Main Menu

ভূমি আত্মসাৎ মামলায় ছেলেসহ রাগীব আলী কারাগারে

Manual8 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: প্রতারণার মাধ্যমে তারাপুর চা-বাগানের ভূমি আত্মসাৎ ও জালিয়াতির মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাইকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।

Manual4 Ad Code

বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেন।

Manual6 Ad Code

সিলেট জেলা জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট শামিম আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বুধবার দুপুরে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারাপুর চা বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার ভূমি আত্মসাৎ এবং জালিয়াতির একটি মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাইয়ের পক্ষে জামিন আবেদন জানানো হয়। পরে এ আবেদনের শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

Manual4 Ad Code

এর আগে আলোচিত এই মামলায় ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির পাঁচটি ধারায় পৃথক ধারায় সর্বমোট ১৪ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেন সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরুর আদালত।

এরপর চলতি বছরের ৯ আগস্ট এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামীরা আপীল করলে সেদিন নিম্ন আদালতের দেয়া ১৪ বছরের সাজা বহাল রেখে রায় এবং বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন বিশেষ জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক।

এই মামলায় বছরখানেক জেল খাটার পর বর্তমানে ছেলেসহ জামিনে ছিলেন তিনি।

মামলা বৃত্তান্ত : সিলেটের হাজার কোটি টাকার তারাপুর চা বাগান দেবোত্তোর সম্পত্তি। জালিয়াতি ও প্রতারণা করে এই বাগান দখল নেওয়ার অভিযোগ ওঠে রাগীব আলীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর ১৯৯৯ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন তৎকালীন ভূমি কমিশনার (এসিল্যান্ড) এসএম আব্দুল কাদের। এছাড়া সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন তিনি।

মামলায় ৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গায় গড়ে ওঠা সিলেটের দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগানের জমি আত্মসাতের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জাল করার অভিযোগ আনা হয়ে রাগীব আলী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। এই মামলার বিরুদ্ধে রাগীব আলী উচ্চ আদালতে গেলে দীর্ঘদিন পর ২০১৬ সালের শুরুতে তার নিষ্পত্তি হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে মামলা পুনরায় চালুর নির্দেশ দেয়। সেই সঙ্গে তারাপুর চা-বাগান দখল করে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই আদেশের পর একই বছরের বছরের ১৫ মে চা-বাগানের বিভিন্ন স্থাপনা ছাড়াও ৩২৩ একর ভূমি সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন।

মামলা হওয়ার ১১ বছর পর ২০১৬ সালের ১০ জুলাই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটের অতিরিক্ত সুপার সারোয়ার জাহান আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে তারাপুর চা বাগান আত্মসাতের প্রক্রিয়ায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাই ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জাল করেন। এই মামলার দুই আসামীই জেল হাজতে রয়েছেন।

ওই বছরের ১০ আগস্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে রাগীব আলী ও তার একমাত্র ছেলে আবদুল হাই ওই দিনই জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সপরিবারে ভারতে পালিয়ে যান তিনি। এরপর ১২ নভেম্বর ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে রাগীব আলীর ছেলে আব্দুল হাইকে গ্রেপ্তার করে জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুলিশ। আর ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় ২৪ নভেম্বর ভারতে গ্রেপ্তার হন রাগীব আলী। ওই দিনই সিলেটের সুতারকান্দি সীমান্ত দিয়ে তাকে তাকে দেশে এনে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর শুরু হয় বিচার কার্যক্রম।

Manual4 Ad Code

স্মারক জালিয়াতি মামলা ছাড়াও রাগীব আলী ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে তারাপুর চা বাগানের ভূমি আত্মসাতের আরেকটি মামলায়ও সাজা প্রদান করা হয়।

এ মামলার অপর আসামি তারাপুর চা-বাগানের সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। গত বছরের ৬ এপ্রিল সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code