Main Menu

কবি সৈয়দ শামসুল হকের জন্মবার্ষিকী আজ

Manual2 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সব্যসাচী লেখক, কথাশিল্পী, কবি সৈয়দ শামসুল হকের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী আজ। কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর) তার গুলশানের বাসভবনে বিভিন্ন কর্মর্সূচি পালনের আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলা সাহিত্যের এই মেধাবী কবি ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোকগমন করেন। এর আগে তিনি প্রায় ৪ মাস লন্ডনের রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ফুসফুসের সমস্যা দেখা দিলে ২০১৬ সালের ১৫ এপ্রিল তাকে লন্ডন নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার তার ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে।

Manual5 Ad Code

কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, চলচ্চিত্র, গান, অনুবাদসহ সাহিত্যে-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সাবলীল লেখালখির জন্য তাঁকে ‘সব্যসাচী’ লেখক বলা হয়ে থাকে। তার লেখকজীবন প্রায় ৬২ বছরব্যাপী বিস্তৃত। সৈয়দ হক ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

কবির সম্পর্কে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বাঙালী মধ্যবিত্ত সমাজের আবেগ-অনুভূতি-বিকার সবকিছুই খুব সহজ কথা ও ছন্দে সৈয়দ হক তার লেখনীতে তুলে এনেছেন। তিনিই প্রথম নতুন উদ্দীপনায় মধ্যবিত্তের কথা ভালো করে বললেন এবং মধ্যবিত্ত জীবনের বিকারকেও ধরলেন। তাঁর আগের বড় লেখকেরা সকলেই গ্রামকেন্দ্রিক উপন্যাস বা গল্প লিখেছেন। কিন্তু তিনি তাঁর রচনায় সমসাময়িক বাংলাদেশকে তুলে এনেছেন।

নাট্যব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, নাট্যকার হিসেবেও সৈয়দ হক ছিলেন দারুণ সফল। বিশেষ করে তাঁর রচিত দুটি কাব্যনাট্য ‘নুরলদিনের সারাজীবন’ এবং ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ বাংলা নাটকে একটি বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে।

কবি অধ্যাপক মোহাম্মদ সামাদ বলেন, সৈয়দ হক তাঁর কবিতা দিয়ে বারবার সাড়া ফেলেছেন। ১৯৭০ সালে প্রকাশিত তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা’, আধুনিক সময়ের কোন কবির এত দীর্ঘ কবিতা বেশ বিরল। তার এই কাব্যগ্রন্থের কারণে তিনি তখন আদমজী পুরস্কার লাভ করেন। তার আরেক বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘পরানের গহীন ভিতর’ দিয়ে তিনি তাঁর কবিতায় আঞ্চলিক ভাষাকে উপস্থাপন করেছেন।

তাঁর প্রথম লেখা একটি গল্প, যা ১৯৫১ সালে ফজলে লোহানী সম্পাদিত ‘অগত্যা’ নামে একটি ম্যাগাজিনে ছাপা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘দেয়ালের দেশ’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে। ১৯৬৬ সালে তিনি মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদক এবং ২০০০ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করেন।

Manual3 Ad Code

তিনি ১৯৫৯ সালে ‘মাটির পাহাড়’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখেন। এরপর তোমার আমার, শীত বিকেল, কাঁচ কাটা হীরে, পুরস্কার, ক খ গ ঘ ঙ, বড় ভাল লোক ছিল’সহ আরও বেশ কিছু চলচ্চিত্রের কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেন।‘ বড় ভাল লোক ছিল’ ও ‘পুরস্কার’ এ দুটি চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লেখার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন চলচ্চিত্রের জন্য গানও রচনা করেছেন। এখানেও তিনি সফল হয়েছেন এবং পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

Manual1 Ad Code

তিনি ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ ত্যাগ করে লন্ডন চলে যান এবং সেখানে বিবিসির বাংলা খবর পাঠক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ১৬ ডিসেম্বর পরাজিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসর্মপণের খবরটি পাঠ করেছিলেন তিনি। পরে ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বিবিসি বাংলার প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Manual7 Ad Code

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় সৈয়দ শামসুল হক স্বরণে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে এবং পরে সৈয়দ শামসুল হক রচিত নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ মঞ্চস্থ করবে। ২৯ তারিখে একাডেমির উদ্যোগে মঞ্চস্থ করবে নাটক ‘হেমলেট’।

কবির সহ-ধর্মিনী কথা শিল্পী আনোয়ারা সৈয়দ হক জানান, সৈয়দ হকের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার গুলশান-১’এর বাসভবন ‘মঞ্জুবাড়ি’তে বিকেল তিনটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবার, কবির বন্ধু-স্বজন ও প্রকাশকদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সৈয়দ হকের নতুন তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হবে। থাকবে স্মৃতিচারণ, আলোচনা, কবির কবিতা থেকে আবৃত্তি, সৈয়দ হকের লেখা গান পরিবেশন।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code