Main Menu

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাবেক দুই পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

Manual5 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই মামলার ৩০ আসামির মধ্যে তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুজন আসামি হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তাঁরা দুজনেই গ্রেপ্তার আছেন।

Manual4 Ad Code

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার আসামি মোট ৩০ জন। এর মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো.আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। তাঁদের আজ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য মো.হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার ২৪ আসামি পলাতক আছেন। পলাতক আসামির মধ্যে রয়েছেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো.মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো.হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মো.মনিরুজ্জামান পলাশ, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, সাবেক এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন, সাবেক নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া এবং সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো.মাহাবুবার রহমান।

Manual4 Ad Code

রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক কমিশনার মো.মনিরুজ্জামান, আরপিএমপির সাবেক উপকমিশনার মো.আবু মারুফ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো.শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, সাবেক সহকারী কমিশনার মো.আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়ও পলাতক রয়েছেন।

Manual7 Ad Code

আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি চিকিৎসক মো.সরোয়ার হোসেনও (চন্দন) পলাতক। এ ছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ সম্পাদক মো.মাহাফুজুর রহমান, সহসভাপতি মো.ফজলে রাব্বি, সহসভাপতি মো.আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার, দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.মাসুদুল হাসান এ মামলার পলাতক আসামি।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তাঁকে হত্যার ভিডিও সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন আর পুলিশ তাঁর বুকে একের পর এক গুলি করছে। এ হত্যাকাণ্ড আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং সারা দেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। পরে ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরদিন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন এ মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষ হয় গত ২৭ জানুয়ারি।

Manual4 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code