Main Menu

কুমিল্লায় সাবেক কলেজ অধ্যক্ষের আত্মহত্যা!

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দুই পৃষ্ঠার চিরকুটে ‘অপ্রাপ্তি, হতাশা আর অভিমানের’ অগোছালো বর্ণনা দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল ওহাব। সোমবার (১১ জুন) সেহরির পর কোনো একসময় নিজের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেন প্রবীণ এ শিক্ষক। সকাল সাড়ে ৮টায় বাসার দ্বিতীয় তলার বাথরুমের ঝর্ণার পাইপে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রফেসর আবদুল ওহাব ২০১৪ সালের ২ জুন থেকে ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। সে সময় থেকেই স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাকে নিয়ে মহিলা কলেজ রোডস্থ ‘মাদায় কেয়ার হাসপাতালের’ পেছনের বাড়িটিতে ভাড়া থাকেন। তিনি সদর দক্ষিণ উপজেলার ২নং চৌয়ারা ইউনিয়নের হেমজোড়া গ্রামের মৃত আবদুল গফুরের ছেলে।

তার আত্মহত্যা ও চিরকুট উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ জামাল নাছের বলেছেন, ‘তিনি সহজ-সরল ও ধার্মিক মানুষ ছিলেন। আবদুল ওহাবের এমন মৃত্যু অচিন্তনীয়; আমরা শোকাহত।’

দুই পৃষ্ঠার চিরকুটের একটিতে তিনি লিখেছেন- ‘… মাথা ঠিক নেই। অনেক সত্য কথা, না বলা কথা বলতে পারলাম না। যারা সারাক্ষণ চাপ সৃষ্টি করে কাজ করালেন, তাদেরই বিরুদ্ধে। কলেজকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতাম। ৩০ মাসে ৩০ দিনও অন্যদিকে সময় দেই নাই। কলেজ নিয়ে ছিলো আমার ভাবনা।’

আরেক প্যারায় তিনি লিখেছেন- ‘অনেক কথা বলতে পারতাম বললাম না। সবাই ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। বিদায়, আল বিদা! কি লিখছি জানি না। মনের কথাগুলো লিখতে পারলাম না। সময় নেই। দেরী হয়ে যাচ্ছে। শপথ করেছিলাম শতভাগ ভালো থাকবো। কিন্তু শেষ ভালো হলো না। চক্রান্তের, পরিকল্পিত চক্রান্তের স্বীকার….।’

তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় উল্লেখ করে চিরকুটের অপর পৃষ্ঠায় তিনি লিখেন- ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নহে। দায়ী আমার নসীব। অধ্যক্ষ থাকাকালীন দুই একজনের সাথে আমার তর্ক বিতর্ক হয়েছে…।’

‘… এ কথা সত্য, যেকোনো ছাত্রী আমার নিটক তাদের সমস্যার কথা বলতো। আল্লার কসম করে বলছি… সাথে সম্পর্ক ছিলো না। দুর্বল চিত্তের মানুষ হওয়ায় এ কথা শুনে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। আমার জন্য ভালো হয়েছে…।’

সব শেষ প্যারায় তিনি লিখেছেন- ‘আমার স্ত্রী কন্যাকে কি করে গেলাম জানি না। নসীব দোষে মারা গেলাম।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জামাল নাছের বলেন, ‘আবদুল ওহাব ব্যক্তিগত জীবনে কিছুটা অগোছালো ছিলেন। লেখাপড়া ও চাকুরির কারণে তিনি দীর্ঘদিন গ্রাম ও স্বজনদের কাছ থেকে অনেক দূরে ছিলেন। ফলে পরিবারের সদস্য ছাড়া বাকীদের সাথে সেই দূরত্বটা আর গুছিয়ে ওঠেনি। এছাড়াও জায়গা সংক্রান্ত বিষয়েও কিছু ঝামেলা ছিলো বলে জেনেছি।’

‘বিষয়টা হৃদয়বিদারক’ উল্লেখ করে জামাল নাছের বলেন, ‘জানতে পেরেছি- তার মাও আত্মহত্যা করেছিলেন। ফলে ছোটবেলা থেকেই তিনি নানা বাড়িতে থাকতেন। তিনি দায়িত্ব পালনকালে কলেজের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আগামী ২৩ জুন (কলেজ খোলার দিন) আমরা সকল শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ রেখে শোক পালন করবো।’

কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ ও লিখে যাওয়া চিরকুট উদ্ধার করা হয়।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে জানিয়ে এসআই সহিদুল বলেন, চিরকুটটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Share





Related News

Comments are Closed