিয়া নির্মূলে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, সমতলের যে ১০টি জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব রয়েছে, তা একসঙ্গে নির্মূল করা সম্ভব নয়। কারণ, প্রত্যেকটি অঞ্চলে জনগোষ্ঠীর ধরন ও শরীরের বৈশিষ্ট্য আলাদা।
জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এমএম আক্তারুজ্জামান বলেন, সাধারণত মে থেকে সেপ্টেম্বরে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের হার বাড়ে। ঝুঁকিপূর্ণ ১৩টি জেলার ৭১টি উপজেলায় ম্যালেরিয়া স্ক্রিনিং ও ওষুধের ব্যবস্থা রেখেছি আমরা। কিন্তু যোগাযোগ সমস্যার কারণে পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক মানুষই আমাদের এ সুবিধাগুলো গ্রহণ করতে পারে না। সেটা আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
Related News
সিলেটে আরো ২ ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি ৮
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। গত ২৪Read More
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরেক শিশুর মৃত্যু
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট এম এRead More



Comments are Closed