Main Menu

সিলেটে মা-ছেলে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার নাজমুল ৭ দিনের রিমান্ডে

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট নগরীর মিরাবাজার এলাকার খাঁরপাড়ায় রোকেয়া বেগম (৪০) ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকন (১৬) হত্যার ঘটনায় নাজমুল হাসান (৩৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সিলেট শহরতলীর বটেশ্বর এলাকা থেকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করে ১০দিনের রিমান্ডের আবেদণ করে পুলিশ। শুনানীর পর নাজমুল হাসানের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরু এ রিমান্ড আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌসূলী হিসেবে শুনানি করেন এ্যাডভোকেট জীবন কৃষ্ণ দে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত নাজমুল শাহপরান থানাধীন মুক্তিরচর এলাকার মৃত করিম মেম্বারের ছেলে। নাজমুল আবাসন ব্যবসার সাথে জড়িত। সে ওই জোড়া খুনের সাথে জড়িত বলে বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এবং ঘটনার দিন তার অবস্থান ঘটনাস্থলের আশেপাশেই ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, নিহত রোকেয়ার সাথে নাজমুলের পরিচয় অনেক দিনের। তারা দুজন মিলে একটি বিউটি পার্লার করার কথা ছিল এজন্য রোকেয়ার কাছ থেকে সে টাকাও নিয়েছে।
নিহত রোকেয়া বেগমের ভাই জাকির হোসেন সেদিন জানিয়েছিলেন, রোকেয়া বেগম, তার ছেলে রোকন ও শিশুকন্যা রাইসাকে নিয়ে এক বছর আগে বাসাটি ভাড়া নেন। তাদের সাথে একজন কাজের মেয়ে থাকতো। সর্বশেষ গত শুক্রবার বোনের সাথে কথা হয় জাকিরের। এরপর থেকে রোকেয়ার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। ১ এপ্রিল রোববার সকালে জাকির তাদের খোঁজ নিতে খাঁরপাড়ার বাসায় এসে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর কেউ সাড়া না দেয়ায় তিনি বাড়ির মালিককে খবর দেন। বাড়ির মালিক ঘটনা শুনে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে বাসার ভেতর থেকে মরদেহ দুটি এবং মেয়ে রাইসাকে জীবিত উদ্ধার করে।
কোতোয়ালী থানার সহকারী কমিশনার সাদেক কওসার দস্তগীর বলেন, নিহত রোকেয়ার শিশুকন্যা রাইসা নাজমুলের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেছে। নিহত রোকেয়ার সাথে একটি পার্লার করার কথা ছিল নাজমুলের, এজন্য রোকেয়ার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকাও নেয় সে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রোকেয়ার সাথে আর্থিক লেনদেন ছিলো বলে স্বীকার করে নাজমুল।
প্রাথমিক তদন্তে জোড়া খুনের সাথে নাজমুলের সংশ্লিষ্টতা পেয়েই তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। আটকের পর তাকে আদালতে হাজির করার পর আদালত ৭দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

এদিকে, পুলিশের হাতে আটক যুবকের ছবি দেখেই মা ও একমাত্র ভাইয়ের খুনিকে শনাক্ত করেছে শিশু রাইসা। ঘাতকদের হাতে মা-ভাই হারানো রাইসা পুরুষ দেখলেই ভয় পাচ্ছে; এজন্য আটক যুবককে সরাসরি রাইসার সামনে নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়- শিশু রাইসা আটক যুবককে মা-ভাইয়ের খুনি হিসেবে শনাক্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সে ওই ডাবল মার্ডারের সাথে জড়িত। এছাড়া ঘটনার দিন তার অবস্থান ঘটনাস্থলের আশেপাশেই ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট কোতোয়ালী থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাদেক কাওসার দস্তগীর, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গৌছুল হোসেন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রোকেয়া বেগম।
প্রসঙ্গত, গত রোববার (১ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর খাঁরপাড়ার একটি বাসা থেকে রোকেয়া বেগম (৪০) ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকন (১৬) এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় জীবিত অবস্থায় রোকেয়ার ৫ বছর বয়সী শিশুকন্যা রাইসাকে উদ্ধার করা হয়। তাকে পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed