Main Menu

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সিলেটের আঞ্চলিক কার্যালয় ঘেরাও

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: দ্বৈতভর্তি জরিমানা বাতিলের দাবিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয় ঘেরাও করে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৭ জুন) সকালে নগরীর সুবিদবাজার থেকে মিছিল সহকারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চিক কার্যালয়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয় শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।

এক পর্যায়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তা আব্দুল খালিকের আশ্বাসে তারা কর্মসূচী প্রত্যাহার করে। এসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন ড. নাসির উদ্দিন আগামী ১২ জুনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মুঠোফোনে তাদের আশ্বস্ত করেন।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা গত ১৫দিন ধরে ধারাবাহিক ভাবে আন্দোলন করে আসছি। মানববন্ধন, সমাবেশ, মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি করার পরও কর্তৃপক্ষ জরিমানা বাতিল করছে না। তাই আজকে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় ঘেরাও করেছি। আমরা ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) বা স্নাতক (পাস) কোর্সে ভর্তি হয়েছিলাম। পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ ২০১৭-১৮ এ আমরা পুনরায় নতুন করে ভর্তি হয়ে প্রথম ভর্তির সেশন বাদ দিয়ে শিক্ষা জীবন পরিচালনা করছি। ২য় ভর্তির ক্ষেত্রে ১ম ভর্তির জন্য আমাদের কোনরূপ বাধা বা নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় নাই। ইতিমধ্যে আমরা ইনকোর্স ও টিউটোরিয়াল পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করেছি। আমাদের ১ম বর্ষ চূড়ান্ত পরীক্ষায় ফরম পূরণকে সামনে রেখে হঠাৎ করে গত ২০ মে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জরুরী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দ্বৈতভর্তির ক্ষেত্রে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) অথবা স্নাতক (পাস) কোর্সে যে সকল শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে ২০১৭ সালের ১ম বর্ষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে তাদের প্রত্যেককে ১ম ভর্তি বাতিলের জন্য জরিমানা ১০,০০০/= ও ভর্তি বাতিল ফি ৭০০/- টাকা এবং যে সকল শিক্ষার্থী ২০১৭ সালের ১ম বর্ষে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি তাদের প্রত্যেককে জরিমানা ৭৫০০/= টাকা ও বাতিল ফি ৭০০/= টাকা জমা দিয়ে ১ম ভর্তি বাতিল করতে হবে। অন্যথায় ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে রেজিষ্ট্রেশন কার্ড প্রদান করা হবে না।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১ম বর্ষ ভর্তি নির্দেশিকাতে উল্লেখ আছে একই শিক্ষাবর্ষে কোন প্রার্থী দ্বৈত ভর্তি হলে তার ভর্তি বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা তো একই শিক্ষাবর্ষে দ্বৈত ভর্তি হইনি। আমরা ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছিলাম এবং পরবর্তীতে ২০১৭-১৮ শিক্ষবর্ষে পুনরায় আবেদন করে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভর্তি হয়েছি। তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী আমাদের উপর দ্বৈত ভর্তির জন্য যে জরিমানা আরোপ করা হয়েছে তা অযৌক্তিক। তাছাড়া স্ব স্ব কলেজে ভর্তি বাতিলের ফি জমা দিয়ে, ভর্তি বাতিল ফরম পূরণ করে মূল কাজগপত্র উত্তোলন করেছি এবং পরবর্তী সেশনে ভর্তি হয়েছি। তাহলে কেন কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সেই নির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করে ভর্তি বাতিল নিশ্চিত করেনি ? সেই দায় কি শিক্ষার্থীদের ? সুতরাং এই সিদ্ধান্ত কার্যকরী হলে অনেক শিক্ষার্থী জরিমানা টাকা না দিতে পেরে শিক্ষাজীবন থেকে ঝড়ে পড়বে, বাবা-মায়ের স্বপ্ন ও শিক্ষার্থীদের সাধনা অঙ্কুরে বিনষ্ট হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত কার্যকরী দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন সময়ে নামে বেনামে অযৌক্তিকভাবে ফি বৃদ্ধি করে শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে।

এসময় তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় ঘেরাও কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন হাবিবুর রহমান খান, আবু হুরায়রা লিমন, প্রিয়াংকা রায়, সানজিদা আক্তার, পলাশ কান্ত দাস প্রমুখ।

Share





Related News

Comments are Closed