Main Menu

উজাড় হচ্ছে কমলগঞ্জের আদমপুর বনবিট, নিরব কর্তৃপক্ষ

Manual7 Ad Code

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের অধীন আদমপুর বনবিট থেকে প্রতিদিন চুরি হচ্ছে মূল্যবান গাছ গাছালি। অব্যাহত ভাবে গাছ চুরির কারনে বনাঞ্চল প্রায় শূন্য হতে চলেছে। প্রাকৃতিক ও সামাজিক বনায়ন থেকে গাছ পাচারের সাথে বিটে কর্মরত অসাধূ এক কর্মচারীর জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহন করছেন না বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ। রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বন প্রহরী একই এলাকার হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না বলেও শোনা যাচ্ছে।

Manual2 Ad Code

জানা যায়, ১৩ হাজার ৮০ একরের আদমপুর বনবিটে রয়েছে ৩টি বাঁশমহাল। প্রাকৃতিক বনায়ন থেকে শুরু করে রয়েছে সৃজিত এবং সামাজিক বনায়ন। মূল্যবান সেগুন কাঠের স্বর্গরাজ্য বলা হয় আদমপুর বিটকে। যে কারনে গাছ পাচারকারী চক্রের নজর থাকে ওই বিটে। অব্যাহত ভাবে গাছ পাচারের কারনে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অধিকারী আদমপুর বিট তার জৌলুস ধরে রাখতে পারছে না। সৃজিত মূল্যবান সেগুন কাঠের উপর বেশী নজর থাকে পাচারকারীদের। এছাড়া প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে উঠা শাল, গর্জন, কদমও পাচার হয়। বর্তমানে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে গড়ে উঠা আগর, আকাশমনি ও বেনজিয়াম বাগানেই পাচারকারীদের চোখ। নিয়মিত গাছ পাচারের কারনে বৃক্ষ শুন্য হয়ে যাচ্ছে আদমপুর বিট। বিশাল আয়তনের আদমপুর বিটের দায়িত্বে আছেন ৪ জন বনপ্রহরী, ১ জন বাগান মালি, ১ জন বাংলা চকিদার ও ১ জন বিট কর্মকর্তা। গত ১০ দিনে সামাজিক বনায়নের আগর বাগান থেকে প্রায় ১৫টি মূল্যবান আগর গাছ চুরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে আগরসহ মূল্যবান অন্যান্য গাছ পাচারের সাথে জড়িত রয়েছেন ওই বিটে কর্মরত প্রহরী কামাল হোসেন। তার সহযোগীতায় কোন ধরনের বাঁধা ছাড়াই প্রতিদিন পাচার হচ্ছে হাজার হাজার টাকা মূল্যের মূল্যবান বৃক্ষরাজি। বন প্রহরী হলেও কর্মকর্তার মতোই ক্ষমতা প্রয়োগ করেন কামাল হোসেন। ওই বিটে যেই বিট অফিসার হিসেবে যোগদান করেন তাকে ম্যানেজ করে বা ফাঁকি দিয়ে কামাল হোসেন দীর্ঘ দিন যাবত গাছ পাচার করে আসছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা আবু তাহের এর বাড়ী আর কামাল হোসেন এর বাড়ী একই এলাকায়। যে কারণে কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় গাছ পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও কোন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এমনকি কোন তদন্ত পর্যন্ত হয় না। তাই বহাল তবিয়তে কর্মচারী হয়েও কর্মকর্তার মতোই ক্ষমতা খাটাচ্ছে কামাল হোসেন। ২০১৭ সালের আগষ্ট মাসে আদমপুর বিটে কামাল হোসেন যোগদান করার পর স্থানীয় গাছ পাচারকারীদের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেন। ২ মাস পর ডেপুটেশনে তাকে কামারছড়া বিটে পদায়ন করা হয়। সেখানেও তার বিরুদ্ধে গাছ পাচারের ব্যাপক অভিযোগ উঠে। ৩ মাস আবার তাকে আদমপুর বিটে পদায়ন করা হয়।

রাজকান্দি রেঞ্জ অফিসে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, রেঞ্জ কর্মকর্তার কারণে কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে কোন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা আর কামাল হোসেন একই এলাকার যে কারণে কামালের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ উঠলেও রেঞ্জ কর্মকর্তা কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেন না।

Manual8 Ad Code

অভিযুক্ত কামাল হোসেন বলেন, তিনি কোন ধরনের গাছ পাচারের সাথে জড়িত নয়।
রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, কামালের প্রতি তার কোন দুর্বলতা নেই। ডিএফও ব্যবস্থা না নিলে তিনি কিছু করতে পারেন না। আর বিশাল বনে এত স্বল্প জনবল দিয়ে গাছ চুরি রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

Manual2 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code