ওসমানীনগরে খুন হওয়া তরুণীর পরিচয় মিললো মেমোরি কার্ডে
ওসমানীনগর প্রতিনিধিঃ সিলেটের ওসমানীনগরে খুন হওয়া নারীর পরিচয় মিলেছে। মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধারের ৬ দিন পর লাশটির পরিচয় সনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
ঘাতকদের হাতে খুন হওয়া নারীর নাম সুমি আক্তার তিশা (৩০)। তিনি লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার নয়নপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে। নিহত তিশার প্যান্টের পকেটে মেমোরি কার্ডের মধ্যে পাওয়া একটি মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়। সেই নম্বরের সূত্রধরে যোগাযোগ করা হয়। ওই নাম্বারে কল দেওয়া হলে কলটি রিসিভ করেন নিহত তিশার বড় বোন নাজমা বেগম। ফোনে কথা বলার পর নাজমা বেগমের কাছে তিশার ছবি পাঠানো হলে এটি তার বোনের ছবি বলে সনাক্ত করেন।
পরিচয় সনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসমানীনগর থানার এসআই মুমিনুল ইসলাম বলেন, গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে তিশার মা, বাবা, বোন ও বোন জামাই থানায় আসেন। রবিবার সকালের দিকে তাদের সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে। পরে তারা সিলেটে গিয়ে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় নগরীর মানিক পীর টিলায় গিয়ে কবর জিয়ারত করেছেন।
এদিকে হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত ৬ নভেম্বর ওসমানীনগর থানার এসআই সাইফুল মোাল্লা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা (নং-৩) দায়ের করেন।
এদিকে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ তাৎক্ষণিক ৮ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন- উপজেলার দয়ামীর ইউপির খালপাড় গ্রামের মৃত হরমুজ আলীর ছেলে আব্দুল বারিক, বারিকের কথিত স্ত্রী জামালপুর জেলার ভাটিগজারিয়া এলাকার ওয়াহিদ আলীর মেয়ে নাসরিন বেগম পাখি, বারিকের ভাগ্নে একই গ্রামের মইন উদ্দিনের ছেলে মাসুম মিয়া, নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মৃত জুনার আলীর পুত্র সেলিম মিয়া। এছাড়া হত্যাকান্ডের মূল হোতা ও মামলার প্রধান আসামি আবুল বারীকের মেয়ে ময়না বেগম, মোনালিসা, আব্দুল বারিকের বোন নেহার বেগম ও দয়ামীর বাজারের পাহারাদার আব্দুল গনি।
আটককৃতরা আদালতে এই হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেয়। কিন্তু আদালতে দেওয়া তাদের জবানবন্দি থেকে তিশার পরিচয় সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই লাশটি বেওয়ারীশ হিসেবে দাফন করা হয়।

ওসমানীনগর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আদালতে স্বীকারোক্তিতে অভিযুক্তরা জানিয়েছে গত ৪ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে তিশাকে দয়ামীরের খালপাড় গ্রামের আব্দুল বারিকের বাড়িতে নিয়ে যায় সেলিম। সেখানে যাওয়ার পর রাতে সেলিম ও বারিক দুজন মদ পান করেন। এ সময় সেলিম তিশাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিশা তাতে অনীহা প্রকাশ করেন। এতে সেলিম ও তিশার মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। এর জেরধরে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বারিকের শোবার ঘরে সেলিম তিশার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে এবং সেলিম ও বারিক তিশার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। রাতেই বারিকের কথিত স্ত্রী নাসরিন বেগম পাখি, তার ভাগ্নে মাসুম এবং আরও ৩-৪ জন মিলে একজন রিকশা চালকের সহায়তায় দয়ামীর বাজারের কনাইশা (র.) মাজারের পশ্চিমে একটি খালি জায়গায় লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়।
৫ নভেম্বর সকালের দিকে পুলিশের হাতে আটককৃতদের মধ্যে কেউ একজন থানায় ফোন করে লাশটি মাটিচাপা দেয়ার খবর জানায়। সকাল ১১টার দিকে দয়ামীর বাজারের কনাইশা (র.) মাজারের পশ্চিমে একটি খালি জায়গা থেকে মাটিচাপা দেয়া এক অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করে ওসমানীনগর থানাপুলিশ। ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ জনকে আটক করে পুলিশ।
ওসমানীনগর থানার ওসি এস এম আল মামুন বলেন, তিশার স্বজনরা থানায় এসে যোগাযোগ করেছেন। লাশ নিতে চাইলে তারা আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিতে পারবেন। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে।
Related News
জকিগঞ্জে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জকিগঞ্জে প্রবাসী হোসেন আহমদের বাড়িতে এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতRead More
গোয়াইনঘাটে যৌথ অভিযানে ৮ ড্রেজার মেশিন ধ্বংস
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোয়াইনঘাটে ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনাRead More



Comments are Closed