বিউটি হত্যায় আটক ২
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়নে কিশোরী বিউটি আক্তার হত্যার ঘটনায় দুই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলো- অভিযুক্ত বাবুল মিয়ার খালা জহুর চান বিবি (৬০) ও খালাত বোন ঝুমা আক্তার (২০)। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদেরকে থানায় পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাকির হোসেন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রধান আসামী বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় তার খালা ও খালাত বোনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।
এদিকে, সারাদেশে বিউটির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় বয়ে গেলেও বাস্তবে তেমন আঁচ পড়েনি, নাড়া পড়েনি প্রশাসনেও। হত্যাকাণ্ডের ১২দিন পার হলেও মূল আসামিকে এখনও ধরা হয়নি।
উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় প্রথমে বিউটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়, মামলা করলে তাকে তুলে নিয়ে ফের ধর্ষণের পর পৃথিবী থেকেই নিশ্চিহ্ন করে দেয় স্থানীয় বখাটে যুব্ক বাবুল মিয়া ও তার সহযোগীরা। প্রধান আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় নিহত বিউটির স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ আর হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার নবগঠিত শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মনডোরা গ্রামে মৃত মলাই মিয়র ছেলে বাবুল মিয়া (৩০)। এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত বাবুল বিবাহিত যুবক। তার দুই সন্তান রয়েছে। বেকার বাবুল এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। একাধিক নারীর সঙ্গে গোপন সম্পর্ক স্থাপনের পর ব্ল্যাকমেইল করে নানা ধরণের অত্যাচার করত সে। এছাড়া রাস্তাঘাটে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করারও অনেক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সর্বশেষ গত ২১ জানুয়ারি একই গ্রামের বিউটি আক্তারকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বাবুল মিয়াসহ তার লোকজন। তাকে অপহরণ করে বিভিন্ন স্থানে রেখে ধর্ষণ করে বাবুল। এ ঘটনার প্রায় ১ মাস পর বাবুল মিয়া কৌশলে বিউটিকে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় পয়লা মার্চ বিউটি আক্তারের বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা ব্রাহ্মনডোরা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কলমচানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

এতে বাবুল আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। প্রতিশোধ হিসেবে ১৬ মার্চ বিউটিকে তার নানার বাড়ি উপজেলার গুনিপুর গ্রাম থেকে রাতের আঁধারে জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ হাওরে ফেলে দেয়। পরদিন ১৭ মার্চ সকালে শায়েস্তাগঞ্জ পুরাইকলা বাজার সংলগ্ন হাওর থেকে বিউটির ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। হাওরে পড়ে থাকা সেই লাশের ছবিই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
এদিকে, বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবা বাদী হয়ে ফের বাবুল মিয়াসহ ২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ২১ মার্চ পুলিশ বাবুলের মা ইউপি সদস্য কলম চান ও সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের ঈসমাইল নামে এক যুবককে আটক করে। কিন্তু প্রধান আসামি বাবুলকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এ ব্যাপারে নিহত বিউটির বাবা সায়েদ আলী জানান, বখাটে বাবুলের কারণে শুধু আমার মেয়ে নয়, এলাকার অনেক কন্যাই লাঞ্ছিত ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তার মেয়ে বিউটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলা করায় বাদী পক্ষের অব্যাহত হুমকি ধামকির কারণে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান বিউটির বাবা। রাস্তাঘাটে প্রায় সময়ই তাকেও হত্যার হুমকি দেয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
নিহত বিউটি আক্তারের মা হুসনে আরা বলেন, বখাটে বাবুলের অত্যাচারে আমার মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ করে ঘরে বন্দি অবস্থায় রেখেও রেহাই পাইনি। বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে বাবুল তার অজান্তে স্থানীয় এক কিশোরীর মাধ্যমে বিউটির খবরাখবর রেখেছে। যখনই প্রতিবাদ করা হচ্ছে তখনই উল্টো তাদেরকে হয়রানি করা হতো।
তিনি বলেন, বাবুল এলাকার উঠতি বয়সের কিশোরীদের রাস্তাঘাটে পেলেই বিভিন্ন ভাষায় উত্ত্যক্ত করতো। কখনো কখনো গায়ে পর্যন্ত হাত দিয়ে যৌন হয়রানি করত। প্রভাবশালী হওয়ায় নিরীহ লোকজন কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।
গ্রামের বাসিন্দা তাউছ মিয়া জানান, বখাটে বাবুলের অপকর্মের কারণে গ্রামের নিরীহ নারীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রায়ই সে বিভিন্ন জায়গা থেকে নারীদের নিয়ে এসে আড্ডার নামে অসামাজিক কার্যকলাপ করত।
ব্রাহ্মনডোরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জজ মিয়া জানান, স্কুলছাত্রী বিউটি হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় আমরাও হতাশ। বাবুল স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান জানান, বিউটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূলহোতা বাবুলের মা ইউপি সদস্য কলম চাঁন ও ঈসমাইল নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়াও দ্রুতই প্রধান আসামি বাবুলকে গ্রেফতার করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
Related News
হবিগঞ্জে পিকআপ-কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে, নিহত ১
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুরে মিনি পিকআপ ও কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোহাম্মদRead More
হবিগঞ্জে আইফোন ছিনিয়ে নিতে বন্ধুকে হত্যার অভিযোগ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় আইফোন মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার লোভে বন্ধুকে গলা কেটে হত্যারRead More



Comments are Closed