ভুলত্রুটি ‘ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে’ দেখবেন: শেখ হাসিনা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গত এক দশকে সরকার পরিচালনা করতে গিয়ে নিজের এবং দলের নেতাকর্মীদের ভুলত্রুটিগুলো ‘ক্ষমাসন্দুর দৃষ্টিতে’ দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আরও একবার দেশবাসীকে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আপনারা নৌকায় ভোট দিন। নৌকাকে বিজয়ী করলে আমরা ‘উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি’ এনে দেবো। এটাই জাতির কাছে আমাদের নির্বাচনী ওয়াদা।’
মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে এ প্রতিশ্রুতি দেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল হয়। সরকার পরিচালনা করতে গিয়ে যদি আমার এবং আমার দলের নেতাকর্মীদের কোনও ভুল হয়ে থাকে সেগুলোকে ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাই। আমি কথা দিচ্ছি, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবো।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা আবারও সমৃদ্ধির, অগ্রযাত্রার বাংলাদেশ, স্লোগানসংবলিত নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আমরা আমাদের ইশতেহার এমনভাবে তৈরি করেছি, যাতে আমরা তা বাস্তবায়ন করতে পারি।’
একইসঙ্গে ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলোর ধারাবাহিকতা ২০১৮-এর নির্বাচনে ইশতেহারেও সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকার ‘কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করে’- উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারে এলে জনগণ কিছু পায়-এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। বর্তমানে দেশে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ও সমৃদ্ধির সকল সুযোগ ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। নৌকা বিজয়ী হলে আমরা টেকসই বিনিয়োগ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করব- এটাই আমাদের এবারের অঙ্গীকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কাঙ্ক্ষিত ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব ইনশা আল্লাহ।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে বাংলাদেশ। বাঙালি জাতির এই দুই মাহেন্দ্রক্ষণ সামনে রেখে, মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগই পারবে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে, পারবে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে।’
এর আগে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার শুরুতেই মঞ্চে এসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।
এসময় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ, ২ লাখ নির্যাতিত নারী, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সন্তানদের এবং পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্ট নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদেরও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘জনগণ ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ব্যালট বিপ্লবের’ মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতাসীন করবে। এ বিশ্বাস আমার আছে। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত, ইনশাআল্লাহ্।’’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাজনীতিতে আমার ব্যক্তিগত কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই। আমি আমার বাবা-মা, ভাই, আত্মীয়-পরিজনদের হারিয়েছি। আমি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে চাই। মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে চাই। সাধারণ মানুষ যাতে ভালোভাবে বাঁচতে পারে, উন্নত জীবন পায়- সেটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য ও কামনা।’
স্বাধীনতাবিরোধী কোনও শক্তি এসময় ক্ষমতায় থাকলে তা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গ্লানিকর হবে বলেও উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
বাংলাদেশ ভূখণ্ডে যা কিছু মহৎ অর্জন ও প্রাপ্তি, সবকিছু আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ আর্থিক দিক থেকে যেমন শক্তিশালী, মানসিকতার দিক দিয়েও অনেক বলীয়ান। ছোটখাটো অভিঘাত বাংলাদেশের চলমান অগ্রযাত্রাকে আর থামিয়ে রাখতে পারবে না।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক সাংসদ আব্দুর রাজ্জাক। এসময় দলের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুর কাদের ছাড়াও কূটনীতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
Related News
৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবরRead More
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা, ভোট হবে ৭ ধাপে
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সারাদেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ নির্ধারণ করেছেRead More



Comments are Closed