Main Menu

ওসমানীনগরে অধ্যক্ষ হত্যায় প্রভাষকের স্বীকারোক্তি

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের ওসমানীনগরে পূর্ব বিরোধের জের ধরে নিজ প্রাইভেটকারের চাপায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শায়খুল ইসলামকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন একই মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক লুৎফুর রহমান ওরফে আজাদ।

গতকাল মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলেখা দে’র আদালতে ফৌজদারী দন্ডবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ঘাতক লুৎফুর।

আদালতের বরাত দিয়ে অধ্যক্ষ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসমানীনগর থানার এসআই মুমিনুল ইসলাম পিপিএম (সেবা) বলেন, ‘মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন অভিযোগের কারণে নিহত অধ্যক্ষ মাওলানা শায়খুল ইসলামের সাথে একই মাদ্রাসার অভিযুক্ত প্রভাষক লুৎফুর রহমানের পূর্ব বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ছক আঁকেন লুৎফুর। ঘটনার দিন সকালে পূর্বে থেকে নিজ প্রাইভেটকার নিয়ে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নেন প্রভাষক লুৎফুর। মাওলানা শায়খুল ইসলাম গোয়ালাবাজার থেকে নিজ মোটরসাইকেলযোগে মাদ্রাসার উদ্দেশে রওয়ানা দিলে প্রাইভেটকার চালিয়ে তাঁর পিছু নেন প্রভাষক লুৎফুর রহমান। মহাসড়কের বুরুঙ্গা সড়কের মুখে যাওয়ামাত্র পেছন দিকে মোটরসাইকেল আরোহী অধ্যক্ষ মাওলানা শায়খুল ইসলামকে সজোরে ধাক্কা দেয় লুৎফুর রহমানের প্রাইভেটকার। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মাওলানা শায়খুল ইসলাম। ঘটনার পর পরই ঘাতক লুৎফুর প্রাইভেটকার রেখে পালিয়ে যান।’

তিনি জানান, আদালতে স্বীকারোক্তির পর গতকাল মঙ্গলবার রাতে অধ্যক্ষ হত্যাকারী লুৎফুর রহমানকে আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য লুৎফুরকে রিমান্ডে আনা হতে পারে বলেও জানান এসআই মুমিনুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে বুরুঙ্গা শেখ ফজিলাতুন্নেছা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শায়খুল ইসলাম মাদ্রাসায় যাচ্ছিলেন। প্রাইভেটকার নিয়ে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা একই মাদ্রাসার বাংলার প্রভাষক লুৎফুর রহমান ওরফে আজাদ নিজ প্রাইভেটকার দিয়ে অধ্যক্ষ শায়খুল ইসলামকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই শায়খুল ইসলাম নিহত হন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নিহতের স্ত্রী দিলবাহার তালুকদার লিপি বাদী হয়ে শেখ ফজিলাতুন্নেছা ফাজিল মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের মৃত তাহির আলীর ছেলে লুৎফুর রহমান ওরফে আজাদকে (৪৪) প্রধান আসামি ও অজ্ঞাতনাম আরো ৫/৬ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলার প্রেক্ষিতে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে অভিযুক্ত লুৎফুরকে সিলেট শহর থেকে গ্রেপ্তার করে ওসমানীনগর থানার পুলিশ।

Share





Related News

Comments are Closed