ছাতকে বন্যায় ২ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি, সড়কে পানি
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: গত তিন দিনের টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ছাতক উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলা সদরের সাথে বিভিন্ন গ্রামীন এলাকার সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে । দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্টানে বন্যার পানি প্রবেশ করায় এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে । এ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর সভা এলাকার অধিকাংশ বাসা বাড়ি ও রাস্তা ঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন । বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক সড়কে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এ সড়ক এখন ২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ছোট ছোট গাড়ী চলাচল করতে পারছে না । এছাড়া উপজেলা সদরের সঙ্গে গ্রামীন সড়ক যোগাযোগ দুইদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ঢলের পানিতে এসব গ্রামীন রাস্তাঘাট ভেঙ্গে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে। প্রায় ৫ শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। এছাড়া বন্যার পানিতে ভেসে গেছে কয়েক শত ফিসারীর কয়েক কোটি টাকার মাছ।
গত ২ দিনের টানা বৃষ্টি এবং সুরমা, চৈলা, আয়নাখালি, বটের ও ধলাই নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে উপজেলার সর্বত্র তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে উত্তর খুরমা, দক্ষিন খুরমা, ইসলামপুর, নোয়ারাই, চরমহল্লা, জাউয়াবাজার, দোলারবাজার, ছৈলাআফজলাবাদ, ভাতগাও, সিংচাইড়, কালারুকা ও ছাতক সদর ইউনিয়নের প্রায় পাচ শতাধিক গ্রাম পাড়া মহল্লায় চলাচলের রাস্তা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ।
বন্যা কবলিত গ্রামগুলো হচ্ছে আলমপুর, দাহারগাও, ঘিলাছড়া, মৈশাপুর, তকিরাই, নোয়াগাও, কাটালপুর, বদিরগাও, পুরাতন মৈশাপুর, রাজার গাও, শৌলা, তেরাপুর, মোহনপুর, নৌকাকান্দি লম্বাহাটি, হাসনাবাদ, রাজাপুর, ভরাংনপাড়, মামদপুর, বলারপীরপুর, গন্ধর্ভ পুর, সায়াতপুর, বিলপাড়া, সদরপুর, নুরুল্লাপুর, উজির পুর, সিকন্দরপুর, দীঘলবন, গৌরিপুর, নানশ্রী, শিমুতলা, মুক্তিরগাও, বাহাদুরপুর, গনেশপুর, রহমতপুর, শিবনগর, মানসিনগরসহ পাচঁ শতাধিক গ্রাম। এসব গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ।
এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা প্রতিষ্টানে বন্যার পানি প্রবেশ করায় ৪৭নং আলমপুর, মোহন পুর, শ্যামনগর, কৃষন নগর, আব্দুল জব্বার, কাটালপুর, বেরাজপুর সহ বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এছাড়া পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এসব বিদ্যালয়ের রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক জয়নাল আহমদ জানিয়েছেন।
তাছাড়া রোপা আউশ ও বোনা আমন ক্ষেত সম্পন্ন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির আশংকা রয়েছে। এতে কৃষকরা অজানা আতংকে রয়েছেন। অপরদিকে শতাধিক মৎস খামার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠায় উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ঘরমুখো মানুষ কস্ট করে পায়ে হেটে বাড়ীতে ফিরছেন। যাত্রীবাহী কোন যান বাহন চলাচল করতে পারছে না। মালবাহী দু’একটি বাহন ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্যে চলাচল করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবেদা আফসারি জানান বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর নিচ্ছি। অপর দিকে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওলিউর রহমান চৌধুরী বকুল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি বাড়ছে বলে ইউপি চেয়ারম্যানগন জানিয়েছেন । এছাড়া সুরমা সহ বিভিন্ন নদীতে পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
Related News
সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় জায়গা-জমি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধRead More
ছাতকে পাগনা বড়বিলে ১০ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ
আনোয়ার হোসেন রনি, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় পাগনা বড়বিল জলমহালসহ বিভিন্ন জলাশয়কে কেন্দ্র করেRead More



Comments are Closed