ওসমানী হাসপাতালে কর্তিত আঙ্গুল প্রতিস্থাপন
মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই প্রথমবারের মত কর্তিত অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বনাথের মাদ্রাসা ছাত্র ইয়াছিন মিয়া (২১)’র শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া আঙ্গুল প্রতিস্থাপন করেন ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। ইয়াছিন বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের ধরারাই গ্রামের মাসুক মিয়ার ছেলে ও ওসমানীনগরের দয়ামীর হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র।
জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে নিজেদের (ইয়াছিনদের) সদ্য ঢালাই করা রাস্তা দিয়ে গাড়ী চালিয়ে যাওয়ার কারণে উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের ধরারাই গ্রামের নুনু মিয়ার ছেলে জুনেদ মিয়ার সাথে বাদানুবাদ হয় একই গ্রামের মাসুক মিয়ার ছেলে ও ওসমানীনগরের দয়ামীর হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ইয়াছিনের চাচা মুক্তার মিয়া ও চাচাতো ভাই আজাদ মিয়ার। এর জেরে ওই রাত সাড়ে ১২টার দিকে জুনেদ ও তার ভাই রুবেল মিয়া ইয়াছিনদের বাড়ীতে এসে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল শুরু করে। এসময় ইয়াছিন মিয়া ঘর থেকে বেরিয়ে আসলে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তারা পালিয়ে যায়। তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ইয়াছিনের পিঠের বাম পাশে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলী শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনার পরেই গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার কর্তিত বৃদ্ধাঙ্গুলী রাখা হয় ফ্রিজে। হাসপাতালে ভর্তির পর বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ডিপার্টমেন্টের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে শুরু হয় অস্ত্রোপচার। ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত একটানা প্রায় আটঘন্টা এ অস্ত্রোপচার চলে। এসময় চিকিৎসকেরা ইয়াছিনের বৃদ্ধাঙ্গুলীটি পুনরায় তার হাতে স্থাপন করতে সক্ষম হন। অপারেশনের পর ওই দিন রাত ৩টায় আঙ্গুলের কর্মক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে আসে বলে দাবি ওই চিকিৎসকের।
অস্ত্রোপচারকারী প্লাস্টিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুল মান্নান জানান, এ ধরণের কর্তিত অঙ্গ নিয়ে সংশ্লিষ্ট রোগী যদি ৬ থেকে ১২ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়, তবে তা পুন:সংযোজন সম্ভব।
তিনি বলেন, এ ধরণের চিকিৎসার জন্য এখন আর ঢাকা কিংবা বিদেশে যাবার প্রয়োজন নেই। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ধরণের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব বলে জানান তিনি। ঢাকার বাইরে সিলেটে প্রথম এ অঙ্গ পুন:সংযোজন হয়েছে বলে দাবি করেন এ চিকিৎসক।
সহকারী অধ্যাপক প্লাস্টিক সার্জন ডাঃ মোঃ আব্দুল মান্নানের সাথে অপারেশনে সহযোগিতা করেন ডাঃ নাহিদ, ডাঃ জহিরুল ইসলাম, ডাঃ সাজিদ, ডাঃ সজীব, ডাঃ সাদিয়া, ডাঃ আবিদ। এ্যানেস্থেসিস্ট ছিলেন ডাঃ রিয়াদ ও ডাঃ নিজাম।
এদিকে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ১৬ মিনিটে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ডিপার্টমেন্টের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আবদুল মান্নান তার ফেসবুকে ইয়াছিনের বৃদ্ধাঙ্গুলী সচলের একটি ভিডিও আপলোড করেন। সেখানে ডা. মান্নানের পাশাপাশি বৃদ্ধাঙ্গুলীর সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে কথা বলেন ইয়াছিন ও তার এক চাচা।
এর সত্যতা স্বীকার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ডিপার্টমেন্টের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, ইয়াছিনের আঙ্গুলটি সচল হয়েছে। কর্তিত অঙ্গ প্রতিস্থাপনে সারাদেশে এটি দ্বিতীয় এবং ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের ইতিহাসে প্রথম। এর ভিডিও আমার ফেসবুকে আপলোড দিয়েছি।
Related News
ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১২৩২
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে একRead More
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যুRead More



Comments are Closed